CPM

‘ককরোচ’-সহ পড়ুয়াদের আন্দোলনই ‘টার্নিং পয়েন্ট’, সিপিএমের প্লেনামে নতুন পথের হদিশ

যাদবপুর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মহম্মদ সেলিম।

বুদ্ধদেব সেনগুপ্ত
বুদ্ধদেব সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ২৩:১১

options
link
‘ককরোচ’-সহ পড়ুয়াদের আন্দোলনই ‘টার্নিং পয়েন্ট’, সিপিএমের প্লেনামে নতুন পথের হদিশ
দেশজুড়ে ককরোচ ও বাম ছাত্র সংগঠনের আন্দোলনের হাত ধরে নতুন পথ খুঁজছে সিপিএম!

জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি রাজ্য রাজনীতির চরিত্রগত পরিবর্তন ঘটেছে। আর এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আগামী দিনে পার্টির পথের দিশা কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা করতে শনিবার থেকে কল্যাণীতে শুরু হচ্ছে সিপিএমের সাংগঠনিক প্লেনাম বা বর্ধিত অধিবেশন। শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া ছাত্র আন্দোলনকে হাতিয়ার করে এগোনোর পথ খুঁজছে সিপিএম। মোদি-বিরোধিতায় এনিয়ে লড়াইয়ের রূপরেখা স্থির হতে পারে প্লেনামে। এ প্রসঙ্গে শুক্রবার সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানান, গোটা দেশজুড়ে দখলদারির রাজনৈতিক করছে বিজেপি। তারই অনুকরণে ‘বাধ্য’ বিরোধী দল তৈরি করা হয়েছে। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির মতে, দেশজুড়ে যে ঘটনাবলি বেশ কিছুদিন ধরে দেখা যাচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে নরেন্দ্র মোদির বিদায়ের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে।

Advertisement

সিপিএম সাধারণ সম্পাদকের মতে, বিহারের বাঁকিপুরের উপনির্বাচন, দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যে ছাত্র আন্দোলনের ফলে জাতীয় রাজনীতি ‘টার্নিং পয়েন্টে’ এসে দাঁড়িয়েছে।উল্লেখ না করলেও তাঁর কথায় স্পষ্ট, ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন এবং তার সঙ্গে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির জুড়ে যাওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থায় যে প্রভাব পড়েছে, তাকেই ইঙ্গিত করেছেন বেবি।

বিধানসভা নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে সিপিএমের দুদিনের বর্ধিত রাজ্য কমিটির বৈঠক। রাজ্য কমিটির সদস্যরা ছাড়াও বৈঠকে হাজির থাকবেন জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও গণসংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব। সিপিএম সাধারণ সম্পাদকের মতে, বিহারের বাঁকিপুরের উপনির্বাচন, দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যে ছাত্র আন্দোলনের ফলে জাতীয় রাজনীতি ‘টার্নিং পয়েন্টে’ এসে দাঁড়িয়েছে।উল্লেখ না করলেও তাঁর কথায় স্পষ্ট, ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন এবং তার সঙ্গে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির জুড়ে যাওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থায় যে প্রভাব পড়েছে, তাকেই ইঙ্গিত করেছেন বেবি।

Advertisement

তাঁর আরও বক্তব্য, ইন্ডিয়া জোট তৈরির যে প্রক্রিয়া গত লোকসভা নির্বাচনের আগে শুরু হয়েছিল, তা এখনও অব্যাহত। সাময়িক কিছু সমস্যা হলেও আগামী নির্বাচনে ৪০০-এর বেশি আসনে যাতে বিজেপির বিরুদ্ধে একজন প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হয়, সেই চেষ্টা চলছে। পার্টি মনে করছে ‘একের বিরুদ্ধে এক’ প্রার্থী থাকলে বিজেপিকে হারানো সম্ভব। বাকি আসনে বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই হতেই পারে। বিজেপি বিরোধী সমস্ত দলকে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হবে। ‘এক দেশ এক ভোট’ হলে ইন্ডিয়ায় জোট ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিরোধিতা করবে বলে জানান বেবি। উল্লেখ্য, ‘একের বিরুদ্ধে এক’ প্রার্থীর এই ফর্মুলা প্রথম বলেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কি তাঁকেই এখন অনুসরণ করছে সিপিএম?

Advertisement

সেলিম জানান, ২০২৫ সালে পার্টি রাজ্য সম্মেলনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত কতখানি কার্যকর হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে আর কী কী প্রয়োজন, তারই পরিকল্পনা করা হবে এই বর্ধিত অধিবেশনে। তাঁর মতে, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। তৃণমূলের মতই বিজেপিও রাজ্য রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। সেই জন্য ‘বাধ্য’ বিরোধী তৈরি করার পাশাপাশি কেন্দ্রগুলোর উপর আক্রমণ নেমে আসছে।

যাদবপুর প্রসঙ্গে সেলিম ছিলেন আক্রমণাত্মক। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে পালটা হুমকির সুরে তিনি জানান, ‘‘বেশি কিষাণজি কিষাণজি করবেন না। শিল্প তাড়াতে নন্দীগ্রামে যখন বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়েছিল, তখন কিষাণজির সাহায্য নিয়েছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময়কার তাঁদের দুজনের মধ্যে ফোনের কথোপকথন এখনও পার্টির হাতে রয়েছে।”

এদিন যাদবপুর প্রসঙ্গে সেলিম ছিলেন আক্রমণাত্মক। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে পালটা হুমকির সুরে তিনি জানান, ‘‘বেশি কিষাণজি কিষাণজি করবেন না। শিল্প তাড়াতে নন্দীগ্রামে যখন বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়েছিল, তখন কিষাণজির সাহায্য নিয়েছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময়কার তাঁদের দুজনের মধ্যে ফোনের কথোপকথন এখনও পার্টির হাতে রয়েছে।” প্রয়োজনে সেই কথোপকথনের অডিও টেপ প্রকাশ করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন সেলিম।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.