৩ মোর্চা সমর্থকের মৃত্যুর দাবিতে ধোঁয়াশা

গুরুতর আহত আধা সেনা অফিসার।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১৭, ২০১৭, ১২:৩১

options
link
৩ মোর্চা সমর্থকের মৃত্যুর দাবিতে ধোঁয়াশা

তরুণকান্তি দাস ও ব্রতীন দাস: গুলি, খুকরি, যথেচ্ছ ইটবৃষ্টি। ফলশ্রুতি, একই দিনে বেনজিরভাবে ৩ জনের মৃত্যু। মোর্চার ডাকা বনধের ষষ্ঠ দিনে উত্তেজনার পাহাড়ে দার্জিলিং। মোর্চার সশস্ত্র সমর্থকদের হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন আইআরবির অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডান্ট। যা নিয়ে তুমুল বিভ্রান্তি ছড়ায়। প্রথমে আধা সেনা অফিসারের মৃত্যু হয়েছে জানা গেলেও, পরে প্রশাসন জানায় ওই অাধিকারিকের অবস্থা গুরুতর। মোর্চা পাল্টা ছবি দেখিয়ে দাবি করে তাদের এক সমর্থক পুলিশের গুলিতে মারা গিয়েছে। এর কিছু পরই মোর্চা নেতৃত্ব আরও দুই সমর্থকের  মৃত্যুর দাবি জানায়। প্রশাসনের পাল্টা বক্তব্য, পুলিশ কোনও গুলি চালায়নি। অশান্তির যাবতীয় দায় মোর্চার। এমনকী হাসপাতাল থেকেও মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়নি। মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও, বিমল গুরুংয়ের দল মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে।

Advertisement

Advertisement

বিমল গুরুংয়ের ডেরা পাতলেবাসে পুলিশ-সেনার অভিযানের পর থেকে আন্দোলন আরও হিংসাত্মক করেছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই পুলিশ, সেনা ও সরকারি অফিসগুলি হয়ে ওঠে মোর্চার নিশানা। গুরুং অনুগামীদের মারমুখী মেজাজ জারি ছিল শুক্রবারও। এদিন দুপুরে মোর্চার একটি ছবি পাহাড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। অশান্তির মূল কেন্দ্র ছিল সিংমারি। মোর্চার প্রধান কার্যালয়ের সামনে পুলিশ ও সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় মোর্চা সমর্থকরা। পুলিশ সূত্রে খবর, গণ্ডগোল চলাকালীন পিছনে পড়ে যান আইআরবির অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডান্ট কিরণ তামাং। তাঁকে খুকরি দিয়ে কোপানো হয়। মেরুদণ্ডে ওই অফিসারের প্রচণ্ড আঘাত লাগে। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দ্রুত তাঁকে শিলিগুড়িতে পাঠানো হয়। ওই শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। বেলার দিকে ওই অফিসারের মৃ্ত্যু হয় বলে জানা গিয়েছিল। যা নিয়ে বিভ্রান্তি বাড়ে। পরে  এই নিয়ে ব্যাখ্যা দেন পাহাড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনের কাছে প্রথমে খবর এসেছিল কিরণ তামাংয়ের মৃত্যু হয়েছে। যে কথা রাজ্যকে জানানো হয়েছিল। পরে জানা যায় ওই অফিসারের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

Advertisement

আধা সেনা অফিসারের মৃত্যুর এই ঘটনার কিছু আগেই মোর্চার পাঠানো একটি ছবি ঘিরে তরজা শুরু হয়। মোর্চা নেতৃত্ব একটি ছবি দেখিয়ে দাবি করে পুলিশের গুলিতে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সিংমারি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় মোর্চা সমর্থকরা। মোর্চা নেতা বিমল তামাংয়ের দাবি এই সময় পুলিশের গুলিতে ওই সমর্থক জখম হন। লেবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ সমর্থকের মৃত্যু হয়। এই বক্তব্যের কিছু পরেই মোর্চা ফের আরও দুই সমর্থকের মৃ্ত্যুর দাবি জানায়। এক্ষেত্রেও তারা পুলিশের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। মোর্চা নেতৃত্ব জানায় মৃতদের নাম বিমল শশাঙ্কর, সুনীল ওরফে অনিল রাই এবং মহেশ গুরুং। এদের বাড়ি বিজনবাড়ির পুলবাজারে। মোর্চার গুলি চালানোর অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পুলিশ গুলি চালায়নি। একধাপ এগিয়ে এডিজি আইনশৃঙ্খলা অনুজ শর্মার বক্তব্য, মোর্চা গুলি, বোমা, ঢিল ছুড়েছে। এতে কয়েকজন পুলিশকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের কয়েকজন কর্মীও জখম হয়েছেন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.