স্টাফ রিপোর্টার: রাতভর দাঁতালের আতঙ্কে কাটাল শহর৷ উদয়পল্লি থেকে বাবুরবাগ, কাঞ্চননগর থেকে কেষ্টপুর, গোদা থেকে গোলাপবাগ৷ মঙ্গলবার রাত থেকে বিভিন্ন এলাকায় দাপিয়ে বেড়িয়েছে বাঁকুড়ার জঙ্গলের রেসিডেন্সিয়াল একটি দলছুট হাতি৷ আর দাঁতালকে নিয়ে হুলস্থুল অবস্থা হল বর্ধমান শহরের৷ ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি তেমন কিছু না ঘটলেও রাতের ঘুম ছুটেছিল৷ মধ্যরাতেও কাতারে কাতারে মানুষ হাতির পিছনে ছুটেছেন৷ অবশেষে বুধবার ভোরে হাতিটিকে ‘ট্র্যাঙ্কুইলাইজার’ দিয়ে কাবু করে বন দফতর৷ ট্রাকে চাপিয়ে তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গের কোনও এক জঙ্গলের উদ্দেশে৷
সম্ভবত বর্ধমান শহরের বুকে এই প্রথম কোনও বুনো হাতির আগমন৷ বাঁকুড়ার জঙ্গল থেকে দাঁতাল প্রথমে হানা দেয় খণ্ডঘোষ ব্লকের বিভিন্ন জায়গায়৷ সেখানে জখম হন দু’জন৷ সেখান থেকে তাড়া খেয়ে বিকেলের দিকে দামোদর নদ পেরিয়ে দাঁতালটি চলে আসে বর্ধমানের দিকে৷ সন্ধ্যার মধ্যেই সেটি ঢুকে পড়ে শহরের উদয়পল্লি এলাকায়৷ উদয়পল্লি, কাঞ্চননগর, গোদা এলাকা থেকে হাতিটি ঢুকে পড়ে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাপবাগ ক্যাম্পাসে৷ বন দফতর ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারাও হাজির হন সেখানে৷
গাছ-গাছালিতে ঘেরা গোলপবাগ ক্যাম্পাসে হাতি খুঁজতে গিয়েও বিড়ম্বনায় পড়তে হয় বনকর্মী ও হুলাপার্টিকে৷ রাতের অন্ধকারে বনকর্মীদের সঙ্গে চোরপুলিশ খেলায় মেতে ওঠে দাঁতাল৷
একসময় গোলাপবাগের পরিখা (লহর) পার হয়ে ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে হাতি৷ তারপর হাতি চলে আসে জিটি রোডে৷ গোলাপবাগ মোড়ে এবার হাতি তাড়া করে জনতাকে৷ বেশ কিছু সময় তাড়া করার পালা সেরে হাতিটি জিটি রোড থেকে বাঁক নিয়ে কেষ্টপুরের দিকে ঢুকে যায়৷ তার পর ফের সেখান থেকে বেরিয়ে বাবুরবাগ হয়ে আশ্রয় নেয় রমনাবাগানে৷ যেখানে রয়েছে বন দফতরের অভয়ারণ্য৷ সেখানেই হাতিটিকে বাগে পেয়ে ট্র্যাঙ্কুইলাইজার দিয়ে কাবু করেন বনকর্মীরা৷ বর্ধমানের বিভাগীয় বনাধিকারিক অজয়কুমার দাস বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল হাতি এবং মানুষের ক্ষতিসাধন না করেই সেটিকে তাড়িয়ে দেওয়া৷ উত্তরবঙ্গে পাঠানো হয়েছে হাতিটিকে৷”
সর্বশেষ খবর
-
‘পাতাল থেকে খুঁজে আনব’, বাগনানে দলীয় কর্মী খুনে কড়া শুভেন্দু
-
‘অন্ধজনে দেহো আলো…’, দৃষ্টিহীন ছেলেকে রোনাল্ডোর গোল ‘দেখালেন’ বাবা
-
ধর্মতলাতেই ‘শহিদ দিবস’ করতে চায় কালীঘাট তৃণমূল, চিঠি গেল কলকাতা পুলিশে
-
২০২১-এ শুভেন্দুর গাড়িতে হামলা! বারবনির ‘ত্রাস’ তৃণমূল নেতাকে কোমরে দড়ি পুলিশের, জুতো জনতার
-
জেনেভায় বিশ্বের বৃহত্তম পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাগারের সামনে নটরাজ শিব, ধর্ম নয়, নেপথ্যে বিজ্ঞান!