Howrah Zilla Parishad

তৃণমূলের হাতছাড়া হাওড়া জেলা পরিষদও! সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা ২৮ ‘বিদ্রোহী’র

অনাস্থার বিষয়ে হাওড়া জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘এ ধরনের কোনও চিঠি আমাদের কাছে আসেনি। আসলে এর উত্তর দেব।’’

Advertisement
অরিজিৎ গুপ্ত
অরিজিৎ গুপ্ত

শেষ আপডেট: জুন ১০, ২০২৬, ১৯:৪০

options
link
তৃণমূলের হাতছাড়া হাওড়া জেলা পরিষদও! সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা ২৮ ‘বিদ্রোহী’র
ফাইল ছবি।

রাজ্যে পালাবদলের পরই কলকাতা পুরসভা-সহ একাধিক পুরসভায় শুরু হয় ডামাডোল। তৃণমূলের হাতছাড়া হয় একের পর এক পুরসভা। এবার বোর্ড ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হল হাওড়া জেলা পরিষদে। হাওড়া জেলা পরিষদে (Howrah Zilla Parishad) ক্ষমতায় থাকা তৃণমূলের অধিকাংশ সদস্য বিদ্রোহী হয়ে বর্তমান সভাধিপতি ও সহ সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে এলেন। যার জেরেই এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জেলা পরিষদে তৃণমূলের ৪২ জন সদস্যের মধ্যে ২৮ জন সদস্যই অনাস্থা আনলেন। বুধবার জেলা পরিষদের সদস্য তুষার ঘোষের নেতৃত্বে ২৮ জনের স্বাক্ষর করা অনাস্থা প্রস্তাব রাজ্য সরকারের পঞ্চায়েত দপ্তরে প্রেসিডেন্সি বিভাগের হাওড়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিভিশনাল কমিশনারের হাতে জমা দিয়েছেন তৃণমূলের সদস্যরা। 

Advertisement

বোর্ড ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হল হাওড়া জেলা পরিষদে। হাওড়া জেলা পরিষদে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূলের অধিকাংশ সদস্য বিদ্রোহী হয়ে বর্তমান সভাধিপতি ও সহ সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে এলেন। যার জেরেই এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে তুষার ঘোষ বললেন, ‘‘দিনের পর দিন ধরে জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং সহ-সভাধিপতির অনৈতিক কাজের জন্য আমরা অনাস্থা প্রস্তাব এনেছি। আমরা মনে করি রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই নির্বাচিত বোর্ড থাকা উচিত নয়।’’ তুষার ঘোষের কথায়, তৃণমূলের এই জেলা পরিষদে উলুবেড়িয়ার এক নেতার অঙ্গুলিহেলনে কাজ হয়েছে। জেলা পরিষদের সদস্যরা উন্নয়নমূলক কাজের জন্য কোনও কথাই বলতে পারেননি। উল্টে উলুবেড়িয়ার ওই নেতা তথা বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর নির্দেশে জেলা পরিষদে নানারকম দুর্নীতি হয়েছে।

Advertisement

তুষার ঘোষ বললেন, ‘‘দিনের পর দিন ধরে জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং সহ-সভাধিপতির অনৈতিক কাজের জন্য আমরা অনাস্থা প্রস্তাব এনেছি। আমরা মনে করি রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই নির্বাচিত বোর্ড থাকা উচিত নয়।’’

তবে এবারই নতুন নয়, তৃণমূলের জমানায় বার বার এ নিয়ে সরব হয়েছেন জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্যরা। কিন্তু কোনও ফল হয়নি। এবার রাজ্যে পালাবদল হতেই জেলা পরিষদে অনাস্থা নিয়ে এলেন বর্তমান তৃণমূল বোর্ডের সদস্যরা। তবে আগামীদিনে কী হাওড়া জেলা পরিষদের বোর্ড ভেঙে যাবে? এই প্রশ্নের উত্তরে তুষার ঘোষ বলেন, ‘‘আমাদের ২৮ জন সদস্য আগামীদিনে ৩৭ জন হবে। ফলে বর্তমান সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতিদের আর জেলা পরিষদ চালানোর ক্ষমতা থাকবে না। ফলে তখন বর্তমান বোর্ড ভেঙে গিয়ে আমরা যাঁরা অনাস্থা নিয়ে এসেছি তাঁরাই বোর্ড চালাবো। আর এই বিষয়টি আমি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারিকে জানিয়েছি। উনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।’’

Advertisement

এদিকে অনাস্থার বিষয়ে হাওড়া জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘এ ধরনের কোনও চিঠি আমাদের কাছে আসেনি। আসলে এর উত্তর দেব।’’ অন্যদিকে নাম না করলেও জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্যদের তীর যে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্তমানে তৃণমূলের উলুবেড়িয়া দক্ষিণের বিধায়ক পুলক রায়ের দিকে ছিল তা স্পষ্ট হয়। এই ব্যাপারে পুলক রায় জানান, তিনি সবটা জেনে তার পর জানাবেন। অন্যদিকে বাঁকুড়া পুরসভার পুরপ্রধান অলকা সেন মজুমদারকে সরানোর দাবিতে জেলাশাসক অনীশ দাসগুপ্তের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূলের ১৬ জন কাউন্সিলর। ২৪ সদস্যের পুরবোর্ডে সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলরদের এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হলেও, অনাস্থা প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।

সূত্রের খবর, পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জেলাশাসকের কাছে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন ওই কাউন্সিলররা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ পুর আইন অনুযায়ী, পুরপ্রধানকে অপসারণ করতে হলে নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে লিখিত রিকুইজিশন জমা দিতে হয় পুরপ্রধানের কাছেই। এরপর বিশেষ সভা ডেকে অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা। সেই ভোটে প্রয়োজনীয় সমর্থন মিললেই কেবল পুরপ্রধানকে অপসারণ করা সম্ভব।
জেলা প্রশাসন সূত্রে দাবি, এখনও পর্যন্ত সেই আইনি প্রক্রিয়ার কোনও ধাপই সম্পন্ন হয়নি। পুরপ্রধানের কাছে অনাস্থা সংক্রান্ত রিকুইজিশন জমা পড়েনি, বিশেষ সভা ডাকার উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। ফলে জেলা শাসকের কাছে জমা দেওয়া আবেদন রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, সেটিকে আনুষ্ঠানিক অনাস্থা প্রস্তাব হিসেবে গণ্য করা যায় না বলেই প্রশাসনিক মহলের অভিমত।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.