Asansol

টানা ১৪৪ ঘণ্টা ডিজিটাল অ্যারেস্টের কবলে আসানসোলের প্রৌঢ়! খোয়ালেন এক কোটির বেশি

তদন্তে নেমে ৯জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৫, ১৭:০০

options
link
টানা ১৪৪ ঘণ্টা ডিজিটাল অ্যারেস্টের কবলে আসানসোলের প্রৌঢ়! খোয়ালেন এক কোটির বেশি
সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ আধিকারিকরা। নিজস্ব চিত্র

শেখর চন্দ্র, আসানসোল : টানা ১৪৪ ঘণ্টা! সাইবার প্রতারকদের কাছে ডিজিটাল অ্যারেস্ট থাকলেন কেন্দ্রীয় অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। খোয়ালেন ১ কোটি ৩ লক্ষ টাকা। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের গোয়েন্দা ও সাইবার অপরাধ বিভাগ ঘটনার তদন্তে নামে। এখনও অবধি ওই ঘটনায় কলকাতা ও দিল্লি থেকে ন’জন সাইবার অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন সুকৃতি চৌধুরী নামে এক মহিলা। কলকাতার হরিদেবপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চঞ্চল বন্দোপাধ্যায়ের আর্থিক অবস্থা বেশ স্বচ্ছল। জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখ তাঁর কাছে এক ক্যুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানির নামে হোয়াটস্যাপ কল আসে। দাবি করা হয়, তাঁর আধার কার্ড ব্যবহার করে বেশ কিছু পার্সেল ব্যাংকক পাঠানো হয়েছে। ওইসব পার্সেলে অবৈধ জিনিসপত্র আছে। এরপর দিল্লি সাইবার ক্রাইম ও সিবিআইয়ের নামে অডিও কলও আসে। এরপর ক্রমাগত ভিডিও ও অডিও কল আসতে থাকে তাঁর কাছে। জানানো হয়, চঞ্চলবাবুকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হয়েছে।

Advertisement

পুলিশের উর্দিধারী কিছু লোক তাঁকে ভিডিয়ো কল করেন বলে অভিযোগ। নানা সমস্যায় জড়িয়ে পড়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল চলতে থাকে। তাঁর থেকে ওই বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেন প্রতারকরা। ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতারকদের কাছে ডিজিটাল অ্যারেস্ট ছিলেন চঞ্চল বন্দোপাধ্যায়।

Advertisement

পুলিশ তদন্তে নেমে প্রথমেই নজর দেন, ওই টাকা কোন একাউন্টে পাঠানো হয়েছে। দেখা যায় শিলিগুড়ির একটি একাউন্টে প্রথমে ৬৭ লক্ষ পাঠানো হয়েছিল। সেই একাউন্টের কেওয়াইসি থেকে একটি মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরে কলকাতা, জগদ্দল, হরিদেবপুর থেকে এক মহিলা-সহ ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁদের সূত্র ধরে দিল্লি থেকে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই প্রথম ডিজিটাল অ্যারেস্টের ঘটনা ঘটল আসানসোলে। প্রথমবারই সাফল্য পেল আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ। এমনটাই দাবি ডিসি হেড কোয়ার্টারের।

আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসি হেড কোয়ার্টার অরবিন্দ কুমার আনন্দ বলেন, “ডিজিটাল গ্রেপ্তারির জালিয়াতি সম্পর্কে সতর্ক থাকুন। আইনে এই ধরনের কোনও কিছুর উল্লেখ নেই। তদন্তের জন্য কোনও সংস্থাই কাউকে ফোনে বা ভিডিয়ো কলে যোগাযোগ করে না।” পুলিশের দাবি, ধৃত সুকৃতি চৌধুরী কলকাতা চক্রের মাস্টারমাইন্ড। বাকিরা ওই প্রতারক দলের অংশ। তাঁরা দেশের বিভিন্ন রাজ্য ছাড়াও নেপাল, চিন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ছড়িয়ে থাকা সাইবার অপরাধীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এখনও অবধি ৪০টি অ্যাকাউন্ট সিজ করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ৪০ কোটি টাকা পর্যন্ত জমা ছিল বলে খবর।

 

 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.