‘কুলাঙ্গার’ ছেলের নাম মুখেও আনতে চান না সনাতনের মা

কেন এমন করল সনাতন, জবাব চাইছে গোটা পুরুলিয়া।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৩১, ২০১৭, ১৫:০৬

options
link
‘কুলাঙ্গার’ ছেলের নাম মুখেও আনতে চান না সনাতনের মা

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: খবরটা শনিবার রাতেই জেনে গিয়েছিল নদিয়াড়া। পুরুলিয়ার সুচ কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত সনাতন ঠাকুরকে উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার সাতসকালে ওই নদিয়াড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় সেই ‘অভিশপ্ত’ বাড়ির সামনে জটলা। নানা আলোচনা। কয়েকদিন ধরে এই তালাবন্ধ বাড়ির সামনে রাতটুকু বাদে সবসময়ই ভিড় লেগে আছে। সেই ভিড় ভেঙে এগিয়েই দেখা যায়, ধৃত সনাতনের ছোট ছেলের বাড়িতে আশি ছুঁইছুঁই পার্বতী ঠাকুর মাথা নিচু করে বসে আছেন। সামনে দাঁড়াতেই কড়া চোখে হাত নেড়ে সনাতনের মায়ের সটান জবাব, ‘যাও, যাও চলে যাও! কিছু বলব না। এমন ছেলের নাম মুখে আনতে চাই না। শুধু ওকে একটা কথাই জিজ্ঞাসা কর, এমন কাজ ও কেন করল?’ শুধু বৃদ্ধা মা নয়, পুরুলিয়ার মফস্বল থানার নদিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত হোমগার্ড সনাতন ঠাকুরের কাছে জবাব চাইছে গোটা পুরুলিয়া।

Advertisement

PRL-NEEDLE-FUP-2

Advertisement

মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের পিপড়ি থেকে পুরুলিয়া জেলা পুলিশের চারজনের দল রওনা দেবে।  বুধবার সকালে সনাতনকে নিয়ে ট্রেনে করে হাওড়া নামবে তদন্তকারী দল। ওই দিন দুপুরেই পুরুলিয়া সিজেএম আদালতে তোলা হবে ধৃত সনাতনকে। পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার জয় বিশ্বাস বলেন, ‘ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে আনা হচ্ছে। তারপর ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তাকে একদফা জেরা করে। তদন্তে সহযোগিতা দূরের কথা, পুলিশকে রীতিমতো বিভ্রান্ত করছে সনাতন বলে অভিযোগ। এদিন তাকে দুপুরে রুটি–ডাল খাওয়ানো হয়। পিপড়ি থানার ওসি বীরেন্দ্র বিক্রম সিং বলেন, এখানে তার আগে থেকেই যাতায়াত ছিল। সনাতন গাঁজার নেশা করায় ওই এলাকায় তার গাঁজা খাওয়ার সঙ্গীও বেশ কয়েকজন ছিল। তারাই সনাতনকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়। তবে ওই এলাকায় এক দূর–সম্পর্কীয় আত্মীয় থাকলেও, তার ঘরে সনাতনের ঠাঁই হয়নি।

Advertisement

[অবশেষে গ্রেপ্তার পুরুলিয়া সুচকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সনাতন]

সনাতন নিজে রাজ্য পুলিশের হোমগার্ড হওয়ায় পুলিশি তদন্তের মারপ্যাঁচ তার নখদর্পণে। তাই মোবাইলে কথা না বলে পুলিশের চোখে রীতিমতো ধুলো দিয়ে ডেরা বদলে পালিয়ে–পালিয়ে বেড়াচ্ছিল বুড়ো সনাতন। পুলিশের চোখ এড়াতে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ সীমান্ত এলাকায় সে ছিল। শেষমেশ উত্তরপ্রদেশের পিপড়ি থানা এলাকার রেনুকোটে একটি হনুমান মন্দিরে সাধুর ছদ্মবেশে লুকিয়ে ছিল। এদিকে সামাজিক তদন্ত কমিটির রিপোর্ট এদিনই শিশু সুরক্ষা কমিশনের কাছে পাঠান পুরুলিয়ার জেলাশাসক অলোকেশ প্রসাদ রায়। এই কমিটি পরে সনাতনকে জেরা করে আবার একটি সাপ্লিমেন্টারি রিপোর্ট পাঠাবে।

ছবি – সুনীতা সিং

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.