অনুমতি ছাড়াই রাস্তা অবরুদ্ধ করে সমাবেশ ও মিছিল করার অভিযোগ। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Md Salim)-সহ ৩৩ জন বামনেতা-নেত্রীর নামে জামিন অযোগ্য ধারায় স্বতঃপ্রণদিত মামলা রজু করল মালদহ জেলা পুলিশ। সরকারি অনুমতি না নিয়ে সমাবেশ, রাস্তা অবরোধ, সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা, পুলিশকে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা তৈরি করা-সহ একাধিক ধারায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই সমাবেশ শেষে পুলিশের এক আধিকারিক ইংলিশবাজার থানায় এক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতেই মামলা রজু করা হয়েছে বলে দাবি জেলা পুলিশের। মহম্মদ সেলিম ছাড়াও তালিকায় নাম রয়েছে সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, সুমিত দে, শতরূপ ঘোষ, কৌশিক মিশ্র-সহ ৩৩ জন।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই দিনের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ২৩টি মোটরবাইককে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। বেআইনিভাবে শহরে ওই বাইক মিছিল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় (Malda) বাইকের মালিকদেরও যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও বেনামী ১২০০ জনকে অভিযুক্ত করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় পুলিশকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছে জেলা সিপিএম নেতৃত্ব। বুধবার মালদহের সিপিএম জেলা সম্পাদক কৌশিক মিশ্র বলেন, “আমরা পুলিশের এসব মামলার পরোয়া করি না। পথে নেমে মানুষকে সঙ্গে নিয়েই জবাব দেওয়া হবে।” সিপিএম জেলা সম্পাদক জানান, এই ঘটনায় মহকুমা শাসক এবং পুলিশ প্রশাসনের কর্তাদেরও আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। সিপিএমের তরফেও পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে শনিবার মালদহ শহরের রথবাড়ি মোড়ে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে সমাবেশ করে সিপিএম। তার জেরে ওই দিন দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দীর্ঘক্ষণ শহরের রথবাড়ি মোড়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে শহরে ঢোকার রাস্তাও। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ছোট যানবাহনও চলাচল করতে পারেনি। হয়রানির শিকার হতে হয় নিত্যযাত্রীদের। সমাবেশ শেষে অনুমতি ছাড়াই শহরে মিছিল করেন সেলিম-মিনাক্ষীরা। তাতেও শহর অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ।
জানা যায়, মালদহ শহরের বৃন্দাবনী ময়দানে সভা করার অনুমতি চেয়েছিল জেলা সিপিএম। কিন্তু সেই মাঠটি আগে থেকেই খেলার জন্য একটি সংস্থার নামে বুক করা ছিল। এরপর বৃন্দাবনী ময়দানের অনুমতি না পেয়ে হাই কোর্টে যায় বাম নেতৃত্ব। হাই কোর্ট বৃন্দাবনী মাঠের পরিবর্তে মালদহ কলেজ মাঠে সভার অনুমতি দেয়। কিন্তু পরে জানা যায় মালদহ কলেজে পরীক্ষা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত অনুমতি দেয়নি হাই কোর্ট। কিন্তু জেলা সিপিএম নেতৃত্ব শহরের রথবাড়ি মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বলে অভিযোগ। যেখানে দলের রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, সুমিত দে, শতরূপ ঘোষ, দলের জেলা সম্পাদক কৌশিক মিশ্র-সহ একাধিক বাম শীর্ষ নেতৃত্ব।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
এবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগ, পুলিশের দ্বারস্থ বধূ
-
‘খুব বাঁচা বেঁচেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ’, রচনার সুরবদলের পরই কেন একথা বললেন মনোরঞ্জন?
-
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও চুনকাম! ১০৫০ দিন পর সিরিজ হার ভারতের, কেন খেলানো হল না বৈভবকে?
-
‘তোলাবাজি’র অর্থে মেয়ে-স্বামীর নামে সম্পত্তি, নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন! তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ
-
অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে গ্রুপ থেকে বিদায়, বিশ্বকাপে স্বপ্নভঙ্গ ভারতের মেয়েদের