Singur

কেন্দ্রীয় ‘বঞ্চনা’র প্রতিবাদ, সিঙ্গুরে মোদির ভাষণ চলাকালীন বিক্ষোভ জমি রক্ষা কমিটির

সিঙ্গুরের মোদির সভাস্থলের অদূরে ১০০ দিনের কাজের টাকা থেকে আবাস যোজনার টাকার দাবিতে উঠল স্লোগান।

Advertisement
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ২০:৪৮

options
link
কেন্দ্রীয় ‘বঞ্চনা’র প্রতিবাদ, সিঙ্গুরে মোদির ভাষণ চলাকালীন বিক্ষোভ জমি রক্ষা কমিটির
মোদির সভা চলাকালীন সিঙ্গুরে জমি রক্ষা কমিটির বিক্ষোভ। নিজস্ব ছবি

ছাব্বিশে বঙ্গ জয়ের অভিপ্রায়ে রাজ্যের অন্যতম আলোচিত এলাকা সিঙ্গুরে জনসভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শিল্প ফেরানো নিয়ে সরাসরি কোনও ঘোষণা না করলেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে সরকার পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন তিনি। রবিবার সিঙ্গুরের জনসভা থেকে মোদির এই হুঙ্কারের মাঝেই কেন্দ্রীয় ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ তুলে পোস্টার হাতে বিক্ষোভে নামলেন সিঙ্গুরের কৃষি জমি রক্ষা কমিটির সদস্যরা। ১০০ দিনের টাকা থেকে আবাস যোজনা – আমজনতার প্রাপ্য বকেয়া কেন আটকে রেখেছে কেন্দ্র? এই প্রশ্ন তুলে নরেন্দ্র মোদির জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে এই বিক্ষোভে। উঠেছে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও। বলাই বাহুল্য, জমি রক্ষা কমিটির এই বিক্ষোভে কিছুটা হলেও তাল কাটল মোদির সভার।

Advertisement

রবিবার সিঙ্গুরের জনসভা থেকে মোদির ভাষণের মাঝেই কেন্দ্রীয় ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ তুলে পোস্টার হাতে বিক্ষোভে নামলেন সিঙ্গুরের কৃষি জমি রক্ষা কমিটির সদস্যরা। ১০০ দিনের টাকা থেকে আবাস যোজনা – আমজনতার প্রাপ্য বকেয়া কেন আটকে রেখেছে কেন্দ্র? এই প্রশ্ন তুলে নরেন্দ্র মোদির জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে এই বিক্ষোভে। উঠেছে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও।

বাজেমেলিয়ার মাঠে মোদি-বিরোধী স্লোগান, বিক্ষোভ। নিজস্ব ছবি

আসলে রাজ্যের কৃষি বিপ্লবের ইতিহাসে সিঙ্গুর একটা বড় অধ্যায়। বাম আমলে শিল্প বিস্তারের স্বপ্ন নিয়ে এই সিঙ্গুরেই টাটা গোষ্ঠীর হাত ধরে গাড়ি কারখানা তৈরি করতে চেয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তার জন্য সিঙ্গুরের ফলনশীল কৃষিজমি কৃষকদের হাত থেকে কেড়ে কার্যত ‘ভিলেন’ হয়ে যান তিনি। নিজেদের জমি রক্ষায় বড়সড় আন্দোলনে নামেন কৃষকরা, যা বদলে দিয়েছিল রাজ্যের জমি আন্দোলনের ইতিহাস। নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসবের চাপে পিছু হঠতে বাধ্য হয় বামফ্রন্ট সরকার। সিঙ্গুর থেকে গাড়ি কারখানার প্রকল্প গুজরাটে সরিয়ে নিয়ে যায় টাটা গোষ্ঠী। সেসময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী পদে নরেন্দ্র মোদি। এরপর সিঙ্গুরের ভূমি হয়ে পড়ে বন্ধ্যা। শিল্পস্থাপনের চেষ্টায় কৃষিজমিতে খোঁড়াখুঁড়ির ফলে যে ক্ষতি হয়েছিল, তা মেটানো যায়নি এখনও।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

সময়ের চাকা ঘুরে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি এসেছেন সিঙ্গুরে জনসভা করতে। টাটা দূর অস্ত, শিল্প ফেরানো নিয়ে ক্ষীণতম সম্ভাবনার কথাও তিনি বলেননি। এমতাবস্থায় মোদি বিরোধী বিক্ষোভে সোচ্চার হলেন জমি রক্ষা কমিটির সদস্যরা। তা অবশ্য নিজেদের প্রাপ্য বকেয়ার দাবিতে। এতদিন ধরে বারবার বাংলার দরিদ্র কৃষক, শ্রমিকদের প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনার অভিযোগে সরব হয়েছে শাসকদল তৃণমূল।

Advertisement

এবার মোদির ভাষণ চলাকালীন সভাস্থলের অদূরে সেই একই দাবি তুললেন সিঙ্গুরের শ্রমিক, কৃষকরা। সকাল থেকেই সিঙ্গুরের বাজেমেলিয়া, রতনপুর, খাসেরভেড়ি, রূপনারায়ণপুর গ্রামে ‘গো ব্যাক’ মোদি পোস্টার ছেয়ে গিয়েছিল। আর বিকেলে বাজেমেলিয়ার মাঠে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ চলে। এনিয়ে সিঙ্গুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি আনন্দ মোহন ঘোষ বলেন, ”প্রধানমন্ত্রী জুমলাবাজ। খালি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেন। ডবল ইঞ্জিন সরকার এলে কাজ করবেন বলছেন, কিন্তু আদৌ কিছু করবেন না।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন