Bankura

মিশর-কাজাখস্তানের ঈগল বাঁকুড়ার জঙ্গলে! পাখি দেখতে ভিড় উৎসুকদের

পাখিটির পালক বাদামী-ধূসর, চোখে গভীর সোনালি আভা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ১৮, ২০২৫, ১৩:১০

options
link
মিশর-কাজাখস্তানের ঈগল বাঁকুড়ার জঙ্গলে! পাখি দেখতে ভিড় উৎসুকদের
সুদূর রাশিয়া, মঙ্গোলিয়া কিংবা কাজাখস্তান থেকে উড়ে আসা ঈগল।

টিটুন মল্লিক, বাঁকুড়া: ধীরে ধীরে বঙ্গে নামছে পারদ। ফিরছে ঠান্ডার আমেজ। আর শীত পড়তেই পরিযায়ী পাখিদের ঠিকানা হয়ে ওঠে বিভিন্ন জলাশয়। বিশেষ করে বাগনান, উলুবেড়িয়ার মতো জায়গায় বিশাল জলাশয়গুলিতে দেখা মেলে বিভিন্ন বিদেশি পাখির। তেমনই এদিন সকালে একটি বিশাল পাখিকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে বাঁকুড়ায়।

Advertisement

সোনামুখী নিত্যানন্দপুর জঙ্গল! দামোদর নদীর ধারে শীতের হালকা কুয়াশা ভেসে যাচ্ছে। হঠাৎ করেই মঙ্গলবার সকালে বনকর্মী শেখ সারি এবং তাঁর সহকর্মীরা লক্ষ্য করেন, নদীর ধারে একটি বিশাল পাখি বসে রয়েছে। প্রথমে বুঝতে না পারলেও, পরে বনকর্মীরা বুঝতে পারেন, সেটি বিরল প্রজাতির একটি ঈগল। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সুদূর রাশিয়া, মঙ্গোলিয়া কিংবা কাজাখস্তান থেকে উড়ে আসতে পারে।

Advertisement

বন আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পাখিটি স্টেপ ঈগল (Aquila nipalensis)। ডানা বিস্তৃত করলে প্রায় ২ মিটার। পাখিটির পালক বাদামী-ধূসর, চোখে গভীর সোনালি আভা, শক্তপায়ী লম্বা টঙ। আধিকারিকদের কথায়, দীর্ঘ পথ উড়ে আসায় পাখিটি কিছুটা অসুস্থ। সেই কারণে চলতে ফিরতে পারছে না। ইতিমধ্যে সেটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

Advertisement

ডিএফও (ডিপুটি ফোরেস্ট অফিসার) জানিয়েছেন, “আইইউসিএনের তালিকায় এটি Endangered, অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী সংকটাপন্ন। একেবারেই বিরল প্রজাতির।” যদিও পাখিটি দুর্বল অবস্থায় ছিল, তাই দ্রুত উদ্ধার করা হয় বলে জানান ডিএফও।

পাখিটিকে উদ্ধার করে বাঁকুড়া চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ”আমাদের বনাঞ্চল এই সমস্ত শীতকালীন পরিযায়ী পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়। মূলত মিশর ও কাজাখস্তানের জাতীয় পাখি হলেও শীতকালে এটি রাশিয়া, মঙ্গোলিয়া ও কাজাখস্তান থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ভারতে আসে।” অন্যদিকে

বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগের বন কর্তা শেখ ফরিদ যোগ করেন, “স্টেপ ঈগল শুধু বিরল নয়, এই পাখি ঘিরে ইতিমধ্যে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে কৌতূহল এবং সচেতনতা জাগিয়েছে। আমরা চাই, স্থানীয়রাও এই প্রজাতি সংরক্ষণে সহযোগিতা করবে।” অন্যদিকে বিশাল আকারের একটি পাখি উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মধ্যে তা দেখার জন্য কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন তা দেখার জন্য। স্থানীয় বাসিন্দা হরিদাস মণ্ডল বলেন, “মিশরের জাতীয় পাখি! আমাদের বাঁকুড়ার বনেই এভাবে দেখা মিলল, এটা সত্যিই আশ্চর্যজনক।” জানা গিয়েছে, পাখিটিকে উদ্ধার করে আপাতত বাঁকুড়া চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.