Howrah

বামনেতাদের সঙ্গে ছবি! শেয়ার ট্রেডিংয়ের নামে ৮০ কোটির ‘প্রতারণা’ করে পলাতক হাওড়ার যুবক

যুবককে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তাঁর বাবা সুরজিৎ কাঁড়ারকে ঘিরে ধরেন তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় শিবপুর থানার পুলিশ। এ দিকে সৌমজিতের সঙ্গে রাজ্য স্তরের বাম নেতাদের সঙ্গে ছবি দেখা গিয়েছে।

অরিজিৎ গুপ্ত
অরিজিৎ গুপ্ত

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৪, ২০২৬, ২১:৫৯

options
link
বামনেতাদের সঙ্গে ছবি! শেয়ার ট্রেডিংয়ের নামে ৮০ কোটির ‘প্রতারণা’ করে পলাতক হাওড়ার যুবক
শুক্রবার অভিযুক্ত যুবকের বাবাকে ঘিরে বিক্ষোভ বিনিয়োগকারীদের। নিজস্ব চিত্র।

শেয়ার ট্রেডিং কোম্পানি খুলে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা! ৪ হাজার বিনিয়োগকারীর থেকে ৮০ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ হাওড়ার (Howrah) যুবকের বিরুদ্ধে। শিবপুরের মন্দিরতলার রামমোহন মুখার্জি লেনের বাসিন্দা সৌম্যজিৎ কাঁড়ার নামে এই অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত এমনকী ভিনরাজ্য থেকেও প্রতারিত ব্যক্তিরা অভিযুক্তের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান। যুবককে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তাঁর বাবা সুরজিৎ কাঁড়ারকে ঘিরে ধরেন তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় শিবপুর থানার পুলিশ। এ দিকে সৌমজিতের সঙ্গে রাজ্য স্তরের বাম নেতাদের সঙ্গে ছবি দেখা গিয়েছে।

Advertisement
Howrah man accused of ₹80-crore fraud appears in photographs with Left Front leaders.
বামনেতার সঙ্গে অভিযুক্ত সৌমজিৎ।

প্রতারিত বিনিয়োগকারীদের থেকে জানা গিয়েছে, আজার ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি কোম্পানিতে বিনিয়োগের লোভ দেখান সৌমজিৎ। সেই সময় কোম্পানির তরফে দাবি করা হয়েছিল, কোম্পানির মাধ্যমে শেয়ার মার্কেটে টাকা রাখলে ২ শতাংশ করে প্রতি মাসে সুদ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি আসলের টাকাটা ঋণ হিসেবে গচ্ছিত থাকবে। সেই ফাঁদে পা দিয়ে অনেকেই সৌম্যজিতের কোম্পানিতে লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন। প্রথমদিকে কয়েকমাস টাকা পেলেও তারপর থেকে আর কেউ টাকা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। দাবি করা হয়েছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে তাঁরা ওই শেয়ার ট্রেডিং কোম্পানি থেকে আর লভ্যাংশের কোনও টাকা পাচ্ছেন না। গত ৩১ জুলাই প্রতারিতরা সৌম্যজিতের বিরুদ্ধে শিবপুর থানায় অভিযোগও দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। বাধ্য হয়ে এ দিন তাঁরা সৌম্যজিতের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান পিনাকিরঞ্জন দাস, শেখ আসিফ, রবিউল সর্দাররা।

Advertisement

বিনিয়োগকারীরা আরও জানিয়েছেন, সৌম্যজিতের বাড়ি শিবপুরের রামমোহন মুখার্জি লেনে হলেও সে তাঁর কোম্পানির ঠিকানা দেয় দক্ষিণ বাকসাড়া লেনের বকুলতলায়। এ দিকে গত কয়েকদিন ধরেই পাওনা টাকা চেয়ে সৌম্যজিতকে ফোন করলেও তাঁর ফোন সুইচড অফ বলছে। অফিসের ঠিকানায় গিয়েও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। অবশেষে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলা, বজবজ, উত্তর ২৪ পরগনা, এমনকী ব্যাঙ্গালোর থেকে বিনিয়োগকারীরা একত্রিত হয়ে সৌম্যজিতের বাড়ির সামনে গিয়ে টাকা চেয়ে বিক্ষোভ দেখান। টাকা না পেলে অনেকে আত্মহত্যার হুমকিও দেন। এ দিকে এদিন সৌম্যজিতের বাবা সুরজিৎ কাঁড়ার বলেন, ‘‘আমার ছেলে এভাবে লোকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে আমি জানি না। ও কয়েকদিন হল বাড়িতে আসছে না। আমার একটা চায়ের দোকান আছে সেটা আমি চালাই।ও কী করেছে আমি বলতে পারব না।”

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.