Humayun Kabir

বাংলাদেশি সন্দেহে ওড়িশায় খুন বাংলার শ্রমিক! নিহতের বাড়িতে হুমায়ুন কবীর

জুয়েলের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেন হুমায়ুন।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ১৮:৫১

options
link
বাংলাদেশি সন্দেহে ওড়িশায় খুন বাংলার শ্রমিক! নিহতের বাড়িতে হুমায়ুন কবীর
জুয়েলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন হুমায়ুন কবীর

শাহজাদ হোসেন, ফরাক্কা: ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে ওড়িশায় বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর লাগাতার অত্যাচার। যার জেরে মুর্শিদাবাদের এক শ্রমিকের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। অত্যাচারের শিকার তাঁর সহকর্মীরা। এই ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছে রাজ্যের রাজনীতি। এই উত্তেজনার মাঝেই জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) পৌঁছে গিয়েছেন নিহত শ্রমিক জুয়েল রানার বাড়িতে। সেখানে গিয়ে, জুয়েলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন হুমায়ুন।

Advertisement

শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর আসেন জুয়েল রানার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে। রানার বাড়িতে আসেন তিনি। দীর্ঘক্ষণ জুয়েল রানার মায়ের সঙ্গে আলোচনা করেন হুমায়ুন। পাশপাশি পরিবারের হাতে তিনি আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেন তিনি। জুয়েলের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, “এমন ধরনের ঘটনা ঘটানো নিঃসন্দেহে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সরকারের উচিত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”

Advertisement

হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) এই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “উড়িষ্যায় প্রতিনিয়ত পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। তাঁদের বাংলায় কথা বলার কারণে যদি বাংলাদেশি সন্দেহে আক্রমণ করা হয়, তাহলে এটি একটি বিপজ্জনক প্রবণতা। এই ধরনের অত্যাচার অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।” পরবর্তীতে, তিনি রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, “এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেজন্য রাজ্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে এবং এই ধরনের বর্বরতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”

Advertisement
Humayun Kabir meet family of migrant worker killed in Odisha
জুয়েলের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেন হুমায়ুন।

চলতি বছরের ২০ তারিখ ওড়িশার সম্বলপুরে যান জুয়েল-সহ আরও কয়েকজন যুবক। দিন মজুরের কাজ করতেন তাঁরা। বুধবার রাত ৮টা ৩০ মিনিট নাগাদ জুয়েল স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে যান। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন আরিক ও পলাশ। সেখানে তাঁরা কথা বলছিলেন বাংলায়। সেই সময় পাঁচজন দুষ্কৃতীর দল আসে। তারা পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে চোটপাট করতে থাকে। ওই দুষ্কৃতীরা তাঁকে বাংলাদেশি সন্দেহে মারধর করে বলে অভিযোগ। শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পর ২৬ ডিসেম্বর মৃতদেহ নিয়ে আসা হয় সুতি থানার চক বাহাদুরপুর গ্রামের বাড়িতে। জুয়েল রানার মায়ের দাবি, যদি তাঁর পরিবারের একজন সদস্যের চাকরির ব্যবস্থা করা হয়, তবে তাদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে।

এই ঘটনার পরেই রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা জুয়েল রানার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। রানার পরিবারকে সহানুভূতি জানিয়ে সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। রাজ্য সরকার পরিবারটির একজন সদস্যকে চাকরি এবং ২ লক্ষ টাকা অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। স্থানীয় জনগণ এবং রাজনৈতিক নেতারা একত্রিত হয়ে এর ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছেন। পুলিশের তরফ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.