Sisir Adhikari

‘ভুল করে তৃণমূলে, গলবস্ত্র হয়ে ক্ষমা চাইছি’, শিশিরের মন্তব্য ‘নাটুকে সংলাপ’, পালটা কুণালের

শিশিরের এমন মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর কাটাছেঁড়া।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ১৭:৩৫

options
link
‘ভুল করে তৃণমূলে, গলবস্ত্র হয়ে ক্ষমা চাইছি’, শিশিরের মন্তব্য ‘নাটুকে সংলাপ’, পালটা কুণালের

রঞ্জন মহাপাত্র, কাঁথি: বিজেপির যোগদানের মঞ্চ থেকে জনসমক্ষে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তথা কাঁথির প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী জনসমক্ষে ভুল স্বীকার করে, ক্ষমার আর্জি জানালেন জনগণের কাছে। তিনি বলেন, “আমি নিজেও ভুল করেছিলাম। আপনাদেরও ভুল পথে চালিত করেছিলাম। আজ করজোড়ে স্বীকার করে ভরা মঞ্চে ভূমি স্পর্শ করে আপনাদের কাছে সেই ভুল স্বীকার করে নিলাম। আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।” আর এই ক্ষমা স্বীকার করেই তৃণমূলকে বেনজির আক্রমণ করেন তিনি।

Advertisement

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিশির অধিকারী কাঁথির রেললাইন সম্প্রসারণ, এনএইচ ১১৬ বি ওড়িশা পর্যন্ত সম্প্রসারণ, গঙ্গাসাগর অবধি যাওয়ার জন্য সেতু তৈরি-সহ একাধিক প্রজেক্টের কথা তুলে ধরেন। বলেন, “কেন্দ্র সরকারের কাছ থেকে সমস্ত প্রজেক্টের জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রচেষ্টায় কোথাও ২০০ কোটি, কোথাও ১২০০ কোটি, কোথাও ২২ কোটি টাকা এনে দিয়েছি। কিন্তু সেই সব প্রজেক্ট আজ পর্যন্ত বাস্তবায়িত না করার ফলে সেই টাকা ফেরত গিয়েছে। কিন্তু সেই সমস্ত টাকা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় রেখে ওঁরা তার ইন্টারেস্ট খেয়েছেন।”  

Advertisement

উল্লেখ্য, শুক্রবার ভগবানপুর ২ ব্লকের ইঁটাবেড়িয়া এলাকায় বিজেপির তরফ থেকে একটি যোগদান সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে শিশির অধিকারী উপস্থিত ছিলেন। তাঁর হাত থেকে বিজেপির দলীয় পতাকা নিয়ে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন পটাশপুর ২ নম্বর ব্লকের প্রাক্তন শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ ও মথুরা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান অমিত মণ্ডল-সহ প্রায় ৬০ জন তৃণমূল কর্মী। আর এই সভা মঞ্চে তিনি যোগদান পর্ব শেষ করার পরেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে জনসমক্ষে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চান। এবং সঠিক পথে চলার আবেদন জানিয়ে বিজেপির পাশে থাকার আর্জি জানান। 

Advertisement

শিশিরবাবুর এই মন্তব্য নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চলছে জোর আলোচনা। তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এই মন্তব্যের জোরাল সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আপনাকে এবং আপনাদের কতটা আন্তরিকভাবে কাছে টেনে নিয়েছিলেন, নির্ভর করেছিলেন। আপনি নিজেও সাংসদ হয়েছিলেন। আপনাকে কোন পরিস্থিতিতে মন্ত্রী করেছিলেন তা বোধহয় শিশিরদার মতো মানুষ জানান। অভিভাবকোচিত বয়সে বর্ষীয়ান মানুষের সস্তার রাজনীতি করা উচিত হচ্ছে না। কোন বাধ্যবাধকতায় কী করতে হচ্ছে জানি না। এই ধরনের নাটুকে সংলাপ বোধহয় বর্জন করা ভালো।”  

বলে রাখা ভালো, ২০০০ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন শিশির অধিকারী। একসময় পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যাওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে তাঁরও দূরত্ব বাড়ে। অবশেষে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শিশির ও তাঁর পরিবার।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.