কন্যাশ্রী-র জিওনকাঠি, একই ছাঁদনাতলায় মালাবদল ১০ জোড়া বর-কনের

উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানাল পরিবারগুলি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৪, ২০১৮, ১৭:৩৬

options
link
কন্যাশ্রী-র জিওনকাঠি, একই ছাঁদনাতলায় মালাবদল ১০ জোড়া বর-কনের

নন্দন দত্ত, সিউড়ি: আদিবাসী, সংখ্যালঘু, অন্তজ শ্রেণি নির্বিশেষে এদিন এক ছাদের নিচে আনন্দ উৎসবে শামিল হয়েছিলেন। উপলক্ষ গণবিবাহ। সিউড়ির গাংটে গ্রামে একই ছাঁদনাতলায় মালাবদল হল দশ জোড়া বর-কনের। অনেকেই স্বপ্নপূরণ হল রাজ্য সরকারের কন্যাশ্রীর অর্থে। আর বাকিদের বৈতরণি পার করলেন উদ্যোক্তারা।

Advertisement

কন্যাশ্রীর অর্থ পেলেও পারিবারের অর্থসঙ্কটের কারণে অনেকেরই সামাজিক বিয়ে অনুষ্ঠিত করা যাচ্ছিল না। গাংটে গ্রামের ষষ্ঠীধর জনকল্যাণ সমিতি আর মেদিনীপুরের অন্তোদ্যয় অনাথ আশ্রমের উদ্যোগে সিউড়ি দুই ব্লকের এই গ্রামেই সেই অসম্ভব সাধন করা গেল। বর-কনের পাশে দাঁড়াল কলকাতার রোটারি ক্লাব ওফ কনক্লেভের মতো সংস্থাও। ফলে বেশ জাঁকজমক করেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহের আসর বসেছিল এদিন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[তৃণমূল প্রার্থীর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে খুনের হুমকি, বাড়ি লক্ষ্য করে চলল গুলি]

মাজিগ্রামের সুখতি মুর্মু প্রথম বর্ষের ছাত্রী। একই গ্রামের সুনীল টুডুর সঙ্গে এদিন সাত-পাকে বাঁধা পড়লেন। কন্যাশ্রীর টাকা পেয়েছেন সুখতি। সে টাকা অবশ্য রেখেছেন ভবিষ্যতের জন্য। বিবাহ বাসরে বিয়েটা সম্পন্ন হল। তবে গায়ে হলুদ, কুর্ত্তি কলাই দিয়ে মেয়ে সম্পাদনের মতো আদিবাসী প্রথাগুলি হয় বাড়িতে। দশজন কনে এদিন লালপাড় শাড়ি, গয়না, মাথায় সোলার মুকুট পরে পাশাপাশি বসেছিলেন। পাত্ররা বসেছিলেন চিরাচরিত ধুতি, নকশা কাটা পাঞ্জাবি পরে। বিয়ে হল দিঘা গ্রামের রসিদ পটুয়ার। তাঁর জীবনসঙ্গিনী হলেন মির্জাপুরের পিংকি খাতুন। অ্যাকাউন্টে কিছু সমস্যা থাকায় কন্যাশ্রীর টাকা বিয়ের আগে পাওয়া হল না উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী পিংকির। তবে উদ্যোক্তারা যা দিয়েছেন, তাতেই তাঁরা সুখে সংসার করতে চান।

Advertisement

উদ্যোক্তারা সমস্ত নবদম্পতির হাতে স্টিলের আলমারি, খাট, গদি, কাঁসার বাসন, হাত ঘড়ি, পাত্রকে সাইকেল, কনেকে রান্নার সরঞ্জাম, গয়না, রেডিও তুলে দেন। এমন আয়োজন সকলেই খুশি। কোমা গ্রামের পুতুল বাগদি ও বিজয় বাগদি এসব উপহারে দারুণ সন্তুষ্ট বলে জানালেন। পুতুলের দাদা রবি বাগদি বলেন, “আমাদের পারিবারিক অবস্থা যা তাতে এতো উপহার আমরা আমার বোনকে দিতে পারতাম না। উদ্যোক্তারা আমাদের কন্যাদায় থেকে উদ্ধার করেছেন।” তবে এর মধ্যে সুখী মুর্মু নিজেই জানায় সে নাবালিকা। তার সঙ্গে বিয়ে হচ্ছে সাঁইথিয়ার কলেজ মুর্মুর। এদিকে গাংটে গ্রামের রাস্তার ধারে বিশাল মণ্ডপ বানিয়ে যখন সবাই বিয়েতে ব্যস্ত তখন পথের দিকে চেয়ে রইলেন ওই গ্রামের প্রিয়া বৈদ্য। মালদহের গঙ্গারামপুর থেকে বাপ্পার আসার কথা। কিন্তু যানজটে আটকে গিয়েছেন বর। তাই এমন আনন্দ থেকে অনেকটা সময়ের জন্যই বঞ্চিত থাকতে হল তাঁকে। তিনিও কন্যাশ্রীর টাকা পেয়েছেন। প্রথম উদ্যোগে এমন সাফল্য, গ্রামবাসীদের উৎসাহ দেখে আপ্লুত রোটারি ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি ও বেসরকারি স্বর্ণ প্রতিষ্ঠানের এমডি শংকর সেন। তিনি বলেন, “আমরা গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জীবন গড়ে দিতে পেরে খুশি।”

[SSC-র প্রতারণা চক্র, বিকাশ ভবনের আধিকারিক পরিচয়ে চাকরির টোপ দিয়ে ধৃত ২]

ছবি -বাসুদেব ঘোষ

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.