RSS

এবিভিপি-বিএমএসের নামে সক্রিয় রাতারাতি গজিয়ে ওঠা বিজেপি! ‘গিরগিটি’ রুখতে সক্রিয় সংগঠনগুলি

তথ্য বলছে, বিধানসভার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেসের হাজার হাজার কর্মী রাতারাতি আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবং শ্রমিক সংগঠনের স্বঘোষিত কর্মী হয়ে উঠেছেন!

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৯, ২০২৬, ২০:৫৭

options
link
এবিভিপি-বিএমএসের নামে সক্রিয় রাতারাতি গজিয়ে ওঠা বিজেপি! ‘গিরগিটি’ রুখতে সক্রিয় সংগঠনগুলি
ফাইল ছবি।

বাংলায় চার মে, ভোটের ফলপ্রকাশের পর বদলেছে অনেক কিছুই! শুধুই রাজ্যে ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে তাই নয়, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যেভাবে দিনে রাতে নেতারা রং বদলচ্ছে তাতে বোধহয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঠিক আখ্যা দিয়েছেন- ‘গিরগিটি’। তবে সেই পরিস্থিতিতে শুধু তৃণমূলের অস্বস্তি বেড়েছে তাই নয়, চরম বিব্রত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসও। বিশেষ করে আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি এবং শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সংঘ, বিএমএস নেতৃত্ব খুব বিরক্ত। রাতারাতি যেভাবে তৃণমূলের কর্মীরা নিজেদের রঙ গেরুয়া বলে পরিচয় দিচ্ছে, তাতে চরম ক্ষুব্ধ সংগঠনের নেতৃত্বরা। আর তাই ‘গিরগিটি’ খুঁজতে ময়দানে নামলেন নেতারা। 

Advertisement

তথ্য বলছে, বিধানসভার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেসের হাজার হাজার কর্মী রাতারাতি আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবং শ্রমিক সংগঠনের স্বঘোষিত কর্মী হয়ে উঠেছেন! অভিযোগ, তৃণমূলের এক বড় সংখ্যক ছাত্রনেতা নিজেদের অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের কর্মী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বহু তৃণমূল কর্মী, যাঁরা সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাননি, তাঁরা ভারতীয় মজদুর সংঘের সদস্য বলে নিজেকে দাবি করতে শুরু করেছেন। শুধু তাই নয়, অটো এবং টোটো (ব্যাটারিচালিত রিকশা) চালকদের সংগঠনের মতো ছোট ছোট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টাও করছে এই নেতারা। এবিভিপির তরফে ইতিমধ্যেই এমন সব অভিযোগে ১৭ টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, যে সমস্ত সংগঠন রাতারাতি শিবির বদলে ফেলছে তাদের চিহ্নিত করার কাজও করা হচ্ছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এই সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য সামনে আসতেই এবিভিপির তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি করা হয়েছে। যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের একটি ভুয়ো লেটারহেড ব্যবহার করে রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে দিনে দিনে এই ধরনের কর্মকাণ্ড বেড়েই চলেছে। এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য বলেন, ”গত ৪ মে ফলাফল প্রকাশের পর থেকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অধীনস্থ বহু ছাত্র ইউনিয়ন তাদের সোশাল মিডিয়ায় প্রোফাইলের নাম ও পরিচয় বদলে ফেলে এবিভিপির নাম ব্যবহার করতে শুরু করেছে। আগে যে সমস্ত সোশাল মিডিয়া গ্রুপের নাম টিএমসিপি ছিল, সেগুলির বেশ কয়েকটির নাম রাতারাতি বদলে ফেলা হয়।” তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য আমাদের নাম ব্যবহার করছে। আমরা ইতিমধ্যে এই বিষয়ে ১৭টি অভিযোগ দায়ের করেছি। মানুষ যাতে এই ধরনের ভুয়ো সংগঠনগুলোকে চিনতে পারে, তার জন্য সমাজমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে।

Advertisement

এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য বলেন, ”গত ৪ মে ফলাফল প্রকাশের পর থেকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অধীনস্থ বহু ছাত্র ইউনিয়ন তাদের সোশাল মিডিয়ায় প্রোফাইলের নাম ও পরিচয় বদলে ফেলে এবিভিপির নাম ব্যবহার করতে শুরু করেছে। আগে যে সমস্ত সোশাল মিডিয়া গ্রুপের নাম টিএমসিপি ছিল, সেগুলির বেশ কয়েকটির নাম রাতারাতি বদলে ফেলা হয়।”

তবে বেশিদিন এই কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য। এবিভিপির এই নেতা বলেন, ”যারা শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে আমাদের নাম ব্যবহার করছে, তারা বেশিদিন এই কাজ চালিয়ে যেতে পারবে না। কারণ সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমাদের নিজস্ব ইউনিট রয়েছে। যে সমস্ত শিক্ষার্থী এবিভিপিতে যোগ দিতে চান, তাঁদের আমরা সরাসরি আমাদের সাংগঠনিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।” অন্যদিকে ফল ঘোষণার পরেই বহু তৃণমূল নেতা কর্মী গায়ে গেরুয়া আবির মেখে, বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে শুরু করেছেন রাতারাতি। বিজেপি এই ধরনের লোকেদের ‘ভোট-পরবর্তী বিজেপি’ কর্মী হিসেবে বর্ণনা করেছে—অর্থাৎ, যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের পরাজয়ের পর নিজেদের রঙ বদলেছে। যদিও এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আগেই জানিয়ে দেন, কোনও ‘ভোট-পরবর্তী বিজেপি’ কর্মীকে দলে গ্রহণ করা হবে না। তিনি এও জানান যে, বিজেপির নিজস্ব কোনও শ্রমিক সংগঠন বা ছাত্র সংগঠন নেই। তবে বিজেপি সূত্রের দাবি, যাঁরা সরাসরি বিজেপিতে প্রবেশাধিকার পেতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁরা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে এবিভিপি বা বিএমএসের মতো সংঘ-অনুমোদিত সংগঠনগুলোতে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন।

বিএমএস নেতৃত্বও হঠাৎ করে এমন কিছু স্বঘোষিত কর্মীর সংখ্যাবৃদ্ধি লক্ষ্য করেছেন, যাঁরা এর আগে অন্য কোনও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অথবা কোনও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে যাঁদের কোনও সম্পর্ক ছিল না। বিএমএসের এক শীর্ষ নেতা জানান, যাঁরা সম্প্রতি বিএমএসের নাম ব্যবহার করা শুরু করেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই বিষয়ে স্থানীয় নেতৃত্বকেও সতর্ক করা হয়েছে। বিএমএসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ ভট্টাচার্য বলেন, ”শ্রমিক সংগঠনের নামে যাঁরা দুর্নীতি ও অত্যাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের সাথে বিএমএসের আদর্শ কোনওভাবেই মেলে না। গত ৫০ বছর ধরে এই রাজ্য যে ধরনের নোংরা রাজনীতির শিকার হয়েছে, তা থেকে মুক্ত করে আমরা এই রাজ্যে একটি দুর্নীতিমুক্ত শ্রমিক সংগঠনের মডেল নিশ্চিত করব।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন