Sikkim Earthquake

ফেব্রুয়ারিতে পঞ্চাশের বেশি কম্পন সিকিম ও দার্জিলিংয়ে! ভয় বাড়ছে ভ্রমণপিপাসুদের

এমনিতেই পূর্ব সিকিমে ভারী তুষারপাতের জেরে শেরাথাং ও ছাঙ্গু হ্রদের আশেপাশে আটকে মঙ্গলবার গ্যাংটকে ফিরেছেন প্রায় তিনি হাজার পর্যটক। ওই আতঙ্কের রেশ না-কাটতে ভূমিকম্পের ধাক্কা!

Advertisement
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ২০:৫৫

options
link
ফেব্রুয়ারিতে পঞ্চাশের বেশি কম্পন সিকিম ও দার্জিলিংয়ে! ভয় বাড়ছে ভ্রমণপিপাসুদের

ফেব্রুয়ারির ২৬ দিনে পঞ্চাশবারের বেশি কেঁপে উঠল সিকিম ও দার্জিলিং পাহাড়। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি এবং ইউনাইটেড স্টেট জিওলজিকাল সার্ভের গবেষণা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক দশকে এখানে চারশোর বেশি ভূমিকম্প হয়েছে। বছরে গড়ে ৪৩ এবং মাসে ৩ বার এখানকার মাটি কেঁপেছে। এবার ফেব্রুয়ারিতে সেই রেকর্ড ভাঙতে দেখে আতঙ্কের ছায়া পর্যটন শিল্পে। প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (বিআইএস) সমীক্ষা রিপোর্ট সত্যি হতে চলেছে! বিআইএস দেশের নতুন আপডেট সিসমিক জোনেশন ম্যাপে দার্জিলিং থেকে সিকিম পুরো হিমালয় অঞ্চলকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জোন সিক্স-এ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এখানে রিখটার স্কেলে ৮ থেকে ১০ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

Advertisement

গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে সাড়ে চার ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ১৩ বার ছোট-বড় কম্পন রেকর্ড হয়েছে সিকিমে। কম্পন অনুভূত হয়েছে শিলিগুড়ি-সহ উত্তরের বিভিন্ন এলাকায়। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি-র তথ্য অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল গিয়ালশিংয়ের ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৪.৫৷ এর আগে এবং পরেও মৃদু ও মাঝারি ভূমিকম্প হয়েছে সোরেং ও গিয়ালশিং এলাকায়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৯ থেকে ৪.৬। পরপর ঘটনায় দেখা যাচ্ছে গিয়ালশিং, ইউকসোম এবং রাবাংলা এলাকা ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু। বৃহস্পতিবার সকালে যে কম্পন অনুভূত হয়েছে সেটারও উৎসস্থল ছিল সিকিমের গিয়ালশিং এলাকা। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের উৎস ছিল বলে জানা গিয়েছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৬। সিকিমের পাশাপাশি এদিন দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়িতে কম্পন অনুভূত হয়েছে। মূল কম্পনের পর পাঁচবার আফটারশক অনুভূত হয়েছে সিকিম ও দার্জিলিং পাহাড়ে। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

উত্তর, পূর্ব সিকিম এবং সান্দাকফুতে তুষারপাতের ফলে এখন পর্যটকের ভিড় পাহাড়ে। বারবার কম্পনে রীতিমতো আতঙ্কে পর্যটকরা। তাদের আশ্বস্ত করতে কালঘাম ছুটেছে ট্যুর অপারেটর, হোটেল কর্তৃপক্ষ এবং গাড়ি চালকদের। এমনিতেই পূর্ব সিকিমে ভারী তুষারপাতের জেরে শেরাথাং ও ছাঙ্গু হ্রদের আশেপাশে আটকে মঙ্গলবার গ্যাংটকে ফিরেছেন প্রায় তিনি হাজার পর্যটক। ওই আতঙ্কের রেশ না-কাটতে ভূমিকম্পের ধাক্কা! রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু বলেন, “ধারাবাহিক ভূমিকম্পের ঘটনা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করবে। প্রভাবিত হবে সামগ্রিকভাবে পর্যটন শিল্প।” কিন্তু কেন এমন পরিস্থিতি? চোপড়া কলেজের অধ্যক্ষ তথা ভূগোলের গবেষক মধুসূদন কর্মকার বলেন, “এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কারণ, পুরো হিমালয় অঞ্চল ভূমিকম্পের সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জোন সিক্স-এ রয়েছে। হিমালয় ও তার পাদদেশ ইন্ডিয়ান প্লেটের উপর রয়েছে। এর ঠিক বিপরীতে রয়েছে ইউরেশিয়ান প্লেট। প্রতি বছর ইন্ডিয়ান প্লেট পাঁচ সেন্টিমিটার করে উত্তরে ইউরেশিয়ান প্লেটকে ঠেলছে। ওই ধাক্কার ফলে বিপদ ঘনীভূত হচ্ছে৷”

Advertisement

উত্তর, পূর্ব সিকিম এবং সান্দাকফুতে তুষারপাতের ফলে এখন পর্যটকের ভিড় পাহাড়ে। বারবার কম্পনে রীতিমতো আতঙ্কে পর্যটকরা। তাদের আশ্বস্ত করতে কালঘাম ছুটেছে ট্যুর অপারেটর, হোটেল কর্তৃপক্ষ এবং গাড়ি চালকদের। এমনিতেই পূর্ব সিকিমে ভারী তুষারপাতের জেরে শেরাথাং ও ছাঙ্গু হ্রদের আশেপাশে আটকে মঙ্গলবার গ্যাংটকে ফিরেছেন প্রায় তিনি হাজার পর্যটক। ওই আতঙ্কের রেশ না-কাটতে ভূমিকম্পের ধাক্কা!

ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের সমীক্ষায় সম্প্রতি প্রকাশিত দেশের নতুন আপডেট সিসমিক জোনেশন ম্যাপে দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং সিকিমের সমস্ত জেলা-সহ পুরো হিমালয় অঞ্চলকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জোন সিক্স-এ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এখানে রিখটার স্কেলে ৮ থেকে ১০ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৯৬২ সালে প্রথম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা নিয়ে ম্যাপিং করেছিল বিআইএস। মোট পাঁচটি বিভাগে ওই সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই সময় দার্জিলিং থেকে সিকিম সিসমিক জোন ফোর-এ ছিল। অর্থাৎ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু গত বছরের ২৮ নভেম্বর বিআইএস মোট ছয়টি ভাগে ওই সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে দেখা যাচ্ছে হিমালয় ও সংলগ্ন এলাকার পুরোটাই বিপজ্জনক।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.