Murshidabad

এবার কলকাতাতেও ‘লাভ ড্রাগ’! ফরাক্কায় ৫ কোটির মাদক-সহ ধৃত মহিলা

নেশায় ডুবছে তরুণ প্রজন্ম!

শাহজাদ হোসেন
শাহজাদ হোসেন

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ২১:২৬

options
link
এবার কলকাতাতেও ‘লাভ ড্রাগ’! ফরাক্কায় ৫ কোটির মাদক-সহ ধৃত মহিলা
ফাইল ছবি।

কলকাতা, দিল্লি, মুম্বইয়ের পার্টি কালচারের ভয়ঙ্কর মাদক এবার মুর্শিদাবাদে! ‘লাভ ড্রাগ’ বা ‘মলি’ নামে পরিচিত এমডিএমএ মাদক-সহ এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করল ফরাক্কা থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানাগিয়েছে , রবিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নিউ ফরাক্কা বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশন চত্বরে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই ওই মহিলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ওই মহিলার নাম শেফালি হালদার। লালগোলা থানার সুভাষপল্লীর বাসিন্দা। ধৃতের কাছ থেকে ১ কেজি ৪১৬ গ্রাম এমডিএমএ উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। রাজ্যে এত পরিমাণ মলি উদ্ধারের ঘটনা সাম্প্রতিক কালে বিরল।

Advertisement

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, ধৃত মহিলা অসমের এক পাচারকারীর কাছ থেকে এই মাদক সংগ্রহ করে ট্রেনে করে মুর্শিদাবাদে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে কলকাতায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল।

জেলা গোয়েন্দা দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েদের পার্টিতে এই মাদকের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এই মাদক মস্তিষ্কে সেরোটোনিন, ডোপামিন ও অক্সিটোসিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিরা একে অপরের প্রতি তীব্রভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। এই কারণেই এর নাম ‘লাভ ড্রাগ’। এটি সাধারণত তরল বা সোডার সঙ্গে মিশিয়ে, জিভের তলায় রেখে বা ইনজেকশনের মাধ্যমে নেওয়া হয়। ১৯১২ সালে জার্মান বিজ্ঞানীরা এটি আবিষ্কার করেন, ১৯৭০ সালের পর বিশ্বজুড়ে পার্টি ড্রাগ হিসেবে জনপ্রিয় হয়। এটি সেবনের ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যেই প্রভাব শুরু হয় এবং ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তবে অতিরিক্ত সেবনে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

Advertisement

Advertisement

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, ধৃত মহিলা অসমের এক পাচারকারীর কাছ থেকে এই মাদক সংগ্রহ করে ট্রেনে করে মুর্শিদাবাদে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে কলকাতায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল। তার কাছ থেকে একটি আধার কার্ড ও মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সোমবার তাকে এনডিপিএস আদালতে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে একই রাতে ফরাক্কা থানার পুলিশ এনটিপিসি নেতাজি সেতুর কাছে আরেকটি অভিযান চালায়। সেখানে একটি গাড়ি থেকে ৮২৫ গ্রাম উন্নত মানের হেরোইন উদ্ধার হয়, যার বাজার মূল্য প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা। এই ঘটনায় মালদহ জেলার কালিয়াচক থানার সুমন শেখ দক্ষিণ লক্ষীপুর শেরশাহীর শামীম আখতারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পুলিশের অনুমান, উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে বাংলাকে করিডর করে এই নতুন মাদক চক্র সক্রিয় হচ্ছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.