CM Suvendu Adhikari

আর ভুঁড়িওয়ালা উর্দিধারী নয়! শুভেন্দুর পরামর্শ মেনে কঠোর শরীরচর্চা পুলিশের

কমিশনারেটের তরফে সমস্ত থানার পুলিশকর্মীদের পাঁচ কিলোমিটার মর্নিং ওয়াক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে

সুমন করাতি
সুমন করাতি

শেষ আপডেট: মে ২৪, ২০২৬, ২১:৪৩

options
link
আর ভুঁড়িওয়ালা উর্দিধারী নয়! শুভেন্দুর পরামর্শ মেনে কঠোর শরীরচর্চা পুলিশের
পুলিশকে কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর।

স্বাস্থ্যই সম্পদ! কিন্তু সেদিকেই আর কতজন নজর রাখে। বয়সের সঙ্গে বাড়তে থাকে ভুঁড়ি। তবে এবার আর নয়। সুস্থ এবং সতেজ রাখতে পুলিশকর্মীদেরও এবার নিয়মিত শরীরচর্চা করতে বলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর এহেন নির্দেশের পরেই ময়দানে পুলিশ। হুগলির চন্দননগর কমিশনারেটের অন্তর্গত প্রত্যেক থানায় শুরু হয়েছে শরীরচর্চার অনুশীলন। মর্নিং ওয়াক থেকে মাঠে দৌড়ানো, ব্যায়াম সবই চলছে। এজন্য নিয়োগ করা হয়েছে প্রশিক্ষিত ট্রেনারও। নিয়োগ করা হয়েছে শ্রীরামপুরের অ্যাথলিট গোপাল রায় ও পূজা সাউকে। আছেন খোদ ডিসি (শ্রীরামপুর) অর্ণব বিশ্বাসও। তাঁদের তত্ত্বাবধানেই শ্রীরামপুর স্টেডিয়ামে চলছে পুলিশের কসরত। সেখানে কেউ কেউ ৮০০ মিটার পর্যন্ত দৌড়লেন, কেউ আবার ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করলেন। রবিবার সকালে মাঠে মর্নিং ওয়াক করতে এসে পুলিশকর্মীদের এ ভাবে দৌড়ঝাঁপ করতে দেখে অনেকেই তাজ্জব বনে যান।

Advertisement

পুলিশে চাকরি পাওয়াটা খুব একটা সহজ নয়। এজন্য কঠিন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। যার মধ্যে অন্যতম শারীরিক কেসারত। তিনি কতটা ফিট! তা যাচাই করে নেন পরীক্ষকরাও। কিন্তু সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে যায়। এদিনের অনুশীলনের পর সেই স্মৃতিরোমন্থন করতে শুরু করতে শুরু করেছেন পুলিশ কর্মীরা। তাঁদের কথায়, চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরে প্রশিক্ষণের সময়ে তাঁদেরকে রোজ মাঠে অনুশীলন করতে হত। এ দিনের ঘটনা সেই পুরনো স্মৃতি আবার নতুন করে উস্কে দিল।

Advertisement

জানা গিয়েছে, কমিশনারেটের তরফে সমস্ত থানার পুলিশকর্মীদের পাঁচ কিলোমিটার মর্নিং ওয়াক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহে অন্তত তিনদিন তা করতেই হবে। শুধু পুরুষরাই নয়, এই তালিকায় রয়েছেন মহিলা পুলিশকর্মীরাও। এই প্রসঙ্গে পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। নিয়মিত শরীরচর্চা করলে শরীরে বাড়তি মেদ থাকবে। বাড়বে ফিটনেস। এজন্যই মুখ্যমন্ত্রী নিয়মিত শরীরচর্চার কথা বলেছেন।

Advertisement

যদিও এহেন উদ্যোগকে কেউ কেউ স্বাগত জানালেও কোনও কোনও পুলিশকর্মী আবার সুর চড়াতেও শুরু করেছেন। একাংশের অভিযোগ, অনেক সময় থানাতে ভালো করে ঘুম হয় না। ঠিক মতো খাওয়া হয় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডিউটি করে যেতে হয়। শুধু তাই নয়, রয়েছে মানসিক চাপও। এই পরিস্থিতিতে নিজেকে কীভাবে ফিট রাখা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পুলিশের একাংশ। যদিও কাজের চাপের কথা স্বীকার করে নিয়ে ডিসি (শ্রীরামপুর) অর্ণব বিশ্বাস জানান, ”পুলিশের চাকরিতে ফিটনেস খুবই প্রয়োজন। তবে কাজের চাপ রয়েছে। সেজন্য ঠিক মতো খাওয়ার সময় থাকে না। তবে তার মধ্যেও কিছুটা সময় বের করে নিয়ে শরীরচর্চা করলে শরীর, মন সবই চনমনে থাকে। তাই ভোরে মর্নিং ওয়াক করতে সব পুলিশকর্মীদের অনুরোধ করেছি। তাতে ভালোই সাড়া মিলেছে।’ 

শুধু শ্রীরামপুর থানার পুলিশকর্মীরা নন, রিষড়া থানার পুলিশকর্মীরাও মুখ্যমন্ত্রীর কথামতো শরীরচর্চা শুরু করে দিয়েছেন। রিষড়া থানার অফিসার ইনচার্জ সঞ্জয় সরকার নিজে একজন ভালো স্পোর্টসম্যান। হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও নিজেকে ফিট রাখার জন্য প্রতিদিন মাঠে যান। দৌড়ানো থেকে ফুটবল খেলা, জিমে অনুশীলন, সব কিছুর সঙ্গেই নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। এই কাজে সহকর্মীদেরকেও উৎসাহিত করছেন। বলে রাখা প্রয়োজন, এর আগে পুলিশের ভুঁড়ি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কিন্তু এমন উদ্যোগ সেই সময় দেখা যায়নি।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.