পুলিশে আস্থা নেই, সুস্থ সমাজ গড়তে লাঠি হাতে অভিযানে মহিলারাই

ভয়ে এলাকা ছাড়ল দৃষ্কৃতীরা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০১৮, ২১:৩৩

options
link
পুলিশে আস্থা নেই, সুস্থ সমাজ গড়তে লাঠি হাতে অভিযানে মহিলারাই

দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: চুঁচুড়ায় একের পর এক শুটআউটের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত পালটা লড়াইয়ের পথ বেছে নিলেন সাধারণ মানুষ। পুলিশের উপর আস্থা না রেখে রবিবার দুপুরে লাঠি হাতে দুষ্কৃতীদের ঠেক ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলেন আমজনতাই।

Advertisement

শনিবার রাতে কলকাতা থেকে বাড়ি ফেরার পথে চুঁচুড়ার বসন্ত বাগানে বাড়ির কাছেই দুষ্কৃতীদের গুলিতে গুরুতর জখম হন মহিলা সুপুরি ব্যবসায়ী চায়না শিকদার। তাঁর বুকের পাঁজরে গুলি লাগে। আপাতত আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন চায়না। চুঁচুড়ায় শুটআউটের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার এমন ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন চুঁচুড়াবাসী। অথচ পরিস্থিতি এতটুকু বদলায়নি। উলটে ক্রমশ দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য বেড়ে চলেছে। তাই আতঙ্ক কাটিয়ে এবার সাধারণ মানুষই দুষ্কৃতীদের ডেরায় অভিযান চালাল।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[দেওয়ালে ছড়ায় ছড়ায় ভোটের প্রচার, বিরোধীদের গোল দিচ্ছে তৃণমূলই]

কোদালিয়া ১ নম্বর পঞ্চায়েতের পাশাপাশি বসন্ত বাগান, রবীন্দ্রনগর ও সুকান্তনগর এলাকা। এই তিন এলাকাতেই ক্রমশ দুষ্কৃতীরাজ বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পুলিশকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। শনিবার রাতে বসন্ত বাগান এলাকায় চায়না শিকদার গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আতঙ্ক ছড়ালেও রবিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ক্ষোভও বাড়তে থাকে। তাঁরা পুলিশের উপর আস্থা রাখতে না পেরে সিদ্ধান্ত নেন, নিজেরাই এর প্রতিকার করবেন। এরপরই পুরুষ-মহিলা সকলে মিলে লাঠি হাতে দুষ্কৃতীদের ঠেকে অভিযান চালান। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে দেখে ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালায় দুষ্কৃতীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধে নামলেই এইসব এলাকা দুষ্কৃতীদের দখলে চলে যায়। মদ জুয়ার আসর বসে। আতঙ্কে রাতে তাঁরা ঘুমাতে পারেন না। তাই এমন পদক্ষেপ।

Advertisement

chuchura_web

এদিকে, নিজেদের সংসার বাঁচাতে সুস্থ সমাজ গড়তে পুলিশের উপর ভরসা না রেখে নিজেরাই চোলার মদের ঠেক ভাঙার অভিযানে নামল গোঘাটের প্রমিলাবাহিনী। মাঝে মধ্যেই চোলাই মদের ভাটিতে অতর্কিতে হানা দিয়ে চোলাইয়ের ঠেক ভাঙেন তাঁরা। আর এই অভিযানকে গোঘাটের শুভবুদ্ধি-সম্পন্ন মানুষও সমর্থন জানিয়েছেন। রবিবার ৩৫ থেকে ৪০ জন সদস্যবিশিষ্ট প্রমিলাবাহিনী গোঘাট ২ নম্বর ব্লকের হাজিপুর পঞ্চায়েতে তেহুরিয়া গ্রামে বাড়ি বাড়ি ঢুকে চোলাইয়ের ভাটি ভেঙে গুড়িয়ে দেন। এর আগেও মহিলারা বিজলকোনা, দশঘড়া, অমরপুর-সহ অন্যান্য গ্রামে এই ধরনের অভিযান চালিয়েছেন মহিলারা। বিষবৃক্ষ বড় হওয়ার আগেই তাকে বিনাশ করতে হবে, এই নীতি নিয়েছেন মহিলারা। ফলে বিপাকে পড়েছে চোলাই মদের কারবারীরা।

[প্রার্থী হওয়ায় ক্ষোভ, সিপিএম নেতার ভাইকে গুলি বারুইপুরে]

স্থানীয় বাসিন্দা কল্পনা দাস জানান, এলাকার কিছু মানুষের স্বার্থসিদ্ধির জন্য গোটা গ্রামকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর স্বামী এর আগে তাঁর উপর বহুবার অত্যাচার করেছে। মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে, কেউ প্রতিবাদ করেনি। শনিবারও তাঁর স্বামী মদ খেয়ে এসে তাঁর হাতে কাটারির কোপ দেয়। তারপরই এদিনের অভিযানে শামিল হন কল্পনাদেবী। পাড়ায় মদ্যপদের অত্যাচারে গ্রামের মেয়েরা রাতে রাস্তায় বেরতে পারেন না। পড়াশোনোর পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ। তাই গ্রামে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কলেজ ছাত্রীরাও রাস্তায় নেমেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সমাজের স্বার্থে যে কাজটা পুলিশের করা উচিত, তা তাঁরা করেন না। তাই বাধ্য হয়ে মহিলারাই চোলাই উচ্ছেদ অভিযানে রাস্তায় নেমেছেন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.