Annapurna Bhandar

‘লক্ষ্মী’ থেকে ‘অন্নপূর্ণা’ কারা? আজই শুরু ফর্ম ফিলআপ, এসআইআরে বাদের তালিকা দেখে হিসেব মেলাচ্ছে সরকার

প্রশাসন সূত্রে খবর, আপাতত যে সংখ্যক নাম বাদ পড়ছে, তার নিরিখে সরকারের ১৬৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে চলেছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৭, ২০২৬, ১৪:৩৭

options
link
‘লক্ষ্মী’ থেকে ‘অন্নপূর্ণা’ কারা? আজই শুরু ফর্ম ফিলআপ, এসআইআরে বাদের তালিকা দেখে হিসেব মেলাচ্ছে সরকার
প্রতীকী ছবি।

আজ থেকেই রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকারের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণ যোজনা’র কাজ শুরু হচ্ছে। এদিন বিকেলে নবান্ন থেকে ফর্ম ফিলআপ শুরু হবে। অনলাইন, অফলাইন – দু’ভাবেই মাসে ৩ হাজার টাকা করে পাওয়ার জন্য অন্নপূর্ণ যোজনায় আবেদন করতে পারবেন মহিলারা। তারপর সংশ্লিষ্ট দপ্তর তথ্য যাচাই করে দেখবে, কারা এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, কারা নন। আর এখানেই নিখুঁত হিসেব করাটা মাথাব্যথা সরকারের। তবে যোগ্য-অযোগ্য বাছতে সরকারের হাতিয়ার এসআইআরে নাম বাদের তালিকা। সেই তালিকা দেখে প্রাথমিকভাবে ‘অন্নপূর্ণা’র সুবিধা পাওয়া মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এসআইআরের যাঁদের নাম ওঠেনি, তাঁরা গোড়াতেই বাদ। প্রশাসন সূত্রে খবর, এই সংখ্যা কমবেশি সাড়ে ৫ লক্ষ। যার কারণে প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে চলেছে।

Advertisement

কোন পদ্ধতিতে ‘যোগ্য’ যাচাইয়ের কাজ করলে সুবিধা হবে সরকারের? কাজ নেহাৎ সহজ নয়। এসআইআরে বাদের তালিকা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি খোঁজ নিতে হচ্ছে জেলার ট্রাইব্যুনালগুলোতেও। সেখানে এখনও যাঁদের নাম বিবেচনাধীন, তাঁদের নামগুলিকেও নজরে রাখতে হচ্ছে। এই কাজের সঙ্গে যুক্ত এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আপাতত এসআইআরে বাদ পড়া ৫৮ লক্ষ নামের মধ্যে থেকেই বাদ পড়া মহিলাদের নাম ধরে ধরে যাচাই করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা ছিল মোটামোটি ২৯ লক্ষ। এর মধ্যে থেকে আপাতত কয়েকটি জেলার তথ্য অনুযায়ী, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ থেকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রাপ্তির যোগ্যতার নিরিখে আপাতত ৫ লক্ষ ৫০ হাজার ৫২৮ জনকে বাদের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।

কেন্দ্রের ‘অন্নপূর্ণ যোজনা’র সুবিধা পাওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতামান স্থির করা হয়েছে। সকলেই এর সুবিধা পাবেন না। রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর মহিলাদের মনে তা নিয়ে আশঙ্কা ছিল, তবে কি আর মাসে মাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের দেড় হাজার টাকা করে পাবেন না? তা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার মঙ্গলবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যতদিন ‘অন্নপূর্ণ যোজনা’ চালু না হচ্ছে, ততদিন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ যাঁরা পেতেন, তাঁরা পাবেন। পরে ঝাড়াই-বাছাইয়ের মধ্যে দিয়ে যোগ্যদের দেওয়া হবে মাসে ৩ হাজার টাকা করে। মঙ্গলবার এই ঘোষণার পরপর বুধবার থেকেই নবান্ন থেকে নতুন প্রকল্পের ফর্ম বিলি চালু হবে। একইসঙ্গে শুরু হচ্ছে যোগ্য বাছাইয়ের কাজও।

Advertisement

কোন পদ্ধতিতে সেই কাজ করলে সুবিধা হবে সরকারের? কাজ নেহাৎ সহজ নয়। এসআইআরে বাদের তালিকা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি খোঁজ নিতে হচ্ছে জেলার ট্রাইব্যুনালগুলোতেও। সেখানে এখনও যাঁদের নাম বিবেচনাধীন, তাঁদের নামগুলিকেও নজরে রাখতে হচ্ছে। এই কাজের সঙ্গে যুক্ত এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আপাতত এসআইআরে বাদ পড়া ৫৮ লক্ষ নামের মধ্যে থেকেই বাদ পড়া মহিলাদের নাম ধরে ধরে যাচাই করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা ছিল মোটামোটি ২৯ লক্ষ। এর মধ্যে থেকে আপাতত কয়েকটি জেলার তথ্য অনুযায়ী, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ থেকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রাপ্তির যোগ্যতার নিরিখে আপাতত ৫ লক্ষ ৫০ হাজার ৫২৮ জনকে বাদের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার।

Advertisement

এতদিন ২ কোটির বেশি মহিলা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পেতেন বলে তথ্য দিয়েছিল বিগত রাজ্য সরকার। এখন অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় কতজন আসবেন, সেই হিসেবনিকেশে ব্যস্ত জেলা আধিকারিকরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, নাম, আধার নম্বর, ভোটার কার্ডের তথ্য মিলিয়ে প্রতি জেলায় যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া খতিয়ে দেখা হচ্ছে জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত নির্দিষ্ট পোর্টালটিও। সেখান থেকে মৃত মহিলা উপভোক্তাদের নাম সহজে বাদ দেওয়া যাবে। সবমিলিয়ে, নয়া প্রকল্পের প্রস্তুতি রীতিমতো খড়ের গাদায় সূচ খোঁজার মতো।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.