সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই রাজ্যের শাসকদলকে অস্বস্তিতে ফেলেছে নারদ কাণ্ড৷ সাম্প্রতিক সিবিআই তৎপরতার পর সে কাণ্ডের জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত৷ অন্তর্ঘাতের অভিযোগ উঠেছে দলেরই এক সাংসদের নামে৷ এবার সে বিষয়েই সরব হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এক সাক্ষাৎকারে জানালেন, কে ডি সিংকে দলে নেওয়া ব্লান্ডার হয়েছে৷
[ ফুটন্ত তেলে হাত ডুবিয়ে দিব্যি ‘পকোড়া’ ভাজেন এই ব্যক্তি! ]
অভিযোগ, তৃণমূলের সাংসদ কে ডি সিংই নারদ স্টিং অপারেশনের জন্য ৮০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন৷ সেই প্রসঙ্গেই এদিন মমতা জানান, একসময় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর সঙ্গে তাঁর ছবি দেখেছিলেন৷ এক টিভি চ্যানেলের শেয়ারও ছিল তাঁর৷ তা দেখেই কে ডি সিংকে সাংসদ পদ দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন তিনি৷ একসময় কে ডি সিংয়ের নামে বিধায়ক কেনাবেচারও অভিযোগ উঠেছিল৷ তা সত্ত্বেও তাঁকে দলে নিয়েছিলেন৷ তা যে তাঁর ব্লান্ডার হয়েছে সে কথা এদিন স্বীকার করে নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক চক্রান্ত করেই এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে৷ ২০১৪ সালে এই অপারেশন করা হয়েছিল৷ ২০১৬-তে নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই তা প্রকাশ করা হয়েছে৷ তবে তিনি চান এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক৷ তাতেই উঠে আসবে কে বা কারা কোন উদ্দেশ্যে এ কাজ করেছে৷ দলীয় নেতা মন্ত্রীদের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, কেউ কোনও কাজের জন্য টাকা নেননি৷ সংবাদমাধ্যমের নাম করে এসে পরিকল্পিতভাবেই দলের নেতাদের ফাঁসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ মমতার৷ বিজেপি অফিস থেকে কেন এই ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে সে প্রশ্ন তুলে নেপথ্যের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের প্রতিই ইঙ্গিত করেন তিনি৷
[ ১২ বছরেই পিতৃত্ব! দেশের কনিষ্ঠতম বাবা হচ্ছে কোচির কিশোর? ]
সেই সঙ্গে আগামী লোকসভা নির্বাচনে বাংলাকে বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবারের টার্গেট করা নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী৷ তাঁর জবাব, এ নিয়ে এত ভাবার কিছু নেই৷ বিজেপি এর আগে বেশ কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচনে হেরেছে৷ সেই হতাশা থেকেই এ কাজ করছে৷ ২০১৯-এর নির্বাচনে বাংলাকে বিজেপি ভয় পাচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রীর মত৷ তাঁর দাবি, তিনি যে কোনও অন্যায়ের বিরোধিতা করেন বলেই তাঁকে বাংলার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখার চেষ্টা চলছে৷ তবে তাঁর সাফ কথা, বাংলাকে টার্গেট করা হলে, তিনিও ভারতকে টার্গেট করছেন৷ যদিও জাতীয় স্তরের কোনও রাজনৈতিক অঙ্ক এখনই ভাবতে নারাজ মমতা৷ কিন্তু অন্যান্য রাজ্যে যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আছে সে কথা জানিয়ে রাখলেন৷
[ চণ্ডীগড় বিমানবন্দর হোক শহিদ ভগৎ সিংয়ের নামে, উঠল দাবি ]
বরাবরই কেন্দ্রের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তবে তাঁর বক্তব্য, যে কোনও ভাল কাজের পাশে তিনি আছেন৷ মানুষের স্বার্থে কোনও কাজ হলে তিনি সমর্থন করতে পিছপা হননি৷ এদিন জিএসটি-তে তাঁর সমর্থনের প্রসঙ্গও তুলে আনেন তিনি৷ কিন্তু কেন্দ্র যেভাবে রাজ্যের কাজে হস্তক্ষেপ করছে তারও সমালোচনা করেন৷ তাঁর বক্তব্য, আগামী ২৫ মে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের যে পরিকল্পনা হয়েছে সে বিষয়ে তাঁকে অন্ধকারেই রাখা হয়েছে৷ তিনি জানান, রাজ্যের স্বার্থের কথা তাঁকে মাথায় রাখতেই হবে৷ সেইমতোই পদক্ষেপ করবেন তিনি৷ ধূলাগড় প্রসঙ্গ তুলেই এদিন তিনি বলেন, রাজ্যে ধর্মভিত্তিক মেরুকরণের রাজনীতি চালানোর চেষ্টা চলছে৷ ধূলাগড় নিয়েও মিথ্যে প্রচার হয়েছে৷ এটা বাংলার সংস্কৃতি নয় জানিয়ে সাধারণ মানুষকে এই প্রবণতার বিরুদ্ধে এক হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি৷
[ বিমানকর্মীকে প্রকাশ্যে ২৫ বার চপ্পল দিয়ে পেটালেন শিব সেনা সাংসদ ]
রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নের কথাও এদিন শোনা গেল তাঁর মুখে৷ স্বাস্থ্য বিল নিয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, এই বিল কখনওই ডাক্তারদের বিরুদ্ধে নয়৷ কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানগুলি কোটি কোটি টাকা আয় করছে, তারা অন্তত খানিকটা মানবিক হতে পারে৷ গরীব মানুষকে সেবা দেওয়া যেন তাঁরা সিএসআর হিসেবে ধরে নেন৷ তাঁর দাবি, ০.০১ শতাংশের জন্য ৯৯ শতাংশের বদনাম হতে পারে না৷ দুর্ঘটনা নিয়েও তিনি সমান উদ্বিগ্ন৷ এ বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপের পাশাপাশি মানুষকেও সচেতন হতে হবে৷ রাজ্যের শিক্ষা নিয়েও তিনি জানান, অরাজনৈতিক ছাত্র সংসদের দিকটি তিনি শিক্ষামন্ত্রীকে বিবেচনা করে দেখতে বলবেন৷ সেন্ট জেভিয়ার্সের মডেলকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে তা রাজ্যের সমস্ত কলেজে রূপায়ণ করা যায় কিনা, তাও আলোচনা করা হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী৷
[ বন্ধ একাধিক কসাইখানা, মিলছে না লখনউয়ের তুলতুলে ‘টুন্ডে কাবাবি’ ]
সর্বশেষ খবর
-
যুবতীর দেহ হাসপাতালে রেখেই পলাতক, খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার লিভ ইন পার্টনার-সহ ২
-
পুড়ল হেমন্ত-রাহুলের কুশপুতুল, পদত্যাগের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের ডাক ঝাড়খণ্ডের ছাত্রবিক্ষোভে
-
ঢাকার পাক দূতাবাসের মদতে পাকিস্তানে ভারতীয় সিমকার্ড পাচার! কোচবিহার কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়
-
পঞ্চভূতে বিলীন রাজা সেন, চোখের জলে বিদায় জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালককে
-
‘কী করছেন, সমস্ত রিপোর্ট আছে’, দলের বিধায়কদের চরম হুঁশিয়ারি শমীকের