বালি ঘাটের দখল রাখতে পঞ্চায়েত সমিতির আসন নিয়ে কাজিয়া সিউড়িতে

জটিলতা কাটাতে আসরে অনুব্রত মণ্ডল।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০১৮, ১১:২৯

options
link
বালি ঘাটের দখল রাখতে পঞ্চায়েত সমিতির আসন নিয়ে কাজিয়া সিউড়িতে

নন্দন দত্ত, সিউড়ি: বালি ঘাটের দখল রাখতে সিউড়ি এক ব্লকের ১০ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির আসন ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। স্থানীয় দুই প্রার্থী ছাড়াও ওই আসনের জন্য বহিরাগত এক প্রার্থী তৃণমূলের হয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে আলুন্দা কাখুড়িয়া গ্রাম থেকে গণস্বাক্ষর করে তৃণমূল জেলা সভাপতির কাছে অভিযোগ জানালেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়েছে যে জট কাটাতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। যদিও জেলা সভাপতি দাবি করেন কোথাও দলের মধ্যে কোনও গন্ডগোল নেই। তিন জনেই দলের সক্রিয় কর্মী। তাঁদের একজনকে প্রতীক দেবে দল। বাকিরা তাঁকে সহযোগিতা করবে। তিন প্রার্থীও দাবি করেছে দল যা সিদ্ধান্ত নেবে তাকেই শিরোধার্য করে নেবেন তাঁরা। কিন্তু দল যাতে তাঁদের পাশে থাকে সে জন্য তৎপরতা শুরু করেছে তিন প্রার্থী। বিশেষ করে এক বিধায়কের তৎপরতায় উদ্বিগ্ন গ্রামবাসীরা।

Advertisement
[জিএসটি-র কোপে পড়ে ভোটের বাজারে বেজায় চটে ‘নির্বাচন’! ব্যাপারটা কী?]

সিউড়ি এক নম্বর ব্লকের জেলা পরিষদ থেকে পঞ্চায়েত সমিতির সবকটি আসনই বিরোধীশূন্য। কিন্তু লড়াই শুরু হয়েছে দলের নিজেদের মধ্যে।উল্লেখ্য এক নম্বর ব্লকের ৯৭টি আসনের জন্য সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরির নেতৃত্বে ১১ জনের একটি নির্বাচনী কমিটি করে দেওয়া হয়। সেই কমিটি সব আসনে নির্দ্ধিধায় ৯৭ জন প্রার্থী নির্বাচন করে দিলেও বিবাদ শুরু হয় ১০ নম্বর আসনটিকে ঘিরে। কারণ দলের তরফে ওই আসনে চলতি সমিতির প্রার্থী শেখ সাহেবকে আর প্রার্থী করতে চায়নি এলাকাবাসীরা। পরিবর্তে তাঁরা কেরামত আলির নামে অনুমোদন দেন। কিন্তু শেষমেশ মানাই চিত্রকর নামে পঞ্চায়েতের চলতি এক সদস্যকে প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিতে বলে দল। কিন্তু মনোনয়নের শেষপর্বে করম হোসেন খান ও পঞ্চায়েত সমিতির তিলপাড়ার পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ শেখ কাজল মনোনয়ন জমা দেন। তাতে বিপাকে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে দল। বিবাদ এতটাই চরমে ওঠে যে নির্বাচনী কমিটির বেশিরভাগ সদস্য পদত্যাগের হুমকি দেন। এরই মধ্যে সোমবার এলাকার পাঁচশো গ্রামবাসী বহিরাগত প্রার্থী না করার দাবি পেশ করে। তাঁদের দাবি, নগুরী পঞ্চায়েতের বাসিন্দা পেশায় আইনজীবী করম হোসেন খানকে যাতে প্রার্থী করা না হয়। উল্লেখ্য, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ কাজল শেখ ও করম হোসেন খান দুজনেই বালির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
[বিজেপি প্রার্থীর হাতের আঙুল কেটে ‘শিক্ষা’ তুফানগঞ্জে, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে তপ্ত দিনহাটা]

এদিকে ১০ নম্বর আসনে ময়ূরাক্ষী নদীর দুর্গাপুরের বালি ঘাট ঘিরে দীর্ঘদিনের লড়াই অব্যাহত। বোমাবাজি থেকে সম্পত্তি ক্ষয়ের ঘটনাও ঘটেছে। যদিও কাজল শেখের দাবি, দল যে সিদ্ধান্ত দেবে তাই মেনে নেব। আমি পাশের ওয়ার্ডেই চলতি সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছি। অন্যদিকে, এবার সমিতির মধ্যে ৯ জন মহিলা প্রার্থী। সেখানে একজন শিক্ষিত মানুষের দরকার। কিন্তু নির্বাচন কমিটির দাবি অবিতর্কিত, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থী দরকার। যাকে বাছতে গিয়েই বিপাকে কমিটি। দ্বিধায় গ্রামবাসীরা। তাঁরা লিখিতভাবে জানিয়েছেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী জয়ী হলেও পছন্দসই প্রার্থী না হলে তাঁরা তৃণমূল ছেড়ে অন্যদলে যোগ দেবেন।

Advertisement

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.