lightning

বর্ষাতি পরার সময়ই বিপত্তি! বাঁকুড়ায় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন হেলথ অফিসার, রাজ্যে মৃত কমপক্ষে ৫

সোমবার বিকেলে রায়পুর ব্লকের পেচাকলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বেনাশুলি গ্রামে হেলথ অফিসারের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে।

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩, ২০২৬, ২০:৩৯

options
link
বর্ষাতি পরার সময়ই বিপত্তি! বাঁকুড়ায় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন হেলথ অফিসার, রাজ্যে মৃত কমপক্ষে ৫
প্রতীকী ছবি।

বাঁকুড়ায় বজ্রাঘাতে মৃত্যু হল এক কমিউনিটি হেলথ অফিসারের। প্রাণ হারান তাঁর বোনও। সোমবার বিকেলে রায়পুর ব্লকের পেচাকলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বেনাশুলি গ্রামের এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বিষ্ণুপুরের গোপালপুর এলাকায় বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে এক দিনমজুর গৃহবধূর। অন্যদিকে, হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় জমিতে কাজ করার সময় মৃত্যু হয় দুই কৃষকের। আহত হন আরও দু’জন।

Advertisement

সারাদিন রোগীদের সেবা করে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন মণিমালা হাঁসদা (২৭)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছোট বোন খুকুমণি হাঁসদা (২২)। স্থানীয় সূত্রের খবর, মণিমালা সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কমিউনিটি হেলথ অফিসার (সিএইচও) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সোমবার বাড়ি ফেরার সময় আচমকা বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া এড়াতে রাস্তার ধারে একটি ছোট গাছের নিচে দাঁড়িয়ে বর্ষাতি পরার চেষ্টা করেছিলেন দুই বোন। সেই মুহূর্তেই নেমে আসে বজ্রপাত। তাঁদের উদ্ধার করে রায়পুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।

Advertisement

মণিমালার সহকর্মীরা জানান, তিনি অত্যন্ত আন্তরিক ও কর্তব্যনিষ্ঠ ছিলেন। মানুষের সেবা করাই ছিল তাঁর নিত্যদিনের কাজ। সেই কর্মক্ষেত্র থেকে বাড়ি ফেরার পথেই প্রাণ হারাতে হল তাঁকে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শ্যামল সোরেন বলেন, “মণিমালা হাঁসদার অকাল মৃত্যু আমাদের স্বাস্থ্য দপ্তরের অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি একজন নিষ্ঠাবান কমিউনিটি হেলথ অফিসার ছিলেন। একই সঙ্গে তাঁর বোনেরও এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রইল।”

Advertisement

মাঠে ধান রোপণের কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে মৃত্যু হল এক গৃহবধূর। গুরুতর জখম হন আরও দুই মহিলা। সোমবার দুপুরে বিষ্ণুপুরের গোপালপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মৃতার নাম ববিতা লোহার। তাঁর বাড়ি বিষ্ণুপুর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তেজপাল এলাকায়। সোমবার সকালে এলাকার আরও দুই মহিলাকে নিয়ে গোপালপুর সংলগ্ন একটি জমিতে ধান রোপণের কাজে যান ববিতা। দুপুরের দিকে আকাশ কালো করে এলে তাঁরা জমি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় আচমকাই বজ্রপাত হয়। বজ্রাঘাতে তিনজনই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁদের উদ্ধার করে বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা ববিতা লোহারকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, উলুবেড়িয়ায় ধানের জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মৃত্যু হয় দুই কৃষকের। আহত হন আরও দু’জন। সোমবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে জগৎবল্লভপুরের মাজু পঞ্চায়েতের হরিনারায়ণপুর এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতরা হলেন মানবেন্দ্র মণ্ডল (৫০) এবং অনুপ কর (৫০)। তাঁদের উদ্ধার করে জগৎবল্লভপুর ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মাজু পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য তথা বিজেপির শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার কিষান মোর্চার সম্পাদক অশোক সিংহ জানান, “খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। আমরা তাঁদের পাশে আছি।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.