মাকে দাহ করে মাধ্যমিকে ছাত্র, তবু মিলল না বাড়তি সময়

অমানবিক।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৭, ২০১৯, ১৯:৫২

options
link
মাকে দাহ করে মাধ্যমিকে ছাত্র, তবু মিলল না বাড়তি সময়

সন্দীপ মজুমদার, উলুবেড়িয়া: মায়ের মৃতদেহ দাহ করার জন্য পরীক্ষা হলে পৌঁছতে বিলম্ব হওয়ায় পরীক্ষায় বসতে বিস্তর কাঠখড় পোড়াতে হল এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে। পাহাড় প্রমাণ নিয়মকানুন অতিক্রম করেও পরীক্ষার জন্য মাত্র এক ঘন্টার বেশি সময় পেল না সদ্য মাতৃহারা পড়ুয়া। পরীক্ষার্থীর স্কুল থেকে অনুরোধ করা সত্ত্বেও তার জন্য অতিরিক্ত সময়ও বরাদ্দ না করার অভিযোগ উঠল।

Advertisement

[বারুইপুরে এনজিও-র ছায়ায় বাড়ছে রোহিঙ্গাদের আনাগোনা, নজর রাখছে প্রশাসন]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ডোমজুড়ের ঝাঁপড়দহ ডিউক ইনস্টিটিউশনের ছাত্র অভয় শাহ ডোমজুড়েই মামার বাড়িতে থাকে। কিছুদিন আগেই পিতৃবিয়োগ হয়। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর মা অঞ্জু শাহ দুরারোগ্য ব্যাধিতে মারা যান। শুক্রবার সকালে মামাদের সঙ্গে মায়ের মৃতদেহ নিয়ে শ্মশানে যায় অভয়। সেখানে মা-কে দাহ করতে অনেকটা সময় লাগে। শেষ পর্যন্ত মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করে দুপুর একটা নাগাদ অভয় নিজের স্কুলে পৌঁছয়। সেখানে গিয়ে সে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা অর্পিতা গুহকে সব জানায়। এই ঘটনার কথা শোনা মাত্রই অর্পিতাদেবী ডোমজুড় সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অমরেশ মজুমদারের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করেন।

Advertisement

অর্পিতাদেবীর অভিযোগ, অমরেশবাবু প্রথমে ওই পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসতে দিতে অস্বীকার করেন। পরে তিনি ফোন করে অর্পিতাদেবীকে তিনটি লিখিত আবেদন করতে বলেন। অর্পিতাদেবী অমরেশবাবুর কাছে অনুরোধ করেন যে তিনি আবেদনপত্র দিচ্ছেন ততক্ষণে ওই পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হোক। তাতেও নাকি কর্ণপাত করেননি অমরেশবাবু। তিনি আগে আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে বলেন। তবেই পরীক্ষায় বসার ছাড়পত্র মিলবে বলে জানান। এরপর অর্পিতাদেবী অভয়ের পরীক্ষাকেন্দ্র রাজাপুর দক্ষিণদাঁড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে ভেনু সুপারভাইজার প্রভাসকুমার মণ্ডলের কাছে অনুরোধ করেন যাতে চিঠি লিখতে গিয়ে ছাত্রটির পরীক্ষার সময় না অতিবাহিত হয়, তাই আগে তাঁকে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হোক। প্রভাসবাবুও বিষয়টি অমরেশবাবুকে বলতে বলেন। অর্পিতাদেবী পুনরায় অমরেশবাবুর কাছে ছাত্রটিকে আগে পরীক্ষায় বসানোর ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করে ফোন করেন। তখনও অমরেশবাবু আগে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার কথা বলেন বলে অভিযোগ।

[লক্ষ্য মাধ্যমিক পাশ, তাই চালকের আসনে বসেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থী]

অর্পিতাদেবীর অভিযোগ, চিঠি করতে গিয়ে অহেতুক অনেকটা সময় পার হয়ে যায়। যখন ছাত্রটিকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয় ততক্ষণে পরীক্ষার দু’ঘন্টা পার হয়ে গিয়েছে। দুপুর দুটোর পর ছাত্রটি ইতিহাস পরীক্ষায় বসতে পারে। তাঁকে কোনওরকম অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “অভয় স্কুলের মেধাবী ছাত্র। একটা সদ্য মাতৃহীন কিশোরের জন্য কি এতটুকুও সহানুভূতি দেখানো যেত না।” বিষয়টি তিনি মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে লিখিতভাবে জানাবেন বলে জানান। অমরেশবাবু অবশ্য সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “পরীক্ষার্থীর স্কুল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য ছাত্রটির পরীক্ষায় বসতে বিলম্ব হয়েছে। স্কুলের উচিত ছিল আরও আগে ছাত্রটিকে পরীক্ষাকেন্দ্রে আনা। তাছাড়াও পরীক্ষায় বসার আবেদন জানাতেও অনেক বিলম্ব করেছে তার স্কুল।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.