গৌতম ব্রহ্ম: চিকিৎসক-সংকট মেটাতে এবার প্রতি মাসে ‘জেনারেল ডিউটি মেডিক্যাল অফিসার’ বা জিডিএমও’ নিয়োগ করবে রাজ্য। ইচ্ছুক প্রার্থীদের মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ সার্ভিস’-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন আবেদন করতে হবে। বছরভর চলবে ইন্টারভিউ ও নিয়োগ প্রক্রিয়া। এমনটাই জানালেন রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা. অজয় চক্রবর্তী।
আগে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) মারফত দু’ বছর-তিন বছর অন্তর ডাক্তার নিয়োগ হত। অনেক সময় লাগত। এই দীর্ঘসূত্রিতা কাটাতে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দে্যাপাধ্যায় ‘হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড’ গঠন করেছেন। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে যাবতীয় নিয়োগের দায়িত্ব এখন এই বোর্ডের। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতি আনতে এই বোর্ডই প্রতি মাসে ডাক্তার নিয়োগ করবে। এমনটাই জানালেন অজয়বাবু। তিনি বলেন, “পরের সপ্তাহে প্রায় ৪০০ ‘জেনারেল ডিউটি মেডিক্যাল অফিসার’ বা জিডিএমও’ নিয়োগ করছি। হাজার দু’য়েক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের জন্যও বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। এই মাসের মধ্যেই তাঁদের ইন্টারভিউ হয়ে যাবে। আগস্টের শেষে তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে। তবে এবারও হয়তো সব শূন্যস্থান পূরণ হবে না। তাই প্রত্যেক মাসেই ‘জিডিএমও’ ডাক্তার নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
[তৃণমূলের আগুনে জল ঢেলে দেবে বিজেপি, পালটা তোপ দাগলেন দিলীপ]
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর, মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ৯০০ ডাক্তারের ঘাটতি রয়েছে। বাকি সরকারি হাসপাতালে আড়াই হাজার শূন্যপদ রয়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি পূরণ হয়েছে মাত্র ৬০০ পদ। বাকি ১৯০০ পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। অথচ, হাসপাতালগুলিতে শয্যাসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২৮ হাজার। আকাল রয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরও। সম্প্রতি হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড বিজ্ঞাপনও দিয়েছে। মোট ১৪৩৭ টি শূন্যপদের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জেনারেল মেডিসিন ১৬৮, জেনারেল সার্জারি ১৬৮, গাইনি ১৩১, অ্যানেস্থেশিয়া ২৩১, অপথালমোলজি ৯৫, ডার্মাটোলজি ৭, প্যাথলজি ৫৩, বায়োকেমিস্ট্রি ৬৬, মাইক্রোবায়োলজি ৫, পেডিয়াট্রিক সার্জারি ১৫৮, অর্থোপেডিক সার্জারি ১০৫, অঙ্কোলজি ১০, রেডিওডায়গনসিসে ১০৩, সাইকিয়াট্রি ৩ এবং মেডিকোলিগাল ৩২।
রাজ্যের এই উদ্যোগের সাফল্য নিয়ে সন্দিহান একাধিক চিকিৎসক সংগঠন। তাদের প্রশ্ন, কতজন ডাক্তার রাজ্যের ডাকে সাড়া দেবেন? ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম’-এর সাধারণ সম্পাদক ডা. কৌশিক চাকি জানিয়েছেন, রাজ্য এর আগে বহুবার ডাক্তার নিয়োগের চেষ্টা করেছে। সমস্যা অন্যত্র। এখন স্বাস্থ্য দপ্তর চালাচ্ছেন ‘বুরোক্র্যাটরা’। তাঁরা ডাক্তারদের সমস্যা বুঝতে পারছেন না। একটা অমানবিক ‘ডিউটি আওয়ার’ তৈরি করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নেই। সার্ভিস ডাক্তারদের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট করার সুবিধা সঙ্কুচিত হচ্ছে। ‘ইনসেনটিভ’ কমে গিয়েছে বলেই কেউ সরকারি চাকরিতে আসতে চাইছেন না। কৌশিকবাবু জানালেন, কিছুদিন আগেও সরকার ডাক্তার নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিল। কিন্তু দশ ভাগের এক ভাগ শূন্যপদও পূরণ হয়নি। কৌশিকবাবুর টিপ্পনি, মাসে কেন, প্রতি সপ্তাহে বিজ্ঞাপন দিলেও রাজ্যের পক্ষে ডাক্তার পাওয়া মুশকিল। একই বক্তব্য ‘সার্ভিস ডক্টরস ফোরাম’-এর সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাসের। তাঁর মত, “রোগ নির্ণয় না করে ওষুধ দিলে কোনও লাভ হবে না।”
[বাংলাদেশ সীমান্তে গরু পাচারে বাধা, বিএসএফ জওয়ানকে কোপাল দুষ্কৃতীরা]
সর্বশেষ খবর
-
দুর্গন্ধে টেকা দায়! বাড়ির জানলায় উঁকি দিতেই হাড়হিম দৃশ্য গয়েশপুরে
-
কমিশনের লোভে সাইবার অপরাধীদের অ্যাকাউন্ট ভাড়া! তিনদিনে গ্রেপ্তার ৪০
-
দু’বছরের মধ্যেই! অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর নিয়ে বিরাট ঘোষণা শাহর
-
অধীরের ডাকে ছেড়েছিলেন চাকরি! সেই কাফির হাতেই মুর্শিদাবাদের দায়িত্ব কংগ্রেসের
-
‘বাঙালিকে যদি নিজের শিক্ষা রুচি খুইয়ে…’, সৌরভের সঞ্চালনাকে কটাক্ষ রূপালির