জগদ্ধাত্রী কৃষ্ণনগর

জগদ্ধাত্রীর আরাধনায় মেতেছে কৃষ্ণনগর, কেজি কেজি সোনার গয়নায় সেজেছেন বুড়িমা

চাষাপাড়ার বুড়িমা পুজো ২৪৭ বছরে পা দিয়েছে বলে জানাচ্ছেন উদ্যোক্তারা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১, ১২:১৪

options
link
জগদ্ধাত্রীর আরাধনায় মেতেছে কৃষ্ণনগর,   কেজি কেজি সোনার গয়নায় সেজেছেন বুড়িমা
ফাইল ছবি

বিপ্লবচন্দ্র দত্ত, কৃষ্ণনগর: জগদ্ধাত্রী পুজো মানেই উৎসবে মেতে ওঠার পালা কৃষ্ণনগরের। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বুধবার ভোর হতে না হতেই বিভিন্ন মণ্ডপে শুরু হয়েছে মায়ের আরাধনা। ঢাকের বাজনা আর মন্ত্রোচ্চারণে চলছে দেবীর পুজো। ভিড় উপচে পড়েছে চাষাপাড়ায় ‘বুড়িমা’কে পুজো দেওয়ার জন্য।

Advertisement

এবার চাষাপাড়ার বুড়িমা পুজো ২৪৭ বছরে পা দিয়েছে বলে জানাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত পুজো কমিটির লোকজন বেশ কয়েক কেজি সোনার গয়না দিয়ে সাজিয়েছেন বুড়িমাকে। উদ্যোক্তারা বলছেন, “প্রতিবছরই বুড়িমার গয়নার পরিমাণ বেড়েই চলেছে। বুড়িমাকে পুজো দিতে এসে মানত করে অনেকেই সোনার গয়না দিয়ে থাকেন। সেই গয়নাতেই প্রতিবছর সেজে ওঠেন বুড়িমা। যদিও সব গয়না প্রতিবছর পরানো সম্ভব হয় না। বুড়িমার গয়নার পরিমাণ কত, তা সঠিকভাবে বলা মুশকিল।” অত্যন্ত জাগ্রত এই দেবীর দর্শন পেতে এবং পুজো দিতে সকাল থেকে সারাদিনই থাকে উপচে পড়া ভিড়। তা সামাল দিতে এবারও কার্যত হিমশিম অবস্থা পুলিশ প্রশাসনের।

Advertisement

[আরও পড়ুন: জগদ্ধাত্রীতেও থিমের চমক, বাহারি আলোয় সেজে উঠেছে নদিয়ার তেহট্ট]

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিড়ের সুযোগে প্রায় প্রতিবছরই চুরি ও কেপমারির ঘটনা ঘটে। তবে এবার যাতে তেমন কিছু না হয়, তার জন্য সদা সতর্ক পুলিশ। মোতায়েন করা হয়েছে মহিলা পুলিশ কর্মীও। রয়েছে সাদা পোশাকের পুলিশও। এছাড়াও রয়েছেন পুজো কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশ সুপার জাফর আজমল কিদোয়াই ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, নিরাপত্তার সমস্তরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। থাকছে কড়া নজরদারি।

Advertisement

Jagaddhatri

উদ্যোক্তারা বলেন, “আসলে বুড়িমা খুবই জাগ্রত বলে মানুষের বিশ্বাস। এই পুজোর সঙ্গে বহু মানুষের আবেগ জড়িত।” তবে এবারও থিমের বৈচিত্র এবং বাহারি আলোকসজ্জা-সহ পুজো মণ্ডপের দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোকে অন্যমাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। সেই সঙ্গে ঢাকের বাদ্যি, বিভিন্ন লোকনৃত্য-সহ একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেতেছে গোটা শহর। হোটেল, লজগুলোতেও জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

[আরও পড়ুন: জগদ্ধাত্রীর প্রসাদে পাবেন পোনা মাছের ঝোল, জানেন কোথায়?]

থিম ও মণ্ডপসজ্জার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে এবার পাল্লা দিচ্ছে বেশ কয়েকটি বারোয়ারি পুজো কমিটি। তালিকায় রয়েছে গোলাপট্টি বারোয়ারি, ক্লাব স্বীকৃতি, ঘূর্ণি তরুণ সংঘ, পাত্রবাজার বারোয়ারি, এমএনবি মতো বারোয়ারি পুজোগুলি। গোলাপট্টি বারোয়ারির এবার পুজোর থিম অপরূপ বাংলা। আমেরিকার স্বামীনারায়ণ মন্দিরের আদলে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। ভেলোরের নারায়ণ মন্দিরকে তুলে এনেছে এমএনবি ক্লাব। তাঁতিদের নিয়ে এবার বিশেষ অনুষ্ঠান রেখেছে জজকোর্ট পাড়া বারোয়ারি পুজো কমিটি। শিউলি ফুলের বোঁটা রংয়ের প্রতিমা তাঁতিপাড়া বারোয়ারি পুজোয়। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির রাজ রাজেশ্বরীর পুজোকে ঘিরেও রয়েছে মানুষের আকর্ষণ। এছাড়াও বৌবাজার, কাঁঠালপোতা, বাঘাডাঙা, বেলেডাঙা, চকেরপাড়া, হাতারপাড়া, কলেজস্ট্রিট, উকিলপাড়া, মালোপাড়া, আনন্দময়ীতলা, ঘূর্ণি, নাজিরা পাড়া, ষষ্ঠীতলা, নতুন সড়ক, সেন্ট্রাল ক্লাব, রথতলা পাড়া, অঞ্জনা পাড়া বারোয়ারিগুলিতেও ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। তবে থিমের চাকচিক্যের মধ্যেও বুড়িমার জনপ্রিয়তা এখনও শীর্ষেই।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.