রাজা দাস, বালুরঘাট: গণনায় কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে সরব দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিজেপি। প্রশাসন থেকে জেলা পুলিশ সুপার এবং অনান্য আধিকারিকদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে জেলা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ আন্দোলনের ডাক জেলা বিজেপি নেতৃত্বর।
[জিতেও ফাঁপরে তৃণমূল, সংরক্ষিত জেলা সভাধিপতির আসন নিয়ে প্রতিযোগিতা বাঁকুড়ায়]
জানা গিয়েছে, দক্ষিন দিনাজপুর জেলার ১৮টি জেলা পরিষদ, ৮টি ব্লকের ১৮৭টি পঞ্চায়েত সমিতির আসন এবং ৬৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৯৭৫টি আসন রয়েছে। সেখানে ৫৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও ৮টি পঞ্চায়েত সমিতির আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে শাসকদল। একটি গ্রাম পঞ্চায়েত আসন বয়কটে ভোট হয়নি। বাকি আসনের ভোটে ছাপ্পা, ব্যালট লুট করে আগুন লাগুন লাগানো, জলে ফেলে ও ভেঙে দেওয়ার ঘটনা সামনে আসে। এককথায় সন্ত্রাসের বাতাবরনে ভোট করানোর অভিযোগ ওঠে শাসকদলের বিরুদ্ধে। এমনকী ভোট গণনার দিন দক্ষিণ দিনাজপুরে গণনাকেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্স ও পেপার নিয়ে পালাতে যায় দুষ্কৃতিরা। জেলার ৮ টি ব্লকে গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির গণনা চললেও বালুরঘাট কলেজে চলে বালুরঘাট ব্লকের গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের সব আসনের গণনা। সারাদিন স্বাভাবিক ভাবে গণনা চলে গ্রাম পঞ্চায়েত আসনগুলির। সন্ধ্যার পর পঞ্চায়েত ও জেলা পরিষদ আসন গণনার শুরুতে আচমকা একদল দুষ্কৃতী গণনাকেন্দ্রে ঢুকে পড়ে। তারা শুন্যে গুলি চালিয়ে বিরোধী দলের এজেন্ট ও কর্মীদের ভয় দেখিয়ে গণনায় জালিয়াতি ও কারচুপি করতে সাহায্য করে বলে অভিযোগ। জালিয়াতি করেই পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের সব আসনে শাসক তৃণমুল জয়লাভ করেছে বলে দাবি বিজেপি-সহ বিরোধী বাম ও অন্যান্যদের।
[তৃণমূলকে ভোট না দেওয়ায় মহিলাকে ৩০০ বার ‘ওঠবোসে’র শাস্তির অভিযোগ]
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিজেপি সভাপতি শুভেন্দু সরকার বলেন, তৃণমূল সাংসদ এর নেতৃত্বে এসপি-সহ অনান্য পুলিশ আধিকারিকদের সাহায্য নিয়ে গণনাকেন্দ্রে ঢুকে পরে দুষ্কৃতিরা। তারা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভয় দেখায় সবাইকে। সাংসদের নেতৃত্বে তৃণমূলের কর্মীরা গণনাকেন্দ্রে ঢুকে ব্যালটে জালিয়াতি করে। তারা বিজেপির পাওয়া ভোটগুলিকে ক্যান্সেল করতে থাকে। এইভাবে তারা ১৮টি জেলা পরিষদ এবং পঞ্চায়েত সমিতির আসন দখল করে। নাহলে অন্তত ৬টি জেলা পরিষদ আসন বিজেপির হত বলেই দাবি শুভেন্দুবাবুর। পুলিশ ও প্রশাসনের এই ভূমিকার প্রতিবাদে তারা অভিযোগ করেছেন জেলাশাসকের কাছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি তাদের। এনিয়ে বুধবার তারা জেলা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ আন্দোলনের পরিকল্পনা নিয়েছেন। তৃণমূল জেলা সাধারণ সম্পাদক প্রবীর রায় বলেন, বিরোধীদের অভিযোগ মিথ্যা। এই জবাব যদি দেওয়ার থাকে তবে তা তারা নির্বাচন কমিশনকে দেবেন।
[ভোটগণনা কেন্দ্রে হামলা, একাই লড়াই করে ছাপ্পা রুখলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক]
সর্বশেষ খবর
-
নন্দীগ্রামে প্রার্থী হবেন মমতা? খোঁচা দিয়ে দিলীপ বললেন, ‘আর কোথায় কোথায় হারতে চান…’
-
মোদিকে টক্কর দেওয়া অজয় রাই নন, উত্তরপ্রদেশে যোগীর বিরুদ্ধে মুসলিম মুখের ভাবনা কংগ্রেসের
-
বাঘের হানায় ‘ব্রেনডেড’ অজিতের অঙ্গ সংগ্রহে ১২ ঘণ্টা দেরি! কেন? উঠছে প্রশ্ন
-
ভূমিধসে বিধ্বস্ত সিকিম, পাহাড় থেকে নামছে কাদার স্রোত! বন্ধ রিম্বি-ইয়াকসুম প্রধান সড়ক
-
‘নকল বেবি বাম্প, সব ভুয়ো’, অন্তঃসত্ত্বা দীপিকাকে নিয়ে সন্দেহ! মোক্ষম জবাব ‘মস্তানি’র