মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে রক্তদানের আয়োজন, জন্মদাত্রীকে নীরবে শ্রদ্ধা ছেলের

পুরুলিয়ার আইনজীবীর উদ্যোগকে কুর্নিশ শহরবাসীর।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২১, ২০১৮, ০৫:৪১

options
link
মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে রক্তদানের আয়োজন, জন্মদাত্রীকে নীরবে শ্রদ্ধা ছেলের

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: ইচ্ছে করলেই বাড়িতে হরিনাম সংকীর্তনের মাধ্যমে দিনটি কাটিয়ে দিতে পারতেন। কিংবা আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের নেমন্তন্ন করে খাওয়ানোর সুযোগ ছিল। না, এভাবে ইহলোক ত্যাগ করা মাকে সম্মান জানাতে চাননি পুরুলিয়ার বিশ্বরূপ পট্টনায়েক। কারণ তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়েছিল ক্যানসারে। তাই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন মাকে স্মরণ মানে নীরবতা, খাওয়া-দাওয়াই সব নয়। তার বাইরেও একটা দুনিয়া আছে। যে পৃথিবীতে অজস্র কুঁড়ি রক্তের অভাবে অকালে ঝরে যায়। তাদের জন্য মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী রক্তদানের আয়োজন করলেন পেশায় আইনজীবী। নিজে রক্ত দিয়ে অন্যদের উৎসাহ দিয়ে পথ দেখালেন পুরুলিয়ার মানুষটি।

Advertisement

[ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মেধাবী পড়ুয়ার পাশে সহপাঠীরা, পুজোর চাঁদায় চিকিৎসা]

Advertisement

পুরুলিয়া শহরের দেশবন্ধু রোডের বাসিন্দা বিশ্বরূপ পট্টনায়েক। তিনি পেশায় পুরুলিয়া আদালতের আইনজীবী। শনিবার বিশ্বরূপবাবু বাসভবনে মায়ের স্মৃতিতে রক্তদানের উদ্যোগ নেন। এদিন তাঁর বাড়ির রক্তদান শিবিরেই প্রায় পঞ্চাশ জন রক্তদানে এগিয়ে আসেন। এদিন সকাল থেকেই পট্টনায়েক পরিবারে ভিড় লেগেছিল। যেমন রক্তদাতারা হাজির ছিলেন তেমনই এই রক্তদান কর্মসূচিকে সহায়তা করতে এসেছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরা। মায়ের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে এভাবে রক্তদান অনুষ্ঠানের উদ্যোগকে তারিফ করেছেন এলাকার মানুষজন থেকে দেবেন মাহাতো পুরুলিয়া সদর হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মীরা।

Advertisement

[মাঝ আকাশে দুই বিমানকর্মীর বিয়ে দিয়ে শিরোনামে পোপ ফ্রান্সিস]

গত বছর এই ২০ জানুয়ারি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান পূর্ণিমা পট্টনায়েক। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার তাঁর কেমোথেরাপি চলত। কেমো চললে হিমোগ্লোবিন কমে যায়। তাই তাঁরও সেইসময় রক্তের প্রয়োজন হত। কিন্ত রক্ত জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হত পরিবারকে। তাই সেই উপলব্ধি থেকেই পট্টনায়ক পরিবারের এমন রক্তদানের আয়োজন। আইনজীবী বিশ্বরূপ পট্টনায়ক বলেন, “শুনেছি এই জেলায় এখন রক্তের সঙ্কট চলছে। তাই মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে এমন পরিকল্পনা নিই। যাতে এই রক্ত দিয়ে কোনও মুমুর্ষু মানুষের প্রাণ বাঁচে।” এদিন ওই আইনজীবী পুত্র বাড়িতে মায়ের বড় ছবি টাঙিয়ে, ফ্লেক্স নিয়ে রক্তদান সফল করতে সকাল থেকেই ব্যস্ত ছিলেন। বিশ্বরূপবাবু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা যেমন রক্ত দেন তেমনই ওই ছবি ও ফ্লেক্সের মাধ্যমে পথ চলতি সাধারণ মানুষকেও এই কর্মসূচিতে শামিল করান।

ছবি: সুনীতা সিং

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.