Vande Mataram

১৫০ বছরে শ্রদ্ধা নয়, রাজনীতিই উদ্দেশ্য! ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে গর্জে উঠলেন বঙ্কিম গবেষকরা

শনিবার নৈহাটির বঙ্কিম ভবনে গণ কনভেনশনে এনিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫, ২০:২২

options
link
১৫০ বছরে শ্রদ্ধা নয়, রাজনীতিই উদ্দেশ্য! ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে গর্জে উঠলেন বঙ্কিম গবেষকরা

অর্ণব দাস, বারাকপুর: ১৫০ বছরে ‘বন্দে মাতরম’। সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টিকে শ্রদ্ধা জানাতে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে এনিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ সম্বোধন করে তিনি সমালোচিত। এবার ইস্যু নিয়ে সরব হলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মস্থান নৈহাটির বাসিন্দারা। শনিবার নৈহাটি বঙ্কিম ভবন গবেষণা কেন্দ্রের ডাকে হয়ে গেল গণ কনভেনশন। সেখানে লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীর ‘বঙ্কিমদা’ নিয়ে সোচ্চার হলেন সকলে। গবেষকদের অভিযোগ, ১৫১ তম বছরকে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশেই ‘বন্দে মাতরমের দেড়শো বছর’ উদযাপন করা হচ্ছে।

Advertisement

১৮৩৮ সালের ২৬ জুন নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্ম বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের। সেখানে বসেই তিনি কালজয়ী ‘বন্দে মাতরম’ রচনা করেন। কাঁঠালপাড়ার সেই বাড়িটিই এখন বঙ্কিম-স্মৃতি বিজড়িত ‘বঙ্কিম ভবন’। সেখানেই রয়েছে ‘বঙ্কিম সংগ্রহশালা’। সংসদে তাঁর সৃষ্ট জাতীয় গান নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাহিত্যসম্রাটকে ‘বঙ্কিমদা’ বলা নিয়ে বিতর্কের আবহে শনিবার বঙ্কিম ভবনে গণ কনভেনশনে সোচ্চার হন সকলে। এই গবেষণা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ রতন কুমার নন্দীর কথায়, ”১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ‘বন্দে মাতরম’ লেখা হয়েছে – এর সূত্র আমরা গবেষণার কোথাও পাইনি। কোনও সঠিক তথ্যও নেই। আমাদের গবেষণায় উঠে এসেছে ১৮৭৪ সালের অক্টোবর মাসের শেষের দিকে এই গান লেখা হয়েছিল। তাই প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা কীভাবে ওই দিনটিকে নির্ধারিত করলেন, আমরা জানতে চাই।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
নৈহাটির বঙ্কিম ভবনে গণ কনভেনশন। নিজস্ব ছবি।

নিচুতলার প্রস্তুতি ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি অসৎ উদ্দেশ্যে দেড়শো বছর উদযাপন করছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর আরও বক্তব্য, ”বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বঙ্কিমদা বলাটা অপমান। সাংসদ সৌগত রায় এই ভুল ধরিয়ে দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী যেভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন সেটা আরও আপত্তিকর। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের বীজমন্ত্র বন্দে মাতরমের স্রষ্টাকে প্রধানমন্ত্রী জানবেন না, সঠিক তথ্য পরিবেশন করবেন না, এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

Advertisement

এদিনের গণ কনভেনশনে উপস্থিত হয়ে বারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিকও এনিয়ে সুর চড়ান। পার্থ বলেন, “সবথেকে দুঃখের কথা দেশের প্রধানমন্ত্রী জানেনই না, গত বছর বন্দে মাতরমের দেড়শো বছর হয়ে গিয়েছে। এটা ১৫১তম বছর। শুধুমাত্র বাংলায় নির্বাচন বলে এবছর দেড়শো বছর উদযাপন করছেন। প্রধানমন্ত্রীকে শুধু বলব, শিক্ষিত মানুষের থেকে পরামর্শ নিন।” কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর সংসদে এ নিয়ে আলোচনার সময় মুখ ফসকে ‘বন্দে মাতরম’কে ‘বন্দে ভারত’ বলেছিলেন। তা নিয়ে সমালোচনার সুরে পার্থ ভৌমিক বলেন, “বাংলা সম্পর্কে যাদের কোনও ধারণা নেই, বাংলার মনীষীদের সম্মান করার ন্যূনতম মানসিকতা যাদের নেই, তারাই নির্বাচনে বাংলার মনীষীদের ব্যবহার করতে চাইছে। এর জবাব বাংলার মানুষ দেবে।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.