জল নেই স্কুলে, শৌচকর্মে মাঠই ভরসা ছাত্রীদের

প্রশ্নের মুখে প্রধান শিক্ষক।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৮, ১১:১৪

options
link
জল নেই স্কুলে, শৌচকর্মে মাঠই ভরসা ছাত্রীদের

চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমানকে নির্মল ঘোষণা করতে কোমড় বেঁধে নেমেছে জেলা প্রশাসন। মিশন নির্মল বাংলা সফল করতে স্কুল পড়ুয়ারদের নিয়ে মিছিলও হয়। কিন্তু এখানে স্কুলের ছাত্রীরাই জলের বোতল হাতে খোলা মাঠে শৌচকর্ম করতে যাচ্ছে! সচেতনতার এই যুগে কুলটির মিঠানি হাইস্কুলের এই ছবি লজ্জা দেবে সবাইকে। কিন্তু স্কুলে যে শৌচালয় নেই তা নয়, প্রধানশিক্ষকের দাবি, পর্যাপ্ত জলের অভাবেই স্কুলের শৌচালয় দুর্গন্ধময় হয়ে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। তাই শৌচালয়গুলি ব্যবহার করতে না পেরে খোলামাঠেই স্কুল চলাকালীন প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে চলে যাচ্ছে পড়ুয়ারা। তবে প্রধান শিক্ষকের এই দাবি মানতে নারাজ অভিভাবকরা। এমনকী, আসানসোলের সহকারি স্কুল পরিদর্শকও প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধান শিক্ষক সমস্যার কথা কেন পুরনিগমকে জানাননি এতদিন! কুলটির মিঠানি হাইস্কুল সত্তর বছরের প্রাচীন। তাই গ্রামবাসীদের সেন্টিমেন্ট জড়িয়ে রয়েছে এই স্কুলের সঙ্গে।

Advertisement

[নদিয়ার পর এবার ‘নির্মল জেলা’ পূর্ব মেদিনীপুর!]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এই পরিস্থিতি গ্রামবাসীরাও মেনে নিতে পারছেন না। গ্রামবাসীদের দাবি, মোট তিনটি বড় জলের ট্যাঙ্ক ও একটি আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভার রয়েছে। এমনকী, স্কুলের নিজস্ব কুয়ো রয়েছে ক্যাম্পাসের মধ্যে। পড়ুয়াদের জন্য রয়েছে শৌচালয়ের ১২ টি ইউনিট। স্কুলজুড়ে রয়েছে পাইপলাইনের ব্যবস্থা। তবু এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জন্য অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা স্কুলের প্রধান শিক্ষক তথা পরিচালন কমিটির সম্পাদককেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলের শৌচাগার পরিষ্কার করার লোকের অভাবেই ছাত্রছাত্রীরা ওই বাথরুম ব্যবহার করতে পারছে না। ছাত্রীদেরও অভিযোগ, স্কুলের বাথরুমের দরজা ভাঙা ও দুর্গন্ধময়। অভিভাবকদের ক্ষোভ, স্কুল চলাকালীন ছেলে-মেয়েরা খোলামাঠে গিয়ে বিপদে পড়লে তার দায় কে নেবে! আবার বাইরে না গিয়ে ওই অস্বাস্থ্যকর বাথরুম ব্যবহার করলে পড়ুয়ারা অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। তবে কোথায় যাবে পড়ুয়ারা। প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা।

Advertisement

স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি দেবদুলাল মুখোপাধ্যায় বলেন “এলাকায় জলসংকট রয়েছে। স্থানীয় কিছু যুবককে আবেদন নিবেদন করে স্কুলের টাইমে ট্যাংকের ভালবের প্যাঁচ খোলানো হয় ঘণ্টাদুয়েকের জন্য। তিনিও মনে করেন, স্কুলের কুয়ো সংস্কার হয়ে গেলেই বাথরুমের সমস্যা মিটে যেতে পারে। আসানসোলের সহকারি স্কুল পরিদর্শক অজয় পালের নজরে আনলে তিনি বলেন, “শুক্রবারেই তিনি নিজে খোঁজ নেবেন। অবিলম্বে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন।” তাঁর এই আশ্বাসে আশায় বুক বেঁধেছেন পড়ুয়ারা।

[বাড়িতে শৌচালয় নেই, শ্বশুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের বউমার]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.