Visva Bharati University

জাতীয় পরিবেশ আদালতের ভর্ৎসনা, মোদির সফরের আগে নড়েচড়ে বসল বিশ্বভারতী

কী পদক্ষেপ করল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ?

Advertisement
দেব গোস্বামী
দেব গোস্বামী

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ১৯:৫৮

options
link
জাতীয় পরিবেশ আদালতের ভর্ৎসনা, মোদির সফরের আগে নড়েচড়ে বসল বিশ্বভারতী
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

জাতীয় পরিবেশ আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার পরই নড়েচড়ে বসে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। আগামী ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ শান্তিনিকেতনে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আসতে পারেন আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর উপস্থিতির সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই পরিবেশ আদালতের ভর্ৎসনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসের অভ্যন্তর ও সংলগ্ন এলাকায় উৎপন্ন কঠিন ও তরল বর্জ্য যথাযথভাবে সংগ্রহ করে অন্যত্র প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। তার জন্য একটি পরিকল্পিত নকশা তৈরি করে কেন্দ্রীয় মঞ্জুরি কমিশনে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Advertisement

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই রাজ্য নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দপ্তরে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনও কার্যকর কঠিন ও তরল বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলেও, জেলা প্রশাসন প্রয়োজনে নিজেদের মত করেই বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন করবে। শুক্রবার বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ পরিবেশ বিধি মেনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কীভাবে বাস্তবায়িত করা যায়, তা নিয়ে একটি জরুরি অভ্যন্তরীণ বৈঠক করে। পাশাপাশি বোলপুর পুরসভার সঙ্গেও পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বোলপুর পুরসভা, বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দপ্তর যৌথভাবে জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মান্যতা দেবে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই রাজ্যদপ্তর একটি ডিটেল্ড প্রজেক্ট রিপোর্ট প্রস্তুত করেছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই মানচিত্র ধরে ধরে কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশনের রূপরেখা তৈরি করা হবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

জানা গেছে, বিশ্বভারতীর নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকাঠামো না থাকায় বোলপুর পুরসভার অত্যাধুনিক যন্ত্রাংশ ব্যবহার করেই এই কাজ করা হবে। সেক্ষেত্রে ন্যূনতম খরচ বহন করবে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। বোলপুর পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার বাপি বীরবংশী জানান, “বৈঠকে ঠিক হয়েছে, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তর ও বাইরে থাকা ভবন, হস্টেল ও দপ্তরগুলিতে প্রয়োজন অনুযায়ী ডাস্টবিন বসানো হবে। সেখান থেকে নিয়মিত পুরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের গাড়ি বর্জ্য সংগ্রহ করবে। নির্মল সাথী ও নির্মল বন্ধু প্রকল্পের আওতায় পুরসভার দুটি ডাম্পিং গ্রাউন্ডে বর্জ্যের প্রক্রিয়াকরণ করা হবে।” পুরপ্রধান পর্ণা ঘোষ বলেন, “বিশ্বভারতী ও বোলপুর পুরসভা সীমানাগতভাবে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তাই ন্যূনতম খরচে বর্জ্য সংগ্রহ, নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশনের পাশাপাশি প্লাস্টিক, পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য পৃথকীকরণ করা হবে।”

Advertisement

অন্যদিকে, পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত জানান, “পরিবেশের কথা ভেবে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বিশ্বভারতী কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনও স্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলেনি।কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটি চরম প্রশাসনিক গাফিলতি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশই দিয়েছে পরিবেশ আদালত।” জেলাশাসক ধবল জৈন জানান, “আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আলোচনা করেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।” তবে প্রশ্ন উঠেছে, বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাস এবং তার বাইরে কেন পর্যাপ্ত নিকাশি ব্যবস্থা নেই, কেন নেই বর্জ্য পৃথকীকরণ ও নিয়ন্ত্রণের স্থায়ী পরিকাঠামো। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ঘাটতি নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন