Mausam Noor

টিকিট ‘নিশ্চিত’ বুঝেই কংগ্রেসে মৌসম, প্রভাব পড়বে না বলছে তৃণমূল

২০১৯ সাল থেকে সাত বছর গনির কোতোয়ালি কার্যত দু'ভাগে বিভক্ত ছিল!

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ১৬:২০

options
link
টিকিট ‘নিশ্চিত’ বুঝেই কংগ্রেসে মৌসম, প্রভাব পড়বে না বলছে তৃণমূল
ফাইল ছবি

বাবুল হক, মালদহ: প্রয়াত বরকত গনি খান চৌধুরীর দুই ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী (ডালু) আর আবু নাসের খান চৌধুরী (লেবু) দু’জনেই বয়সের ভারে অসুস্থ, চিকিৎসাধীন। বলা যায়, শয্যাশায়ী। এমন অবস্থায় প্রয়াত গনি খানের এক সময়ের ‘গড়’ মালদহে কংগ্রেসের হাল ধরতে হয়েছে ডালুপুত্র ইশা খান চৌধুরীকে। বাবার মালদহ দক্ষিণ কেন্দ্রে গত লোকসভা ভোটে জিতে সাংসদ হয়েছেন ইশা। কোতোয়ালির প্রাসাদের একাংশে তৃণমূলের পতাকা উড়িয়ে রাজ্যসভার সাংসদ পদ পেয়েছিলেন প্রয়াত গনি খানের ভাগনি মৌসম বেনজির নূর (Mausam Noor)। শনিবার দিল্লির ২৪, আকবর রোডে গিয়ে সেই নূরের ঘর-ওয়াপসি। কারণ?

Advertisement

জেলার রাজনীতি বলছে, সামনের এপ্রিলে তাঁর রাজ্যসভার মেয়াদ ফুরোলে আর তিনি তৃণমূলের প্রার্থীপদ পেতেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় ছিল। তার মধ্যে জেলায় নেতৃত্বের মধ্যে নানা ‘ছোট ছোট’ ইস্যুতে ব্যক্তি স্বার্থের দ্বন্দ্বে পড়ে জেরবার হচ্ছিলেন মৌসম। যা নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বও একাধিকবার জেলাকে সতর্ক করেছিল। তার উপর গত লোকসভা ভোটে দাদার হয়ে প্রচার করে কিছুটা দলেরও বিরাগভাজন হয়েছিলেন তৃণমূলের ‘সদ্য প্রাক্তন’ রাজ্যসভার সাংসদ।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

সূত্রের দাবি, সব মিলিয়ে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ অনুকূল না থাকায় আর দাদা ইশার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হওয়ায় বিধানসভা ভোটের মুখে মৌসম কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। তাতে মালদহ জেলা থেকে বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর কংগ্রেসের টিকিট কিছুটা ‘শিওর’ বুঝেই ‘ঘরমুখো’ হলেন মৌসম।

Advertisement

২০১৯ সাল থেকে সাত বছর গনির কোতোয়ালি কার্যত দু’ভাগে বিভক্ত ছিল। রাজনীতির দড়ি টানাটানিতে ‘খানদান’ খান খান হয়ে যায়। কোতোয়ালি সূত্রের দাবি, সেই খানদান
জুড়তেই এবার পতাকা বদল করলেন গনির ভাগনি মৌসম। এদিন বিকেলে দিল্লিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসের ‘হাত’ ধরেন মৌসম। তৃণমূলের মালদহ জেলার যুব সভাপতি প্রসেনজিৎ দাসের কথায়, “মৌসম কংগ্রেসেই ছিলেন। তৃণমূলে ঢুকেছিলেন। তৃণমূল তাঁকে অনেক কিছু দিয়েছে। রাজ্যসভার সাংসদ করেছে। এখন তাঁর হয়তো আরও অনেক কিছু চাই।” জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান চৈতালি সরকার বলেন, “বরকত সাহেবকে আমরাও শ্রদ্ধা করি। এখন মৌসম তৃণমূল ছেড়ে দিলেন। কেন ছাড়লেন বুঝতে পারছি না। তবে এর প্রভাব জেলার রাজনীতিতে পড়বে কিনা, সেটা সময় বলবে।” মৌসম প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা বিশ্বজিৎ রায় বলেন, “এভাবেই তৃণমূল দলটা শেষ হয়ে যাবে। কাউকে সম্মান দিতে জানে না। মৌসম সম্মান পায়নি, গনি খান চৌধুরীকেও সম্মান করে না।”

তৃণমূল জেলা সভাপতি আবদুর রহিম বক্সিকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী মৌসমকে কটাক্ষ করেছেন। বলেছেন, “তিনি রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে একটিও কাজ করেননি। কংগ্রেসের টিকিট পাবেন বলে তৃণমূল ছেড়ে দিলেন। তৃণমূলের কোনও ক্ষতি হবে না এতে।”

তবে ফাঁকা মাঠে গনির উত্তরসূরি পাওয়া সম্ভব নয় বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। তবে মৌসম কংগ্রেসে ফেরায় কোতোয়ালি ভবনে আর বিভেদ থাকবে না বলে সাংসদ ইশার দাবি। মৌসমের ঘনিষ্ঠ মহলের অভিযোগ, জেলা তৃণমূলের নেতারা তাঁকে কোণঠাসা করে রেখেছিলেন। রহিম বক্সি, সাবিনা ইয়াসমিনদের সঙ্গে মতের মিল ছিল না। জেলা নেতৃত্বের একাংশের অঙ্গুলিহেলনে ২০২৪ সালে তাঁকে লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়নি। বস্তুত, সেই থেকেই কোতোয়ালি ভবনের চৌকাঠ টপকে মূল স্রোতে ঢোকার অঙ্ক করছিলেন গনির ভাগনি মৌসম।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.