পোশাকে আপত্তি, ছাত্রীদের শৌচালয়ে ঢুকলেন প্রধান শিক্ষক

ঘটনার জেরে প্রধান শিক্ষককে স্কুলের মধ্যেই হেনস্থা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ১৭:১৩

options
link
পোশাকে আপত্তি, ছাত্রীদের শৌচালয়ে ঢুকলেন প্রধান শিক্ষক

পলাশ পাত্র, তেহট্ট: স্কুলে নয়া পোশাক ফতোয়া জারি করেছেন হেডমাস্টার। আর তার জেরে স্কুল পড়ুয়া থেকে অভিভাবকরা সকলেই ক্ষুব্ধ। কালীগঞ্জ থানার কামারি হাইস্কুলের এই ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে ঘেরাও করে হেনস্তা করা হল। ফলে শনিবার স্কুল চত্বরে ধুন্ধুমার শুরু হয়ে যায়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। হেডমাস্টার স্কুল থেকে চলে যাচ্ছেন, এই মুচলেকা দেওয়ায় অবশেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

Advertisement

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, কামারি হাইস্কুলে চোদ্দশোরও বেশি পড়ুয়া রয়েছে। দিন কয়েক আগেই প্রধান শিক্ষক গোপাল সাধুঁখা সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, ছাত্রীরা স্কুলে লেগিন্স পরে আসতে পারবে না। তার পরিবর্তে স্কুলে সরকারি নিয়মানুযায়ী টু-পার্ট, স্কার্ট পরে আসতে হবে। কিন্তু ছাত্রীরা এই নিয়ম মানছিল না। শনিবার স্কুলে প্রার্থনার সময় কয়েকজন ছাত্রীকে লেগিন্স পরা দেখে বিরক্তি প্রকাশ করেন হেডমাস্টার। গোপালবাবু ফের বলেন, সরকারি নিয়ম মেনেই পোশাক পরতে হবে। এরপরই পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীরা শৌচালয়ে ঢুকে পড়ে। তাদের প্রধান শিক্ষক চিৎকার করে বলেন, “তোরা বাথরুম থেকে বেরিয়ে আয়।” এমনকী ছাত্রীরা শৌচালয় থেকে না বেরোনোয় প্রধান শিক্ষক নিজেই শৌচাগারে ঢুকে তাদের জোর করে বের করে নিয়ে আসার হুমকিও দেন। অভিযোগ, গোপালবাবু কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর শৌচালয়ের ভিতর ঢুকে ছাত্রীদের বের করেন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[পাসপোর্ট পরিষেবা দুয়ারে, বারাকপুর পোস্ট অফিসে চালু অফিস]

এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার পড়ুয়াদের অভিভাবকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। স্কুলের মধ্যে ঢুকে পড়েন তাঁরা। গোপালবাবুকে গালিগালাজ করে, ধাক্কা দিয়ে তাঁর জামাও ছিঁড়ে দেওয়া হয়। এই সময় স্কুলের সহ-শিক্ষকরা গোপালবাবুকে উদ্ধার করে একটি ঘরের মধ্যে নিয়ে যান। কিন্তু তাতেও উত্তেজিত অভিভাবকদের থামানো যায়নি। দরজা ভেঙে সেই ঘরের ভিতর ঢুকে পড়েন তাঁরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। তবে স্থানীয় মানুষদের বিক্ষোভ ক্রমেই বাড়তে থাকে। ওই শিক্ষককে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। চাপে পড়ে, মুচলেকা দেন প্রধান শিক্ষক। বলেন, ‘আমি চলে যাচ্ছি। আমি আট বছর স্কুলে রয়েছি। কিন্ত এদিন যা হল তাতে আমিও আর থাকতে চাইছি না।’ ঘটনার জেরে এদিন বিকেল পর্যন্ত ঘরবন্দিই ছিলেন গোপালবাবু। পরে পুলিশ তাঁকে দেবগ্রাম স্টেশন থেকে ট্রেনে তুলে দেয়।

Advertisement

শনিবার এই ঘটনারে জেরে পঠনপাঠন শিকেয় ওঠে। ঘটনা প্রসঙ্গে ডিআই অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় বলেন, “মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে। কীভাবে সমন্বয় করা যায় তা নিয়ে পদক্ষেপ করা হবে। যাতে এ ঘটনা ফের না ঘটে। বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।

[কড়া নজরদারিতে সোমবার শুরু মাধ্যমিক, এবারও বেশি মহিলা পরীক্ষার্থী]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.