রামকৃষ্ণ মিশনে বেনজির হামলা, অভিযুক্ত মোর্চা

ভগিনী নিবেদিতার স্মৃতি বিজড়িত রায় ভিলা ভাঙচুর।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭, ১০:৩৩

options
link
রামকৃষ্ণ মিশনে বেনজির হামলা, অভিযুক্ত মোর্চা

ব্রতীন দাস, শিলিগুড়ি: ছন্দে ফেরার মুখে পাহাড়ে ছন্দপতন। এবার দুষ্কৃতী নিশানায় দার্জিলিংয়ের রামকৃষ্ণ মিশন। ভাঙচুর হল ভগিনী নিবেদিতার স্মৃতি বিজড়িত রায় ভিলা। তছনছ করে দেওয়া হয় ভবনের একাংশ। দানবক্স থেকে কয়েক হাজার টাকা লুট করা হয়। এই ঘটনায় মোর্চার দিকে দিকে আঙুল উঠলেও, তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

Advertisement

[২০০ বছরের পুরনো শিউলি গাছের ফুলে আজও পূজিত হন লাহা বাড়ির দেবী]

Advertisement

রামকৃষ্ণ মিশন পরিচালিত কোনও প্রতিষ্ঠানে এধরনের ঘটনা নজিরবিহীন। মিশনের কেয়ারটেকার স্বামী নিত্যাসত্যানন্দ জানান, বুধবার গভীর রাতে দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালায়। ঘর তছনছ করা হয়। প্রার্থনাকক্ষের দেওয়ালের ছবিগুলি নামিয়ে চলে ভাঙচুর। এমনকী দানপত্রও লুট করা হয়েছে। ভারতবর্ষে কোথাও রামকৃষ্ণ মিশন পরিচালিত সংস্থা এরকম হামলার মুখে পড়েনি বলে দাবি স্বামীজির। দার্জিলিং সদর থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। গোটা ঘটনা জানানো হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, দেশ এবং দেশের বাইরে এই নিয়ে প্রতিবাদ হওয়া উচিত। গৌতম দেব বিদ্রুপের সুরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেকে স্বামী বিবকোনন্দর ভক্ত বলে দাবি করেন। এই বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি করেছেন।

Advertisement

[নিরাপত্তা শিকেয়, অভিযোগে কলেজে তালা দিল টিএমসিপি]

দার্জিলিংয়ের লেবং কার্ট রোডে অবস্থিত চারতলার এই ভবনটি হেরিটেজ হিসাবে পরিচিত। ঐতিহ্যবাহী বাড়িতে ভগিনী নিবেদিতা সাত দফায় থেকেছিলেন। এখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন স্বামীজির এই শিষ্যা। মোর্চার আন্দোলনের সময় জিএলপি বাহিনি ওই ভবনে থাকত। ২০১৩ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে বাহিনী সরিয়ে ভবনের সংস্কারের কাজ শুরু হয়। দায়িত্ব দেওয়া হয় রামকৃষ্ণ মিশনকে। মিশনের উদ্যোগে কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের কাজ শুরু হয় ওই ভবনে। যেখানে পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া এলাকার ছেলেমেয়েদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মূলত স্কিল ডেভলপমেন্টের কাজ হত। রায় ভিলার হামলার ঘটনায় অভিযোগের তির মোর্চার দিকে। তবে বিমল গুরুংয়ের দল জানিয়েছে এই ঘটনায় তাদের কোনও যোগ নেই।
ROY-VILLA.jpg-2পাহাড় সচল করতে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গিয়েছে বিনয় তামাংকে। বহিষ্কৃত এই মোর্চা নেতা এদিন দার্জিলিং এবং কার্শিয়াংয়ের ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ান। তাদের সাহস জোগান। কার্শিয়াংয়ে আর এক অপসারিত মোর্চা নেতা অনীত থাপা তাঁর সঙ্গে যোগ দেন। পাশাপাশি শিলিগুড়ি এবং জলপাইগুড়ির সংশোধনাগারে ধৃত মোর্চা সমর্থকদের পাশে দাঁড়ান বিনয়। তাদের মুক্তির ব্যাপারে আইনি পথে এগোনোর কথা জানান তিনি। আর কয়েক দিনের মধ্যে পাহাড় স্বাভাবিক বলে বিনয় আশাবাদী।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.