সতীনের সঙ্গে লড়াইয়ে কাটা গেল কান, জুড়ল হাসপাতাল

আঁচলে বেঁধে কান গেল ডাক্তারের কাছে, ছ’ঘণ্টা পরে অস্ত্রোপচার।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০১৭, ০৩:১৩

options
link
সতীনের সঙ্গে লড়াইয়ে কাটা গেল কান, জুড়ল হাসপাতাল

গৌতম ব্রহ্ম: বর্ণপরিচয়ের রাখালের গল্প মনে আছে? যে কিনা মাসির কান কামড়ে ছিঁড়ে নিয়েছিল? কিংবা মাইক টাইসন বনাম ইভান হোলিফিল্ডের ঐতিহাসিক ডুয়েল? মুষ্টিযুদ্ধের যে মঞ্চে হোলিফিল্ডের কান কামড়ে ছিঁড়ে নিয়েছিলেন টাইসন। বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামেও দুই সতীনের লড়াইয়ে খোয়া গেল একজনের কান। হোলিফিল্ডের মতো সামান্য অংশ নয়। গোটা কানটাই শরীর থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল। কাপড়ের খুঁটে বন্দি হয়ে সেই ছেঁড়া কান হাসপাতালে এল। অবিশ্বাস্য তৎপরতায় ইএনটি সার্জেন তা জুড়েও দিলেন।

Advertisement

[এবার তারাপীঠ শ্মশানেও সাধুদের আধার, ভোটার কার্ড বাধ্যতামূলক]

Advertisement

কোনও বেসরকারি হাসপাতাল নয়, এই কৃতিত্ব দেখিয়েছে একটি সরকারি হাসপাতাল। মালদহ মেডিক্যাল কলেজের সেই অপারেশন সফল হবে কি না সময়ই বলবে। তবে, প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে ছিঁড়ে যাওয়া গোটা একটা কান জোড়া লাগানো অভূতপূর্ব। উপরন্তু সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে এই ঘটনা বিরলের মধ্যে বিরলতম বলে মেনে নিয়েছেন অনেক নামী ইএনটি সার্জনও। চাঁদমণি বিবি। বাড়ি মালদহের কালিয়াচক থানার মোজামপুরে। বৃহস্পতিবার সকাল আটটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। ঝগড়া চলাকালীন হঠাৎই চাঁদমণির ডান কান কামড়ে ছিঁড়ে নেয় তাঁর সতীন। দুপুর দেড়টা নাগাদ চাঁদমণিকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন স্বামী সেন্টু শেখ। চাঁদমণির কাপড়ের আঁচলের গিট খুলতেই বেরিয়ে আসে কানের দুল পড়া সেই কাটা কান। দৃশ্য দেখে চমকে ওঠেন ইএনটি সার্জেন ডা. অতীশ হালদার। যেভাবে স্যালাইনের জলে চুবিয়ে প্লাস্টিক বন্দি করে বরফ মুড়ে কানটি আনার কথা ছিল সেভাবে আনা হয়নি। বরং নোংরা কাপড়ে মুড়ে আনা হয়েছে। তবু রোগীর বাড়ির কাতর অনুরোধে ঝুঁকি নিলেন অতীশবাবু। প্রায় দেড় ঘণ্টা টানা অপারেশন করে কান জুড়লেন। সঙ্গী ছিলেন জুনিয়র ডাক্তার তারিক আব্দুল আজিজ।

Advertisement

অতীশবাবু জানালেন, “তিন-চারদিন গেলে বোঝা যাবে অপারেশন কতটা সফল। তবে রক্ত সংবহন বা ‘ভাসকুলারিটি’ ঠিক থাকলে কান জুড়ে যেতেও পারে। সেই আশাতেই ঝুঁকিটা নিয়েছি।” এর আগে পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো হাসপাতালে কাটা আঙুল জোড়া লাগানো হয়েছে। সেই আঙুলও নিয়ম মেনে হাসপাতালে আসেনি। চিকিৎসক পবন মণ্ডল সীমিত পরিকাঠামো নিয়ে আঙুল জুড়েছিলেন। অতীশবাবুরা আরও বড় ঝুঁকি নিয়েছেন। বৃত্তান্ত শুনে পিজি হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের প্রধান ডা. অরুণাভ সেনগুপ্তর প্রতিক্রিয়া, “আস্ত কান কামড়ে ছিঁড়ে নেওয়া কঠিন। তবে আরও অনেক বেশি কঠিন জোড়া লাগানো। প্রশংসনীয় উদ্যোগ। অতীশের সাফল্য কামনা করছি।”

[মহিলা পুলিশের প্রেমের জালে পড়ে হাজতে চোর]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.