Salanpur

কয়লা-বালি বন্ধ হতেই নতুন ‘ধান্দা’, এবার দেদারে জমির জল চুরি সালানপুরে!

কথায় বলে, চোরের চৌষট্টি বুদ্ধি! আর সেই বুদ্ধিরই এক অভিনব ও তাজ্জব নমুনা দেখে চোখ কপালে সালানপুর ব্লকের দেন্দুয়া-কল্যানেশ্বরী শিল্পাঞ্চলের মানুষের। রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নতুন সরকার আসতেই এলাকায় অবৈধ কয়লা, বালি ও পাথরের কারবারে কড়া রাশ পড়েছে।

শেখর চন্দ্র
শেখর চন্দ্র

শেষ আপডেট: জুলাই ৭, ২০২৬, ১৭:৪২

options
link
কয়লা-বালি বন্ধ হতেই নতুন ‘ধান্দা’, এবার দেদারে জমির জল চুরি সালানপুরে!
এভাবেই চলছে জল চুরি।

কথায় বলে, চোরের চৌষট্টি বুদ্ধি! আর সেই বুদ্ধিরই এক অভিনব ও তাজ্জব নমুনা দেখে চোখ কপালে সালানপুর ব্লকের দেন্দুয়া-কল্যানেশ্বরী শিল্পাঞ্চলের মানুষের। রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নতুন সরকার আসতেই এলাকায় অবৈধ কয়লা, বালি ও পাথরের কারবারে কড়া রাশ পড়েছে। আর তাতেই রোজগারের পুরানো পথ বন্ধ হওয়ায় এক শ্রেণির সুযোগসন্ধানী মানুষ খুঁজে বের করেছে চুরির একেবারে নতুন এক পন্থা। এবার খোদ চাষের জমির জল চুরি করে তা চড়া দামে কারখানায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠল। দেন্দুয়া পঞ্চায়েতের নাকড়াজোড়িয়া এলাকায় একটি বড় জলের ট্যাঙ্কার আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সন্দেহ হওয়ায় চালককে জেরা করতেই থমকে যান সকলে।

Advertisement

চালক জানান, কৃষ্ণা বাউরি নামে এক ব্যক্তির নির্দেশে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করছেন। এলাকার চাষের জমিতে বর্ষার যে জল জমা হয়, তা হোস পাইপ দিয়ে পাম্প করে টেনে ট্যাঙ্কারে ভরা হচ্ছিল। তারপর সেই জল চড়া দামে সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছিল স্থানীয় এলাকার বিভিন্ন কারখানায়। স্থানীয়দের দাবি, এই জল চুরির পেছনে রয়েছে এক সুক্ষ্ম কারসাজি। জল যাতে জমি থেকে গড়িয়ে নিচের দিকে বয়ে না যায়, তার জন্য গোপনে আল বেঁধে জল আটকে রাখা হত। এরপর সুযোগ বুঝে পাম্প চালিয়ে প্রতি ট্যাঙ্কার জল ১২০০ টাকা দরে কারখানায় বিক্রি করে দেওয়া হত। অথচ সরকারের ঘরে রাজস্ব জমা পড়ছিল না। 

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

গোপনে আল বেঁধে জল আটকে রাখা হত। এরপর সুযোগ বুঝে পাম্প চালিয়ে প্রতি ট্যাঙ্কার জল ১২০০ টাকা দরে কারখানায় বিক্রি করা হত! অথচ সরকারের ঘরে রাজস্ব জমা পড়ছিল না।

এই অভিনব চুরির জেরে ক্ষোভে ফুঁসছেন নাকড়াজোড়িয়ার বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, এইভাবে জল তুলে নেওয়ার ফলে একদিকে যেমন চাষের জমি শুকিয়ে যাচ্ছে, তেমনই মাটির নিচে জল না পৌঁছানোয় এলাকার জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাচ্ছে। পাশাপাশি, মাঠে চড়তে আসা গবাদি পশুরা জল পাচ্ছে না। ট্যাঙ্কারটি আটক করার পর সেদিনই খবর দেওয়া হয় মালিককে। মালিক ঘটনাস্থলে পৌঁছলে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে গ্রামবাসীরা তাঁকে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখান। শেষমেশ এলাকার নানাবিধ উন্নয়নে আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তার লিখিত আশ্বাস দেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং ট্যাঙ্কারটি ছাড়া পায়।

Advertisement

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে তুমুল রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের কড়া নজরদারির মাঝেও কীভাবে এই জল চুরির কারবার চলছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে, ট্যাঙ্কার চালক যার নির্দেশে কাজ করার কথা স্বীকার করেছেন, সেই কৃষ্ণা বাউরির মাথায় কোন রাজনৈতিক নেতার হাত রয়েছে? তার তদন্তের দাবি উঠেছে। অবৈধ বালি ও কয়লা পাচার রুখলেও, এই নতুন ধরনের জল মাফিয়াদের দাপট নিয়ন্ত্রণ করতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন গ্রামের বাসিন্দারা। প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। 

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.