সংগ্রাম সিংহ রায়, শিলিগুড়ি: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো টিঁকি তার নেই বটে। ক্লাসেও যে সব সময় প্রথম হয়েছেন তা-ও নয়। তবু পড়ার জন্য জেদ, দারিদ্রকে উপেক্ষা করে লড়াই। আর হিমঠান্ডায় খোলামাঠে বসে পড়াশোনা করেই তাঁর এখন পরিচিতি ‘শিলিগুড়ির বিদ্যাসাগর’ নামে। নিজে অবশ্য সেই নিয়ে অতটা ভাবতে রাজি নন। তাঁর ধ্যান জ্ঞান পদার্থবিদ্যা। তিনি এখন মজে আইজাক নিউটন আর আইনস্টাইনের থিওরির ভাবনায়। ইচ্ছে, ভবিষ্যতে পদার্থবিদ্যায় গবেষণা করার।
[মাসে কোটি টাকার উপর আয় ৬ বছরের খুদের, কীভাবে জানেন?]
নাম, সুনীল সাহানি। বয়স ২০। বাড়ি শিলিগুড়ি শহরের চানাপট্টি এলাকায়। বাবা মাচ্ছুবাবু আগে একটি সিনেমা হলে কাজ করতেন। হলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আপাতত তিনি বেকার। মা গৃহবধূ। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা। বাড়িতে আরও ভাইবোন রয়েছে। সকলের দু’মুঠো অন্নসংস্থানের জন্য পরিবারকে প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়। পড়াশোনা করা সেখানে যে শুধু কল্পনা নয়, বিলাসিতা, সেটাও ভালই জানেন সুনীল। তাই শিলিগুড়ি হিন্দি স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিকের পাঠ চুকিয়ে কম্পিউটারের দোকানে সামান্য মাইনের কাজ নিয়েছেন। সেখান থেকে যা আয় হয় তার কিছুটা সংসার খরচের জন্য তুলে দেন বাবার হাতে। বাকিটা খরচ করেন নিজের পড়ার পিছনে। একটি মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় অনার্স নিয়ে স্নাতকের পাঠ নিচ্ছেন। অনলাইনে রেফারেন্স বই আনিয়ে চলছে পড়াশোনা। বাড়িতে সাহায্য করলেও দোকানেই থাকেন রাতে। তাই সুযোগ না থাকায়, এখন পড়ার ভরসা মাঠই। সুনীল নিজে অবশ্য বিশাল কিছু করছেন বলে মনে করছেন না।
[কেজি প্রতি ভরতুকি, সার কিনতে গিয়ে প্রতারণার ফাঁদে কৃষকরা]
তিনি বলেন, “বাড়িতে অসুবিধা। তাই এখানেই পড়াশোনা করি। এখান থেকে কাজে যাই। লক্ষ্য, গবেষণা করব, বিজ্ঞানী হব।” রোজ সকাল ৬ টা নাগাদ তিনি বই খাতা নিয়ে চলে আসেন, আশ্রমপাড়ার রামকৃষ্ণ ময়দানে। সেখানে কখনও খোলা মাঠে, কখনও সামনের মন্দিরের বাঁধানো চাতালে বসে চলে তাঁর নিবিড় অনুশীলন। নজরে পড়ায় অনেকেই তাঁকে বিক্ষিপ্তভাবে সাহায্যও করেন। স্থানীয় এক গৃহশিক্ষক পল্টন পাত্র তাঁকে উৎসাহ দেন পড়া চালিয়ে যেতে। মাঝেমধ্যে এটা ওটা দিয়ে উৎসাহিত করেন। তাঁর দাবি, “এমন একাগ্রতা এখন আর শহরের ছেলেমেয়েদের মধ্যে দেখা যায় না। তাই আমরা চাই ছেলেটি নিজের লক্ষ্য অর্জন করুক। প্রয়োজনমতো যথাসম্ভব সাহায্য করব। ও আরও এগিয়ে যাক, আমরা সবসময় সেই কামনাই করি।”
[অর্থাভাবে বিয়ে বন্ধ, চার হাত এক হল বনদপ্তরের উদ্যোগে]
সর্বশেষ খবর
-
‘আমাকে ওরা মেরে ফেলবে’, প্রসবের আগে আশঙ্কা যুবতীর! সদ্যোজাত ও মায়ের মৃত্যুুতে প্রশ্ন
-
শ্রেয়সের জায়গায় তিলক! ওয়ানডে বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়ায় অনিশ্চিত জাদেজাও, কী যুক্তি গম্ভীরদের?
-
৭ সপ্তাহের গর্ভবতী ছিলেন চণ্ডীগড়ের ইনফ্লুয়েন্সর! নৃশংস হত্যার তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
-
বানচাল বাংলাদেশে পাচারের ছক! নদিয়ায় উদ্ধার প্রায় ২৫ কোটি টাকার সোনার বিস্কুট, ধৃত মহিলা
-
‘যাঁরা জিততে পারবে তাঁরাই টিকিট পাবেন’, পুরভোটের প্রার্থী নিয়ে ‘ছুঁতমার্গ’ নেই সুকান্তর!