উচ্চতা বেশি নয়, তবুও সফল নাট্যকার হওয়ার স্বপ্ন তাঁদের চোখে

আকৃতিতে বামন হলেও নাটকের মঞ্চে এঁরা ছাপিয়ে যান অনেককেই।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯, ১৫:৩২

options
link
উচ্চতা বেশি নয়, তবুও সফল নাট্যকার হওয়ার স্বপ্ন তাঁদের চোখে

সব্যসাচী ভট্টাচার্য: বামন হয়ে চাঁদে ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখছেন ওঁরা। আর ওঁদের সেই স্বপ্ন দেখাচ্ছেন এক যুবক। পবিত্র রাভা। তাঁর পরিচয় বলতে ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামার প্রাক্তনী তিনি। তাঁর উৎসাহ, অনুপ্রেরণাতেই স্বপ্নকে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে আনতে দিলীপ কাকোতি, নয়ন দইমারি, তোরা সোনা মাহিলারি, রঞ্জু বৈশ্য, টিমথিয়াস তিরকে-রা বেছে নিয়েছেন মঞ্চকে। আপন দক্ষতাকে তুলে ধরে নিজেদের অভিনেতা-অভিনেত্রী হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার অদম্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ওঁরা। এঁদের পরিচয় এরা প্রত্যেকেই বামন। হয়তো সার্কাসের জোকার হওয়াই ভবিতব্য ছিল ওঁদের। কিন্তু তা হয়নি। বরং পবিত্র রাভার সঙ্গে পরিচয়ের পর থেকে এক অন্য খাতে বইতে শুরু করেছে ওঁদের জীবন।

Advertisement

[লস্কর জঙ্গিদের ‘বিগেস্ট সাপোর্টার’, বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি পারভেজ মুশারফের]

২০০৩ সালে ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা থেকে পাস করেন পবিত্র। ফিরে আসেন নিজের গ্রাম অসমের উদালগুড়ি জেলার টাংলায়। নতুন কিছু করার ভাবনা মাথায় চেপে বসে তাঁর। এরপর ২০০৮ সালে বামনদের নিয়ে নাটকের দল গড়েন। কিন্তু শুধু নিছকই একটা দল গড়ে নাট্য চর্চা করাই নয়। সমাজে বামনদের নিয়ে যে অনেক তুচ্ছ তাচ্ছিল্য রয়ে গিয়েছে, তা মনে রেখেই নিজের গাঁটের কড়ি খরচে পাঁচ বিঘা জমিতে গড়ে তোলেন ছোট্ট একটা গ্রাম। নাম দেন ‘আমার গাঁও’। সেখানেই সবাই মিলে চাষ আবাদ করেন, একসঙ্গেই হয় রান্না-খাওয়া। আর এসবেরই পাশাপাশি চলে অভিনয় শিক্ষার শিবির। সারা দেশ ঘুরে বামন শিল্পীদের নিয়ে নাটকের শো করেছেন প্রবিত্র। নিজে মেরিকম, ট্যাঙ্গো চার্লি, মুখবিরের মতো বলিউডি ছবিতে অভিনয় করেছেন। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ফরাসি ছবিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা। অসমিয়া ছবিতেও অভিনয় করেছেন। বলিউডের হাতছানি রয়েছে। কিন্তু নাটককে তিনি ছাড়তে পারবেন না বলে জানিয়েছেন।

Advertisement

[কুয়োর জল আচমকা নীল, রানিগঞ্জে শোরগোল]

পবিত্র-র নাটকের দলের সদস্য রঞ্জত দাস। ২০১১ সালে শিলিগুড়ি এসেছিলেন। সার্কাসের জোকার ছিলেন তিনি। বললেন, “তখন মানুষ হাততালি দিত, এখনও দেয়। কিন্তু এখন সঙ্গে মেলে সম্মান ও শ্রদ্ধা। আমরা বামন হলেও ছোট নই। ভাল আছি।” দলের অপর সদস্য ম্যাক্স। আসল নাম অন্য। বললেন, “নামটা বড় তাই ছোটো করে সবাই ম্যাক্স নামে ডাকে। আমি স্কুলে পড়াতাম। বামন বলে লোকে টিটকিরি দিত। কিন্তু, আমি লম্বা না হলেও আর পাঁচজনের মতোই সব কাজ করতে পারি। নাটকের মাধ্যমেই তা বলার চেষ্টা করি। আমাদের বাঁচার রসদ এখন শুধুই নাটক।” শিলিগুড়িতে ওঁরা এসেছিলেন নিজেদের নাটক নিয়ে। নাম ‘কিনু কও’ (অর্থাৎ কী বলবে?) দলের অভিনেতা অভিনেত্রীদের বয়স ১০ থেকে ৪৫ । নাটক ছাড়া অধিকাংশই বেকার। পবিত্র চান, নাটকের মাধ্যমেই ওঁরা নিজেদের সফল পেশাদার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করুক। এমনটাই ইচ্ছে দলের সদস্য রঞ্জত দাস, শিবরিনা দইমারিদের। দেহের উচ্চতা না বাড়লেও বড় স্বপ্ন দেখতে দোষ কি? বলছেন বামনরা।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.