ট্রেনের সামনে আটকে শিশু, খড়দহ থেকে রানাঘাট ছুটল লালগোলা প্যাসেঞ্জার

একই ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয় শিশুটির বাবারও।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ৩, ২০১৮, ২১:৪৪

options
link
ট্রেনের সামনে আটকে শিশু, খড়দহ থেকে রানাঘাট ছুটল লালগোলা প্যাসেঞ্জার

আকাশনীল ভট্টাচার্য,বারাকপুর: দ্রুত বেগে ছুটে চলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হল ছয় মাসের শিশু এবং তাঁর বাবার। সোমবার সকালে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে শিয়ালদহ মেইন শাখার খড়দহ স্টেশনের কাছে । মৃতদের নাম বিশ্বরূপ দে ( ৪১) এবং ধৃতিস্মিতা দে।স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, সোমবার সকালের দিকে নিজের ৬ মাসের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে লাইন পার হচ্ছিলেন বিশ্বরূপ। ঠিক সেসময় দ্রুতগতিতে আসা একটি লালগোলা প্যাসেঞ্জার ট্রেন তাঁকে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বিশ্বরূপের। সঙ্গের শিশুটিরও মৃত্যু হয়। শিশুটির মৃতদেহটি আটকে যায় ইঞ্জিনের নেট গার্ডে। সেই অবস্থাতেই ট্রেনটি পাড়ি দেয় খড়দহ থেকে রানাঘাট পর্যন্ত। অথচ, চালক ঘূণাক্ষরেও টের পাননি। এমনকী, মাঝে তিনটি স্টেশনে ট্রেন দাঁড়ালেও, কারও নজর পড়েনি শিশুটির দিকে।স্বাভাবিকভাবেই, ট্রেনের গার্ড এবং চালকের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

Advertisement

Biswarup Dey

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[বিয়েতে আপত্তি পরিবারের, ফেসবুক পোস্ট দিয়ে আত্মঘাতী যুগল]

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ৬ মাসের মেয়েকে কোলে নিয়ে ওই ব্যক্তি খড়দহ স্টেশনের ওপারে বোনের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। খড়দহ স্টেশনের কাছে যখন তিনি যখন লাইন পার হচ্ছিলেন, তখনই তিন নম্বর লাইনে দ্রুত বেগে ছুটে আসা লালগোলাগামী প্যাসেঞ্জার ট্রেন ওদের ধাক্কা মারে। ট্রেনের ধাক্কায় ওই ব্যক্তির শরীর একেবারে দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে । এমনকী মৃত ব্যক্তিকে চেনাও যাচ্ছিল না। এদিকে বাচ্চাটি ট্রেনের ইঞ্জিনের নেট গার্ডে আটকে যায়। সেই অবস্থাতেই ট্রেনটি চলে যায় রানাঘাট পর্যন্ত। বাচ্চাটি যে ইঞ্জিনের সামনের নেট গার্ডে আটকে ছিল, তা চালকের নজরেই আসেনি। রানাঘাট জি আর পি ওই মৃত বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে বারাকপুর জি আর পি থানাকে জানায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ খড়দহ থানার রহড়ার মন্দিরপাড়া এলাকা।

Advertisement

[কনস্টেবল খুনে যাবজ্জীবন কর্ণের, ১০ বছরের কারাদণ্ড সঙ্গীর]

এদিকে, এই ঘটনা নেহাতই দুর্ঘটনা নাকি বিশ্বরূপবাবু আত্মহত্যার চেষ্টা করছিলেন তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বিশ্বরূপবাবু কলকাতার একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী ছিলেন। জানা গিয়েছে,বিশ্বরূপবাবুর স্ত্রী চন্দনা দে রায় খড়দহের পাতুলিয়ার একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা। আশ্চর্যজনকভাবে এহেন ঘটনার পর মুখে কুলুপ এঁটেছেন স্ত্রী-সহ মৃত বিশ্বরূপবাবুর পরিবার। এই ঘটনা সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছুই জানাতে চাইছেন না তাঁরা । ফলে, পরিবারিক অশান্তির জেরে খুদে মেয়েকে নিয়ে ওই ব্যক্তি ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিতে পারেন, এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না স্থানীয়রা।

[খবরের জের, অজয় নদের চরে গজিয়ে ওঠা চোলাই ঠেক ভাঙল পুলিশ]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.