হুইলচেয়ারে নাচ, মঞ্চ মাতিয়ে স্বনির্ভর চণ্ডীপুরের প্রণবকুমার

প্রতিবন্ধকতা জয় করার এ কাহিনি জানলে আপনিও কুর্নিশ জানাতে বাধ্য হবেন।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯, ১৬:৩২

options
link
হুইলচেয়ারে নাচ, মঞ্চ মাতিয়ে স্বনির্ভর চণ্ডীপুরের প্রণবকুমার

সৈকত মাইতি, তমলুক: দুর্ঘটনায় দু’টি পা হারিয়েছেন ঠিকই। কিন্তু তাতেও উদ্যমে কোনও খামতি নেই। কেবল নিজের ইচ্ছাশক্তির উপর ভর করে গানের তালে তালে এখন মঞ্চ দাপাচ্ছেন চণ্ডীপুরের বৃদ্ধ প্রণবকুমার জানা। কোনও রকমের সরকারি সাহায্য নয়, দর্শকদের মনোরঞ্জনে হুইলচেয়ারের উপর রকমারি ডান্স করেই স্বনির্ভরতার পথ দেখাচ্ছেন তিনি।

Advertisement

চণ্ডীপুরের নারায়ণদাঁড়ি এলাকার বাসিন্দা প্রণবকুমার জানা(‌৬২)‌। পেশায় রাজমিস্ত্রি। চরম অভাবের মধ্যেই দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এরপর স্ত্রী লক্ষ্মীদেবীকে নিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে দিন কাটছিল প্রণববাবুর। কিন্তু আচমকাই সংসারে চরম সংকট নেমে আসে। জানা গিয়েছে, ২০১২ সালে গ্রামে একটি বাড়ির নির্মাণের সময় দুর্ঘটনার মুখে পড়েন তিনি। বাঁশের মাচা ভেঙে দোতলার ছাদ থেকে একেবারে নিচে পড়ে যান। শেষমেশ চিকিৎসকদের পরামর্শে দুটি পা-ই বাদ দিতে হয়। দরিদ্র পরিবারে নেমে আসে আরও বিপর্যয়। ফলে জীবনে বেঁচে থাকার লড়াইটা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায় প্রণববাবুর। এমন অবস্থায় নিমতৌড়ি তমলুক উন্নয়ন সমিতির সহায়তায় নাচের তালিম পান তিনি। আর সেটাই এখন প্রতিবন্ধকতার তকমা সরিয়ে নতুন জীবনের দিশা দেখাচ্ছে প্রণববাবুকে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[বিজেপির প্রাসাদোপম পার্টি অফিস তৈরিতে কত খরচ? টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন মমতার]

Advertisement

সংসারের নানা যন্ত্রণার মধ্যেও এখন তাই হাসিমুখে দর্শকদের মনোরঞ্জন করে চলেছেন প্রণবকুমার জানা। শুধু পূর্ব মেদিনীপুর জেলাই নয়। জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে তাঁর নাচের সুখ্যাতি এখন পাশের জেলার দাঁতন, কেশপুর, গড়বেতা, সবং, উত্তর ২৪পরগনা, বাঁকুড়া-সহ নানা স্থানে। প্রণববাবুই জানালেন, “সরকারিভাবে বার্ধক্য ভাতা বা প্রতিবন্ধী ভাতা কোনওটাই এখনও জোটেনি। তবু কঠিন এই লড়াইয়ের দিনে আত্মমর্যাদা খুইয়ে নয়। মনের জেদেই বৃদ্ধ বয়সেও দর্শকদের আনন্দ দিই। আর বিনিময়ে মাস শেষে হাতে আসে হাজার পাঁচেক টাকা। তা দিয়েই স্ত্রীর চিকিৎসা-সহ যাবতীয় খরচ সামলাতে হয়।”

তবে দুই পা খুইয়ে রাজমিস্ত্রী থেকে নৃত্যশিল্পী হওয়ার কাজটা খুব সহজ ছিল না। নিমতৌড়ি তমলুক উন্নয়ন সমিতির সম্পাদক যোগেশ সামন্ত বলেন, “প্রতিবন্ধীদের হীনমন্যতা দূর করতে আমরা নানাভাবে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। এমন অবস্থায় প্রণববাবুদের মতো মানুষজন নিজেদের ইচ্ছাশক্তির জোরেই স্বনির্ভরতার পথ দেখছেন। তাই এর থেকে আর ভাল কিছু হতে পারে না।”

ছবি- রঞ্জন মাইতি

[ভিনরাজ্যে শ্রমিক পাচারের প্রমাণ পেলে ট্রেনেই গ্রেপ্তারের নির্দেশ]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.