সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো: ৮ জানুয়ারি খড়গপুরে এক ভাড়া বাড়িতে শ্রীনু নায়ডুকে হত্যার ছক চূড়ান্ত করেছিল খুনিরা৷ সেই বৈঠকে ছিল ঝাড়খণ্ডের চার সুপারি কিলারও৷ ছিল শ্রীনু ঘনিষ্ঠ শংকর রাও ও ঘরের ভাড়াটিয়া ফ্রান্সিস৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুদের কারবারি পরিচয় দিয়ে সাত-আটমাস আগে রেল শহর খড়গপুরে ঘর ভাড়া নেয় ফ্রান্সিস৷ সুদের কারবার থাকলেও ফ্রান্সিসের আসল কাজ ছিল ‘অপারেশন শ্রীনু’৷ রাজ্যের বাইরের এক বড় মাথার নির্দেশেই শ্রীনুকে খতম করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ৷ সেই জন্যই তার রেল শহরে পা রাখা বলে পুলিশি জেরায় স্বীকার করে নিয়েছে ফ্রান্সিস৷ পুলিশি জেরায় শ্রীনুর এই তথ্য হাতে আসার পরই নড়েচড়ে বসেছেন পশ্চিম মেদিনীপুর পুলিশের শীর্ষকর্তারা৷ অন্যদিকে আদালতের নির্দেশে পুলিশ হেফাজতে থাকা শ্রীনুর অন্যতম সহযোগী শংকর রাওকে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে এই খুনের প্রথম প্লট তৈরি হয়েছিল দক্ষিণ ভারতের ভাইজাগে৷ সেই বৈঠকে ফ্রান্সিস, ছাড়াও ছিল এই খুনের মূল চক্রান্তকারী সেই বড় মাথাও৷ এমনটাই জানা গিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর পুলিশের৷
(হাওড়ার শালিমারে বসে শ্রীনু খুনের ছক ‘শিষ্য’র)
শ্রীনু নায়ডু খুনের ঘটনায় এখনও অবধি পুলিশের জালে ধরা পড়ল মোট আটজন৷ এদিন ভোরে ফ্রান্সিসকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ এখনও চারজন পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে জানা গিয়েছে৷ তাদের সন্ধানেও তল্লাশি শুরু হয়েছে৷ ভিনরাজ্যেও পাড়ি দিয়েছে পুলিশের টিম৷ বাকিদের তল্লাশির পাশাপাশি এই খুনের পিছনে জড়িত সেই বড় মাথার বিরুদ্ধেও তথ্যপ্রমাণ জোগাড়ের কাজ করছে পুলিশ৷ বড় মাথার গতিবিধিও প্রতিদিন নজরে রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে৷ সেই তদন্ত ক্রমেই এগোচ্ছে মালঞ্চের দিকেই৷ তার অন্যতম কারণ খুনের ধরন৷ যেভাবে দিনের বেলায় ফিল্মি কায়দায় শ্রীনুকে খুন করা হয়েছে, সেরকম নজির আগেও দেখেছে রেল শহর খড়গপুর৷ কী সেই ছক? পুলিশের সূত্র বলছে, দিনের বেলায় সশস্ত্র হামলা চালানো৷ টার্গেটকে প্রতিরোধ বা পালানোর কোনও সুযোগ না দেওয়া৷ কোনওভাবে যেন টার্গেট বেঁচে না যায়, সেটা নিশ্চিত করতে নিখুঁত নিশানায় গুলি চালানো৷ সেই মাথার খোঁজ করতে গিয়ে এখন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ পুরনো খুনের দস্তাবেজ ঘাঁটতে শুরু করেছে৷ তাতে দেখা গিয়েছে, আগের কয়েকটি খুনের স্টাইল প্রায় হুবহু মিলে যাচ্ছে শ্রীনু খুনের সঙ্গে৷
(ঘনিষ্ঠরাই সুপারি কিলার দিয়ে খুন করিয়েছে শ্রীনুকে!)
১৯৯৯ সালের ২৭ জুন খুন হন প্রাক্তন সিপিআই সাংসদ নারায়ণ চৌবের ছোট ছেলে মানস চৌবে৷ বেলা ১১টা নাগাদ ফটকবাজারে পানের দোকানে ভরা বাজারের মধ্যে গুলি করে তাকে খুন করা হয়৷ তার দু’বছর পর ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর খুন হন মানসবাবুর দাদা গৌতম চৌবে৷ রাত সাড়ে আটটা নাগাদ খড়গপুরের মালঞ্চ এলাকায় ডেকে পাঠানো হয় তাঁকে৷ সেখানেই ২২টি গুলি চালিয়ে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়৷ এক্ষেত্রেও জনবহুল এলাকায় খুন করা হয়৷
সর্বশেষ খবর
-
সন্তানের কান্নায় অতিষ্ঠ, ধারালো অস্ত্রের কোপে ৬ মাসের শিশুকন্যাকে গলা কেটে খুন মা’র!
-
মেট্রোপলিটান এলাকার বেআইনি নির্মাণে নজর, উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের তলব হাই কোর্টের
-
নিজেই নিজেকে গুনবেন! রাজ্যে স্ব-গণনায় বিশেষ পোর্টাল খুলে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের
-
বাম আমলে ‘খুন’, প্রতিজ্ঞা পূরণ করে ৩৪ বছর পর বিজেপিকর্মী বাবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করলেন ছেলেরা
-
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে লজ্জার হারে অভিযান শুরু অধিনায়ক শ্রেয়সের, বৈভবকে না খেলিয়েই ভুগল ভারত!