কল্যাণ চন্দ, বহরমপুর: লোকসভার আগে জেলায়-জেলায় সংগঠনে রদবদল করেছে তৃণমূল। বহরমপুর ও জঙ্গিপুরের সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সভাপতি ও চেয়ারম্যান বদল হয়েছে। বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি হলেন কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার। জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান হলেন রেজিনগরের তৃণমূল বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী। তবে জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি বদল হয়নি। জাকির হোসেন হলেন জঙ্গিপুরের তৃণমূল চেয়ারম্যান। প্রাক্তন সভাপতি শাওনি সিংহ রায়কে রাজ্য সম্পাদক পদে নিয়োগ করা হয়েছে।
শাওনিদেবীর পদ বদলের দিনেও তাঁকে বিঁধলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, “প্রাক্তন জেলা সভাপতির জন্য দলে বিভাজন তৈরি হচ্ছিল। বিভিন্ন জায়গায় মতবিরোধ তৈরি হচ্ছিল।” নতুন পদাধিকারীদের স্বাগত জানিয়ে তাঁরা ভালভাবে দায়িত্ব সামলাবেন বলে মনে করছেন তিনি। অন্যদিকে শাওনি সিংহ রায় বলেন, “দল যাকে যোগ্য মনে করেছে তাঁকেই সভাপতি করা হয়েছে। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।”
[আরও পড়ুন: কলকাতায় চাঁদার জুলুমে জেরবার পুলিশই! থানাতে মার খেলে ওসি, সাব ইন্সপেক্টররা]
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের আগস্ট মাসে বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি হন শাওনি সিংহ রায়। নতুন জেলা সভাপতি হওয়ার পর দলকে চাঙা করতে মাঠে নেমে পড়েন তৃণমূলের লড়াকু নেত্রী। তাঁর হাত ধরেই বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার বেলডাঙা, বহরমপুর,কান্দি, জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ,মুর্শিদাবাদ পুরসভা দখল করে তৃণমুল। পঞ্চায়েত ভোটেও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে তৃণমূল। দলীয় সূত্রে খবর, এই নির্বাচনের আসন বন্টন নিয়ে ভরতপুর বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে মনোমালিন্য শুরু হয় শাওনির। হুমায়ুন জেলা সভাপতির পদত্যাগের দাবি তোলেন। যদিও শেষমেষ রাজ্য নেতৃত্ব ওই দ্বন্দ্ব সামাল দেয়। অন্যদিকে নওদা ব্লকে স্থানীয় তৃণমূল ব্লক সভাপতি বনাম স্থানীয় বিধায়কের দ্বন্দ্ব মেটাতে হিমশিম খেতে হয় তৎকালীন জেলা সভাপতিকে। সেই শাওনিকে অব্যাহতি দিয়ে জেলা সভাপতি করা হল কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকারকে। এদিন তিনি বলেন,”সামনেই বড় নির্বাচন। সেই নির্বাচনে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তৃণমূল দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যে দায়িত্ব দিয়েছেন সেই দায়িত্ব মর্যাদার সঙ্গে পালন করব।”
বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান পদে এলেন রেজিনগরের তৃণমূল বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী। আবু তাহের খান ওই পদে নিযুক্ত ছিলেন। রবিউল বলেন, রাজ্য নেতৃত্বের কাছে ওই দায়িত্ব পেয়ে তিনি খুশি। উল্লেখ্য, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালোই।
[আরও পড়ুন: কলকাতায় চাঁদার জুলুমে জেরবার পুলিশই! থানাতে মার খেলে ওসি, সাব ইন্সপেক্টররা]
অন্যদিকে জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান হয়েছেন জাকির হোসেন। জঙ্গিপুরের তৃণমূল বিধায়ককে যোগ্য পদেই বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান কানাইচন্দ্র মণ্ডল। মাস ছয়েক আগেই পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন তিনি। যাতে নিজের বিধানসভায় বেশি করে সময় দিতে পারবেন। জাকির হোসেন বলেন, “আসন্ন লোকসভা ভোটকে পাখির চোখ করে মাঠে নামছেন। দলকে আরও মজবুত করতে আরও বেশি সময় দিতে প্রস্তুত।” জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি পদে পুনঃবহাল থাকলেন খলিলুর রহমান।
সর্বশেষ খবর
-
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ‘তিজ’ উদযাপনে কাকলি-শতাব্দী-রচনারা, মেহেন্দি-সেলফিতে হুল্লোড়, শামিল কঙ্গনাও
-
অনুশীলন সমিতি থেকে হিন্দুস্তান রিপাবলিকান আর্মির সদস্য! ফিরে দেখা ঝাড়গ্রামের বিস্মৃতপ্রায় বিপ্লবীকে
-
‘তোমার ইমেজটাই নষ্ট করে দেব’, বচ্চনবধূ ঐশ্বর্যকে ‘হুঁশিয়ারি’ বলি পরিচালকের!
-
নজরে ‘চিকেনস নেক’, নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনি খতিয়ে দেখতে স্বাধীনতা দিবসের পরেই শিলিগুড়িতে শাহ!
-
সমাবর্তনে প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণের বিরোধিতার ‘শাস্তি’, প্রতিবাদীরা পাবে না ‘আইনজীবী’ স্বীকৃতি!