প্রেমে আপত্তি পরিবারের, একই ওড়নায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী যুগল

এলাকায় শোকের ছায়া।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৫, ২০১৮, ১১:৫৭

options
link
প্রেমে আপত্তি পরিবারের, একই ওড়নায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী যুগল

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: যুবক-যুবতীর প্রেম মেনে নিতে পারেনি ছেলের পরিবার। তাই জীবনের বৃত্ত থেকে নিজেদেরকে সরিয়েই নিল যুগল। সোমবার সাতসকালে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাদের দেহ ঝুলতে দেখা যায় পুরুলিয়া-বাঁকুড়া ৬০-এ জাতীয় সড়কের কাছে। ঘটনাস্থল স্থানীয় লায়েকডি মোড় থেকে ডানদিকে হুড়া থানার কুলগড়া-নডিহা যাওয়ার রাস্তায় একটি পুকুরের পাশের জাম গাছ। সেই গাছেই মুখোমুখি একই ওড়নায় গলায় ফাঁস লাগানো দেহ দু’টি দেখতে পান বাসিন্দারা। মৃত যুগলের নাম তুলসীচরণ মাহাতো (২২) ও সাবিত্রী বাউরি (১৮)। মুখে মুখে আত্মহত্যার ঘটনা চাউর হতে এলাকায় ভিড় জমতে শুরু করে। খবর দেওয়া হয় নিকটবর্তী হুড়া থানায়।

Advertisement

[বিদেশের সোনা গলিয়ে ‘দেশি’ বার, শহরে ফাঁস বড়সড় পাচার চক্র]

জানা গিয়েছে, সাবিত্রী থাকেন পুরুলিয়ার মফস্বল থানার ছোট চাঁচড়াতে। তুলসীচরণ রাঁচিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি লাল রঙের ট্রলি ব্যাগ উদ্ধার করেছে পুলিশ। যুগলের মৃতদেহ উদ্ধার করে দেবেন মাহাতো পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে ওই যুবতী নিখোঁজ ছিলেন। ওইদিন রাত পর্যন্ত তিনি বাড়ি না আসায় হুড়া থানায় অভযোগ জানায় পরিবার। কিন্তু রাত পর্যন্ত যুবতীর কোনও খোঁজ পায়নি পুলিশ।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রের খবর,  তুলসীর সঙ্গে সাবিত্রীর বেশ কিছুদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই এলাকায় তাঁদের একসঙ্গে গল্প করতে দেখাও যেত। অভিযোগ, তুলসীর পরিবার এই প্রেমের সম্পর্ককে মেনে নিতে পারেনি। তাই তারা ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। তখন মেয়ের পরিবার মফস্বল থানায় অভিযোগ করে। তারপর পুলিশি মধ্যস্থতায় সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে যায় বলে তুলসীর পরিবারের দাবি। তাঁর বাবা মানিকচাঁদ মাহাতো বলেন, “ওই বৈঠকে ঠিক হয়েছিল তাঁরা মেয়ের বিয়ে দেবেন। কিন্তু মেয়ের বিয়ে হয়নি। আমরাও ওই বৈঠকের কথা মতো ছেলের জন্য মেয়ে দেখে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। তিনটে সম্বন্ধও আসে। কিন্তু তুলসীর তিনটি মেয়েকেই পছন্দ হয়নি। ফলে আমরা চিৎকার-চেঁচামেচি করলে তুলসী রেগে ঘর থেকে পালিয়ে যেতে চায়। তখন আমি বলি ঘর থেকে বের হলে আর ঘরে আসতে পারবি না। তারপরই ছেলে কিছুদিন আগে আবার রাঁচিতেই কাজ করতে যায়। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। তারমধ্যে যে এমন ঘটনা হয়ে যাবে তা ভাবতে পারছিনা।” প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান,  ওই যুবক রাঁচি থেকেই ফিরে প্রেমিকাকে নিয়েই আত্মহননের পথ বেছে নেয়।

Advertisement

[বনগাঁয় অগ্নিদগ্ধ হয়ে গৃহবধূর মৃত্যু, গ্রেপ্তার স্বামী-শাশুড়ি]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.