Haringhata

গায়ের রং কালো! গঞ্জনা শুনে হরিণঘাটায় ‘আত্মঘাতী’ স্ত্রী, সহমরণে স্বামী!

দু'টি ঘর থেকে উদ্ধার দম্পতির দেহ। মৃতার বাপের বাড়ির অভিযোগ, খুন করা হয়েছে তাঁদের মেয়েকে। শ্বশুর, শাশুড়ি ও দুই ননদের ফাঁসির দাবিতে সরব তাঁরা।

সুবীর দাস
সুবীর দাস

শেষ আপডেট: মে ২৭, ২০২৬, ২৩:৪২

options
link
গায়ের রং কালো! গঞ্জনা শুনে হরিণঘাটায় ‘আত্মঘাতী’ স্ত্রী, সহমরণে স্বামী!
হরিণঘাটায় 'আত্মঘাতী' দম্পতি

দেখেশুনে বিয়ে। ২৬ দিন পেরতে না পেরতেই শুরু অশান্তি। নববধূ নাকি কালো, তা নিয়ে যত গণ্ডগোল। মাঝে মিটমাটও হয়ে যায়। আট মাস পর ভয়ংকর পরিণতি। দু’টি ঘর থেকে উদ্ধার দম্পতির দেহ। মৃতার বাপের বাড়ির অভিযোগ, খুন করা হয়েছে তাঁদের মেয়েকে। শ্বশুর, শাশুড়ি ও দুই ননদের ফাঁসির দাবিতে সরব তাঁরা।

Advertisement

ঘটনাটি নদিয়ার হরিণঘাটা থানার নগরউখড়া নিমতলা এলাকা। ওই এলাকার বাসিন্দা অর্ণব সরকারের সঙ্গে সম্বন্ধ করে বিয়ে মীরার। তাঁর বাবার দাবি, প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার সোনার গয়না দিয়ে মেয়েকে বিয়ে দেন। বাবার অভিযোগ, “বিয়ের ২৬ দিন পর থেকে মেয়েকে শ্বশুর, শাশুড়ি, স্বামী বলত গায়ের রং কালো। তাই পছন্দ নয়। শ্বশুর, শাশুড়ি, বর মিলে মারধর করত। মাঝে আটকে রেখেছিল একদিন। অঞ্চল প্রধানের ফোনে ওকে ছাড়া হয়। তারপর আলোচনা করে শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে পাঠাই মেয়েকে।” মঙ্গলবার রাতের দিকে অর্ণবের বাবার একটি ফোন পান তিনি। তিনি জানান, মীরা ও অর্ণব নাকি দরজা খুলছে না। ফোন পাওয়ামাত্রই মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে দৌড়ে যান। দেখেন দরজা ভাঙার চেষ্টা চলছে।

Advertisement

ভিতরে ঢুকে দেখেন সব শেষ। একঘরে ঝুলছেন মেয়ে মীরা। পাশের ঘরে অর্ণবের ঝুলন্ত দেহও দেখতে পান তিনি। ঘরের কাছে বটি, কাটারির মতো ধারালো সামগ্রী পড়ে থাকতেও দেখেন মীরার বাবা। দু’জনকে উদ্ধার করে হরিণঘাটা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে জানান। মৃতার বাবার দাবি, “শ্বশুর-শাশুড়ি মীরা খুন করে ঝুলিয়ে দেয়। দরজা বন্ধ করে চলে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে গলায় দড়ি দিয়েছে অর্ণব।” যদিও অর্ণবের জামাইবাবুর দাবি, শাশুড়ি তাঁর বাড়িতেই ছিলেন। অর্ণব কিংবা মীরা কেন এমন চরম সিদ্ধান্ত নিল – সে বিষয়ে কিছুই জানা নেই। পরিবারের তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.