migrant labourer

উত্তরপ্রদেশে মৃত আদিবাসী যুবকের দেহ ফিরল বীরভূমের গ্রামে, ‘ওকে খুন করা হয়েছে’, কান্না চেপে বললেন স্ত্রী

দিল্লি-কানপুর রুটের রেললাইনের ধার থেকে প্রতীকের দেহ উদ্ধার হয়।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২৯, ২০২৫, ০০:০২

options
link
উত্তরপ্রদেশে মৃত আদিবাসী যুবকের দেহ ফিরল বীরভূমের গ্রামে, ‘ওকে খুন করা হয়েছে’, কান্না চেপে বললেন স্ত্রী

দেব গোস্বামী, বোলপুর: ঘরে ফিরল বীরভূমের আদিবাসী যুবক প্রতীক হেমব্রমের দেহ। ভিনরাজ্যে কাজের সন্ধানে গিয়ে বেঘোরে প্রাণ গিয়েছে প্রতীকের। উত্তরপ্রদেশের দিল্লি-কানপুর রুটে রেললাইনে নির্মমভাবে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। মঙ্গলবার রাতে প্রতীকের দেহ ফিরল পাড়ুইয়ের দামোদরপুর গ্রামে। ওই পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন তৃণমূলের ৬ সদস্যের প্রতিনিধিদল।

Advertisement

গ্রাম জুড়েই শোক, নিস্তব্ধতা। কেউ টর্চ লাইট হাতে। কেউ ফুলের মালা, কেউ আবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করেই ছাতা নিয়ে শেষশ্রদ্ধা জানাতে হাজির হন পাড়ুইয়ের দামোদরপুর গ্রামে। দীর্ঘ যাত্রা শেষে কফিনবন্দি ছেলের দেহ গ্রামে ফিরতেই কান্নায় ভেঙে পড়ল দামোদরপুর। চারদিকে শুধু হাহাকার। প্রতীকের শেষ দেখা পেতে ভিড় জমিয়েছিলেন গোপালনগর, দর্পশীলা, কসবা ও সরপুকুরডাঙার শত শত মানুষ। সকলেরই একটাই প্রশ্ন-এমন মৃত্যু কেন?

Advertisement

Mortal remains of Bengal migrant labourer returns home

Advertisement

মৃত পরিযায়ী শ্রমিককে শেষশ্রদ্ধা জানান, রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম, বীরভূমের জেলা সভাধিপতি কাজল শেখ-সহ রাজ্য তৃণমূলের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল। সকাল থেকেই প্রতীক্ষায় ছিলেন প্রতীকের বাবা গোপাল হেমব্রম, স্ত্রী শর্মিলা, দুই কন্যা পৌলীনা ও শিউলিনা, দাদা ও বৌদি। কফিন দেখেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন স্ত্রী শর্মিলা হেমব্রম। বাকরুদ্ধ বড় মেয়ে বাঁধনবগ্রাম গান্ধী বিদ্যাপীঠের অষ্টম শ্রেণীর পড়ুয়া পৌলীনা হেমব্রম ও দামোদরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় তৃতীয় শ্রেণীর পড়ুয়া ছোট মেয়ে শিউলিনা হেমব্রম। গ্রামের আদিবাসী যুবককে দেখে আর চোখের জল সামলাতে পারেনি কেউই। কান্না, শোক চেপে মৃত আদিবাসী যুবকের স্ত্রী শর্মিলা হেমব্রম অভিযোগ করেন, “ওকে খুন করা হয়েছে। চেন্নাই গিয়েছিল রোজগারের জন্য, অথচ দেহ পাওয়া গেল উত্তরপ্রদেশে। এটা কীভাবে সম্ভব? দুই মেয়েকে নিয়ে আমরা কোথায় যাব।”

রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম জানান,”পরিবারের কাছ থেকে যা শুনেছি, তাঁকে নির্মমভাবে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া জরুরি। গত দুই দিন ধরে রাজ্য থেকে পাঠানো প্রতিনিধি দল পরিবারটির পাশে রয়েছে। সরকার ও দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।এই অসহায় পরিবারের পাশে আমরা সর্বতভাবে রয়েছি।” আদিবাসী অধ্যুষিত দামোদরপুরে এদিন যেন শোকের আবহ। প্রতীক হেমব্রমের রহস্যজনক মৃত্যু শুধু পরিবারের নয়, নির্মম মৃত্যু ফের আতঙ্ককেই উসকেছে। রাত্রে বোলপুর মকরমপুর গির্জায় সমাধিস্থ সম্পূর্ণ হয়।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.