সন্দীপ মজুমদার, উলুবেড়িয়া: সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালে প্রকাশিত বাউলের লেখা গান এবার নির্বাচনী প্রচার হিসাবে উঠে এল তৃণমূল কংগ্রেসের দেওয়াল লিখনে। “রবীন্দ্রনাথ নেতাজি বিবেকানন্দর ভূমে, সবাই হাতে হাত মিলিয়ে মাতি এই শান্তির নির্বাচনে।” বাউল শিল্পী সুবীর সিনহার লেখা ও সুরারোপিত এই গান গেয়ে গ্রামে গ্রামে শান্তির পরিবেশ অটুট রাখতে চাইছেন সুবীরবাবু ও তাঁর স্ত্রী নবনীতা সিনহা। ভোটের সময় গ্রামের মানুষদের কাছে তাঁদের এই বার্তা গত ৮ এপ্রিল সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল-এ সচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। তার পরেই বাগনানের খালোড় এলাকার বিভিন্ন দেওয়ালে তৃণমূলের প্রার্থী পরিচিতির সঙ্গে ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে সুবীর বাউলের লেখা এই গানের কলি।
তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী সমীর সামন্ত, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রার্থী তন্ময় মল্লিক ও জেলা পরিষদ আসনের প্রার্থী সরিফা খাতুনের দেওয়াল লিখনের সঙ্গে এই গানের কলি ব্যবহারের কথা স্বীকার করে সমীরবাবু বলেন, সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালে প্রকাশিত খবর থেকেই তাঁরা সুবীরবাবু ও তাঁর স্ত্রী নবনীতাদেবীর এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত হন। তাঁরাও আসন্ন নির্বাচনকে হিংসা মুক্ত রাখতে চান। তাই তাঁরা তাঁদের প্রচারে সুবীর সিনহার লেখা এই গানটির কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, গানটি এখন খুবই প্রাসঙ্গিক তাই তিনি মনে করেন অন্যান্য জায়গাতেও এই গান ব্যবহার করে মানুষকে রবীন্দ্রনাথ-বিবেকানন্দ-নেতাজি-নজরুলের বাংলার পবিত্রতার কথা স্মরণ করানো যেতে পারে। তাঁর রচিত গান তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করা হয়েছে শুনে স্বাভাবিকভাবেই আপ্লুত সুবীর সিনহা। তিনি বলেন, হিংসা হানাহানি রুখতে রাজনৈতিক দলগুলি যদি তাঁদের ডাকেন তাহলে তাঁরা অবশ্যই সেই আহ্বানে সাড়া দেবেন।
[শান্তিপূর্ণ হোক পঞ্চায়েত ভোট, দামোদরের তীরে গানে গানে প্রচার বাউল পরিবারের]

“এসো আমরা শপথ করি গো, হিংসা নয় আর কোনওখানে। সবাই হাতে হাত মিলিয়ে মাতি এই শান্তির নির্বাচনে।” গত ৮ এপ্রিল দামোদরের তীরে এভাবেই শান্তির বাণী প্রচার করছিলেন বাউল শিল্পী ও তাঁর পরিবার। তাঁদের চারপাশে তখন অনেকগুলি উৎসুক মুখের ভিড়। সকলের অনুরোধে একতারা বাজিয়ে একের পর এক গান গেয়ে চলেছেন মহিলা বাউল শিল্পী নবনীতা সিনহা। সঙ্গে দোতারা বাজিয়ে তাঁকে সঙ্গত করছেন তাঁর স্বামী সুবীর সিনহা। শুধু তাই নয়, তাঁদের দুই সন্তান দশ বছরের দেবাদৃত ও আট বছরের দেবান্বিৎ ডুগি ও খঞ্জনি বাজিয়ে তাদের মা-বাবার সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে। সুবীরবাবুর অসাধারণ কথা ও সুরে এবং নবনীতাদেবীর সুরেলা কণ্ঠের জাদুতে গানগুলি গ্রামের মানুষদের কাছে ভীষণ ভাবে সমাদৃত হয়েছে। প্রতিটি গানের শেষে হাততালি ও প্রশংসাসূচক অব্যয় ভেসে আসছিল গ্রামবাসীদের কাছ থেকে। বাগনান থানার বাগুর গ্রামের বাসিন্দা সুবীরবাবু পেশায় একজন শিক্ষক। এছাড়াও তিনি তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের নথিভুক্ত বাউল শিল্পী হিসাবে পরিচিত। তিনি জানান, পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু কিছু জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত হিংসার খবর আসছে। তাই তিনি গ্রামের মানুষের কাছে বার্তা দিতে চান যে ভোট আসবে ভোট যাবে কিন্তু সেই ভোটকে কেন্দ্র করে কোনওভাবেই বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, নেতাজির পুণ্যভূমিকে রক্তাক্ত হতে দেওয়া যাবে না।
সর্বশেষ খবর
-
বাধা দিয়েছিল তৃণমূল! সেই বাগেশ্বর বাবাকে ব্রিগেডে ধর্মসভা করার আহ্বান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
-
ধ্বংসস্তূপ থেকেই জীবনের পথে নেপাল! উদ্ধার আরও ৩ ভারতীয়, সুখবর জানাল বিদেশমন্ত্রক
-
সরকারি আবাসনে দ্বিতীয় ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন আবাসিকরাও, নিয়ম শিথিল করল শুভেন্দু সরকার
-
জন্মাষ্টমীতে ফিনফিনে শাড়িতে শরীর দেখিয়ে নাচ! ‘রাধা হওয়ার শখ’, ট্রোলড সঞ্চালিকা অনসূয়া
-
জমি দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয়ের বিরুদ্ধে ১৫ পাতার চার্জশিট সিআইডির, অভিযুক্ত আর কারা?