আদিবাসীদের রেল ও সড়ক অবরোধ, সপ্তাহের প্রথম দিনে দুর্ভোগ

জমি অধিগ্রহণ বিল প্রত্যাহারের দাবিতে এই কর্মসূচি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৮, ২০১৮, ০৪:২৬

options
link
আদিবাসীদের রেল ও সড়ক অবরোধ, সপ্তাহের প্রথম দিনে দুর্ভোগ

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: জমি অধিগ্রহণ ও ধর্মান্তকরণ বিলের প্রতিবাদ। গোটা দেশে ১২ ঘণ্টার বনধ ঝাড়খণ্ড দিশম পার্টির। অবরোধের ধাক্কায় রাজ্যের নানা প্রান্তে আটকে গেল ট্রেন। থমকে গেল যান চলাচল। সপ্তাহের প্রথম দিনে রাস্তার বেরিয়ে চূড়ান্ত ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

Advertisement

34

Advertisement

[শীতের পৌষ মাস, ১০.৫ ডিগ্রিতে কলকাতায় আরও এক শীতলতম দিন]

Advertisement

সম্প্রতি ঝাড়খণ্ড সরকার জমি অধিগ্রহণ বিল ও ধর্মান্তকরণ বিল ২০১৭ আনে। যা প্রতিবাদে কয়েক দিন একাধিক সামাজিক সংগঠন রাস্তায় নেমেছিল। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে হয়েছিল রেল-সড়ক অবরোধ। বিপর্যস্ত হয়েছিল জনজীবন। সোমবার একইভাবে বনধের ডাক দেয় ঝাড়খণ্ড দিশম পার্টি। বনধ সফল করতে পথে নামে ওই দলের সহযোগী সংগঠন আদিবাসী সেঙ্গেল অভিযান। এই সংগঠনের ব্যানারে ১২ ঘণ্টার বনধ। এদের মূল দাবি ঝাড়খণ্ড জমি অধিগ্রহণ বিল ও ধর্মান্তকরণ বিল ২০১৭ বিল প্রত্যাহার করতে হবে। এই কর্মসূচির কমবেশি প্রভাব পড়ে রাজ্যের নানা প্রান্তে। সবথেকে বেশি প্রভাব পড়ে জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে। পুরুলিয়ায় দক্ষিণ পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনের মধুকুণ্ডায় সকাল ছটা থেকে অবরোধ শুরু হয়। ইন্দ্রবিল, কান্টাডি স্টেশনেও আটকে দেওয়া হয় ট্রেন। ঝাড়খণ্ড দিশম পার্টির কর্মী, সমর্থকরা ধামসা-মাদল, ব্যানার, পতাকা নিয়ে রেললাইনে বসে পড়েন। অবরোধের জেরে বাঁকুড়ার ঝাঁটিপাহাড়িতে ভুবনেশ্বরগামী নিউ দিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস আটকে পড়ে। বিষ্ণুপুর-আদ্রা মেমু প্যাসেঞ্জার দাঁড়িয়ে যায় বাঁকুড়ার ছাতনা স্টেশনে। আসানসোল-হলদিয়া এক্সপ্রেস আটকে পড়ে দামোদর স্টেশনে। পুরুলিয়া-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস আদ্রায় দাঁড়িয়ে পড়ে। হাওড়া-চক্রধরপুর পুরুলিয়া স্টেশনে আটকে যায়।

35

একইভাবে উত্তরবঙ্গেও পথে নামে এই সংগঠনের সদস্যরা। মালদহের আদিনা স্টেশনে অবরোধ হয়। যার জেরে বালুরঘাটগামী গৌড় এক্সপ্রেস আটকে পড়ে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে হাওড়া গামী শতাব্দী এক্সপ্রেসও দাঁড়িয়ে পড়ে। উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলায় হয় অবরোধ। এর ধাক্কায় আলুয়াবাড়ি রোড স্টেশনে একটি ডিএমইউ এবং একটি এক্সপ্রেস আটকে পড়ে। সরাইঘাট এক্সপ্রেসেরও একই অবস্থা হয়। হুগলির কামারকুণ্ডুতে চলে অবরোধ। পাশাপাশি বর্ধমান কর্ড শাখার ঝাঁপানডাঙায় রেল রোকোর জেরে আটকে একাধিক লোকাল ও দূরপাল্লার ট্রেন। রেলের পাশাপাশি মালদহের গাজোলে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে অবরোধ হয়।

[মধ্যরাতে বেঙ্গালুরুর রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত ৫]

ভারত বনধের প্রভাব পড়ে ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, আসাম, বিহার এবং ছত্তীসগড়ে। তবে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবলেও পিছু হটছেন না আন্দোলনকারীরা। তাদের কথায় স্পষ্ট তারা যে কোনও মূল্য কর্মসূচি সফল করতে চান। ঝাড়খণ্ড দিশম পার্টির রাজ্য সভানেত্রী পানমণি বেশরা জানান, তারা ১২ ঘণ্টা ধরে রেল অবরোধ চালিয়ে যাবেন। সপ্তাহের প্রথম দিন, তার উপর পর্যটনের মরশুম। বিপাকে পড়েছেন বহু যাত্রী। তবে আন্দোলনকারীদের যা হাবভাবে তাতে তাদের ভোগান্তি আরও দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা।

ছবি: সুনীতা সিং

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.