North Bengal

লাহোর-করাচি থেকে অ্যাকটিভ ভারতীয় সিম! বাংলায় ধৃত তিন পাকচরকে জেরায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

শুধু সিম কার্ড নয়, ধৃত তিনজন নকল ভারতীয় টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত।

বিক্রম রায়
বিক্রম রায়

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৬, ২০২৬, ১৮:৫৩

options
link
লাহোর-করাচি থেকে অ্যাকটিভ ভারতীয় সিম! বাংলায় ধৃত তিন পাকচরকে জেরায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি এআই দ্বারা নির্মিত।

ভারতীয় পাঁচটি সিম কার্ড লাহোর ও করাচির মিলিটারি ক্যাম্প থেকে পরিচালিত হচ্ছে! ওই নম্বরগুলিতে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে গোপন তথ্য সংগ্রহের কাজ চালাত পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। পাঞ্জাব সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাতেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এই হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছিল। বাংলায় পাক গুপ্তচর সন্দেহে ধৃত তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই সিম পাচার চক্রের বড়সড় চক্রের তথ্য পেল এসটিএফ। শুধু তাই নয়, আইএসআইয়ের হাতে থাকা পাঁচটি সিম কার্ডের মধ্যে তিনটি দিনহাটা মহকুমার একটি তুফানগঞ্জ এবং একটি উত্তর দিনাজপুর জেলার বাসিন্দার নামে নথিভুক্ত রয়েছে বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

Advertisement

ধৃত তিনজন নকল ভারতীয় টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। তবে এই চক্রের সঙ্গে শিলিগুড়ির এক বাসিন্দা এবং নেপালের দুজন বাসিন্দারও যোগ পেয়েছে তদন্তকারীরা।

এখানেই শেষ নয়, বড়সড় এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে শুধু ভারতীয় নয়, নেপালের দু’জন ছাড়াও বাংলাদেশের রংপুরের বাসিন্দা আকবর হোসেন ওরফে সম্রাট অন্যতম মাস্টারমাইন্ড বলেও তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এদের মাধ্যমে ভারতে জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার কাজও করছিল। এই ঘটনায় নাম উঠে আসা চার ভারতীয় দুই নেপালি ও এক বাংলাদেশি মোট সাত জনের নামে মামলা রুজু করেছে সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ। তবে কীভাবে চলছিল এই চক্র? ধৃত তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক তথ্য পেয়েছেন আধিকারিকরা।

Advertisement

পাকচর সন্দেহে ধৃতেরা হল মহম্মদ শফিকুল ইসলাম, নুর নাসিরুদ্দিন আলি এবং রাশিদুল ইসলাম। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, নূর নাসিরুদ্দিন আলি মূলত গরু পাচারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সেই পাচার চক্রের টাকা লেনদেনের সময় তার বাংলাদেশি পাচারকারী আকবর হোসেন ওরফে সম্রাটের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। আর সেই যোগাযোগকে কাজে লাগিয়েই চলত ভারতীয় সিমের কারবার! তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, একাধিক সিম কার্ড ইতিমধ্যে সম্রাটের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে রশিদুলও বাংলাদেশি সেই আইএসআই এজেন্টেরের যোগাযোগে আসে এবং সেখানে সিম পাচার করে। এখান থেকে সিম কার্ড পাচার হওয়ার পর সেটা বাংলাদেশের ঢাকায় চলে যেত। সেখান থেকে হাতঘুরে সিমকার্ডগুলি ইসলামাবাদে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সেখান থেকে ওই সিমকার্ডগুলো ব্যবহার করে আইএসআই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার চোখে ধুলো দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করছিল। এই চক্রের সঙ্গে উত্তর দিনাজপুরের মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামও জড়িত।

Advertisement

শুধু সিম কার্ড নয়, ধৃত তিনজন নকল ভারতীয় টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। তবে এই চক্রের সঙ্গে শিলিগুড়ির এক বাসিন্দা এবং নেপালের দুজন বাসিন্দারও যোগ পেয়েছে তদন্তকারীরা। তবে এই সবগুলোর মাস্টারমাইন্ড বাংলাদেশের বসে থাকা আকবর হোসেন ওরফে সম্রাট রয়েছে, বলেই তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.