Shibpur Shootout Case

বন্দুক পরিষ্কারের সময় গুলি ছিটকে জখম স্ত্রী! শিবপুর কাণ্ডে পুলিশ হেফাজতে স্বামী

শিবপুরের ওই দম্পতির বয়ান খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০২৫, ১৮:৩২

options
link
বন্দুক পরিষ্কারের সময় গুলি ছিটকে জখম স্ত্রী! শিবপুর কাণ্ডে পুলিশ হেফাজতে স্বামী

অরিজিৎ গুপ্ত, হাওড়া: শিবপুরের অভিজাত আবাসনের ফ্ল্যাটে বসে স্বামী গোপাল যাদব বুধবার সকালে আগ্নেয়াস্ত্র পরিষ্কার করছিলো। তখনই ভুলবশত ওই বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি ছুটে যায় খাটের পাশে চেয়ারে বসে থাকা তার স্ত্রী তরুণী গৃহবধূ পুনমের দিকে। পুলিশের জেরায় ধৃত গোপাল জানায়, তার স্ত্রী পুনম তার পাশে বসে আগ্নেয়াস্ত্রটি পরিষ্কার করা দেখছিলো। তখনই আচমকা বেকায়দায় গুলি ছুটে গিয়ে স্ত্রীর ঘাড়ে লেগে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারও পুনম কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলো। পুনমের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ায় এদিন পুলিশ বুধবারের ঘটনা নিয়ে পুনমকে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। পুনমও পুলিশকে জানায়, তার স্বামী আগ্নেয়াস্ত্র পরিষ্কার করতে গিয়েই তাঁর ঘাড়ে গুলি লাগে। তবে শিবপুরের এই দম্পতি সত্যি কথা বলছে কি না তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপাল ও পুনম অনিচ্ছাকৃতভাবে গুলি চলে যাওয়ার কথা বললেও গোপাল পুনমকে কোনও কারণে খুন করতে চেয়েছিলো কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোপালের বিরুদ্ধে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার জন্য অস্ত্র আইন, খুনের চেষ্টার মতো ধারা দিয়ে মামলা রজু করেছে পুলিশ। শিবপুর থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার গোপালকে হাওড়া আদালতে তুলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। অপরদিকে ওই বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কীভাবে শিবপুরের ওই অভিজাত আবাসনে বসবাস করছিলো গোপাল ও তার স্ত্রী। তা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ তদন্তে আরও জানতে পেরেছে আগ্নেয়াস্ত্রটি সরিয়ে ফেলতে চেয়েছিল গোপাল। কিন্তু তার আগেই পুলিশ ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করে তা বাজেয়াপ্ত করেছে। বিহার থেকে আগ্নেয়াস্ত্রটি এনেছে গোপাল।

Advertisement

পুলিশ জানতে পেরেছে সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র রাখা গোপালের সখ। এই প্রসঙ্গে হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানালেন, ওই আবাসনের বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের গাফিলতির জন্যই এমনটা হয়েছে। ওই আবাসনের গেটগুলিতে কোনও মেটাল ডিটেক্টর নেই। মেটাল ডিটেক্টর থাকলে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কেউ আবাসনে ঢুকলেই তা ধরা পড়ে যেতো। সেই সূত্রে গোপালও ধরা পড়ে যেতো। কিন্তু ওই আবাসনে এসব না থাকাতেই এমন বিপত্তি বলে জানান পুলিশের ওই আধিকারিক। হাওড়া সিটি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, হাওড়ার সব আবাসনগুলিতেই নিরাপত্তারক্ষীদের এবার মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করতে হবে। যাতে এ ধরনের অবাঞ্ছিত ঘটনা না ঘটে। এজন্য খুব শীঘ্রই সব আবাসনগুলিতে নির্দেশ দিতে চলেছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, শিবপুরের ওই আবাসনে প্রচুর হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিত্ব থাকেন। তাঁদের নিরাপত্তার স্বার্থেই শিবপুরের ওই আবাসনে মেটাল ডিটেক্টর বসানোর নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.