Tehatta

জলের দরে পেট্রল-ডিজেল! কারণ খুঁজতেই তেহট্টের গোডাউনে হানা দিতেই চমকে উঠল পুলিশ

সোমবার একেবারে নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে তেহট্ট থানার পুলিশ ওই গোপন গোডাউনটি ঘিরে ফেলে। তবে পুলিশের অভিযানের আঁচ পেয়েই আগেভাগে গা ঢাকা দেয় মূল পাণ্ডা বাপন।

রমণী বিশ্বাস
রমণী বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জুন ২৩, ২০২৬, ১৩:২১

options
link
জলের দরে পেট্রল-ডিজেল! কারণ খুঁজতেই তেহট্টের গোডাউনে হানা দিতেই চমকে উঠল পুলিশ
ফাইল ছবি।

হদিশ মিলল ‘ভেজাল’ পেট্রল এবং ডিজেল কারখানার, উদ্ধার বড় ২০ ড্রাম নকল পেট্রোল-ডিজেল। পাম্পের চেয়েও কম দামে কীভাবে এই জ্বালানি মিলছে, তা নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধছিল অনেকের মনেই। অবশেষে সোমবার সেই রহস্যের পর্দা ওঠে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তেহট্টের মালিয়াপোতা এলাকায় একটি অবৈধ নকল পেট্রোল ও ডিজেল তৈরির কারখানায় অতর্কিত হানা দিল তেহট্ট (Tehatta) থানার পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে ২০ ড্রাম ভর্তি রাসায়নিক মিশ্রিত ভেজাল জ্বালানি তেল ও নগদ টাকা। তবে পুলিশের আসার খবর পেয়েই সুকৌশলে চম্পট দিয়েছে মূল অভিযুক্ত।

Advertisement

স্থানীয় পাম্পগুলির তুলনায় এই তেলের দাম বেশ কিছুটা কম হওয়ায় রমরমিয়ে চলত কালোবাজারি। সস্তার চক্করে বহু গাড়িচালক ও ব্যবসায়ী এই তেল কিনতেন বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাপড়া থানার বাঙালঝি এলাকার বাসিন্দা বাপন সেখ নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মালিয়াপোতা এলাকায় এই অবৈধ কারবার চালাচ্ছিল। লোকচক্ষুর আড়ালে একটি গোপন গোডাউন ভাড়া নিয়ে চলছিল এই ‘কাটা’ তেলের কারবার। অভিযোগ, সেখানে সাদা কেরোসিন জাতীয় একধরণের তরল জ্বালানির সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষতিকারক রাসায়নিক ও রঙ মিশিয়ে হুবহু পেট্রল ও ডিজেলের রূপ দেওয়া হতো। তৈরি হওয়া এই মারাত্মক ভেজাল ও বিপজ্জনক জ্বালানি ড্রামবন্দি করে রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন এলাকায় বাজারজাত করা হত। স্থানীয় পাম্পগুলির তুলনায় এই তেলের দাম বেশ কিছুটা কম হওয়ায় রমরমিয়ে চলত কালোবাজারি। সস্তার চক্করে বহু গাড়িচালক ও ব্যবসায়ী এই তেল কিনতেন বলে জানা গিয়েছে। তবে এই ভেজাল তেল ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছিল, তেমনই বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও থেকে যাচ্ছিল।

Advertisement
এমনই একাধিক ড্রাম উদ্ধার হয়েছে ঘটনাস্থল থেকে।

এরপরেই সোমবার একেবারে নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে তেহট্ট থানার পুলিশ ওই গোপন গোডাউনটি ঘিরে ফেলে। তবে পুলিশের অভিযানের আঁচ পেয়েই আগেভাগে গা ঢাকা দেয় মূল পাণ্ডা বাপন সেখ। এরপর পুলিশ গোডাউনের ভেতরে ঢোকে। তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় প্রায় ২০টি ড্রাম ভর্তি নকল পেট্রোল ও ডিজেল। এছাড়া সেখান থেকে নগদ টাকাও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুরো গোডাউনটি আপাতত সিল করে দিয়েছে পুলিশ। এই চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত, এর পেছনে বড় কোনও চক্র কাজ করছে কিনা এবং আর কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি এই বিপজ্জনক নকল জ্বালানি কোথায় কোথায় সরবরাহ করা হত, তার তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে। পলাতক অভিযুক্ত বাপন সেখের খোঁজে জোরদার তল্লাশি শুরু করেছে তেহট্ট থানার পুলিশ।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.