মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে সাঁওতালি ভাষায় গান লিখেই ভোটের আসর মাতাচ্ছেন লোকশিল্পী

গানে গানে কী বলছেন শিল্পী?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২২, ২০১৮, ০১:০১

options
link
মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে সাঁওতালি ভাষায় গান লিখেই ভোটের আসর মাতাচ্ছেন লোকশিল্পী

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: “চেতান রেমা দিদি মেনায়/ আবসানাম থারে থার/ জম ঞুঃ দিদি এম রৗস্কারে বন তাহেনা/ জয় জিৎকার দেবন মেনা/ দিদি ঞু তুমতে।”- সাঁওতালি ভাষায় লেখা গানটির  বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘আমাদের উপরে আছেন দিদি। আমরা সবাই তাঁর চারদিকে। খাবার থেকে শিক্ষা-স্বাস্থ্য সবই দিচ্ছেন দিদি। তাই দিদির নামে জয়ধ্বনি কর।’

Advertisement

[  সবার আগে মানবধর্ম, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে হাত ধরাধরি করে রক্তদান তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থীর ]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে গান লিখে ভোটের ময়দান মাত করছেন আদিবাসী লোকশিল্পী সন্তোষ সোরেন। জঙ্গলমহল পুরুলিয়ার বান্দোয়ান ব্লকের সুপুডি অঞ্চলের বড়ডি গ্রামের বাসিন্দা এই লোকশিল্পী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন নিয়ে নিজের লেখা গান কিঁদরির সুরে গেয়ে চলেছেন আদিবাসী মহল্লায়। পাহাড় থেকে জঙ্গলে। টিলা থেকে বনে-বাদাড়ে। সকাল হলেই হাতে কিঁদরি নিয়ে বনমহলের গাঁয়ে-গাঁয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। তাঁর গানের সুর ধাক্কা লাগছে জঙ্গলঘেরা বান্দোয়ানের জনপদে। তাই কিঁদরির মিষ্টি সুরেলায় তৃণমূলের ভোট বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে আদিবাসীদের ঘরে-ঘরে। যেমন ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, খাদ্যসাথী, সমব্যথী, সবুজসাথী পৌঁছে যায় এই জঙ্গলমহলের মহল্লায়। পৌঁছে যায় লোকপ্রসার প্রকল্পের ভাতা। হাতে হাতে চলে আসে ধামসা-মাদল। তাই সন্তোষ গাইছেন, “তুমদৗঃ টামাক রেগেড়া সানাম/ হুতি চাবা লেন/ দিদি খাতির তুমদা টামাক/ আরু রুয়ৗড়েন”। অর্থাৎ মাদল-ধামসা-রেগেড়া খেয়ে ফেলেছিল কাঠপোকায়। দিদির জন্য আবার সব ফিরে এল।

Advertisement

 আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রায় ১৯ শতাংশ আসনে কোনও স্তরের ভোট নেই ]

 ন্তোষের গানে একেবারে বাস্তব ছবি ফুটে ওঠায় তাঁর গানের সুরে আওড়াচ্ছেন জঙ্গলমহলের সাধারণ মানুষও। তাই পুরুলিয়া জেলা পরিষদের বান্দোয়ান ব্লকের পাঁচ নম্বর আসনের তৃণমূল প্রার্থী তথা বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীবলোচন সরেনের স্ত্রী প্রতিমা সরেনও সন্তোষকে তাঁর ভোট প্রচারের সঙ্গী করেছেন। কর্মী বৈঠক, মিছিল, বাড়ি-বাড়ি প্রচার শেষে গান হাতে কিঁদরি নিয়ে গান ধরছেন সন্তোষ। “গুহুট গুবাং এনেজ সেরেঞ/একালবাংবন মালটা/ ঘাস বাহা রেগে ভোট দঃ/ দেবেন এমা”। এই গানের বাংলা হল খুব ভাবগম্ভীর ভাবে ঐক্যবদ্ধের সঙ্গে আমরা নাচ-গান করব। ঘাস ফুলেই আমরা ভোট দেব। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নকে সঙ্গী করে যেভাবে সন্তোষ জঙ্গলমহলের আদিবাসী মহল্লায় শাসকদলের ভোট প্রচারে ঝড় তুলেছেন তাতে একেবারে কুপোকাত বিরোধীরা। তাই তৃণমূলের জেলা পরিষদের প্রার্থী প্রতিমা সোরেন বলেন, “লোকশিল্পী তাঁর গানেই সব কথা বলে দিচ্ছেন। ফলে আমাকে আর নতুন করে কিছু বলতে হচ্ছে না। গানের সঙ্গে বাস্তবের উন্নয়ন যেন একেবারে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে।” আসলে পুরুলিয়ার লোকগানের সুরে রয়েছে মাটির গন্ধ। জীবনের সঙ্গে মিশে থাকা হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা। তাই সেই গান সন্তোষের সুরে শাসকদলের ভোট প্রচারে ঝড় তুলেছে। কিন্তু এভাবে সামান্য চাষাবাদ ও কাঠের কাজ করা সন্তোষ ‘দিদি’কে নিয়ে গান বাঁধলেন কেন? তাঁর জবাব, “মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই এই জঙ্গলমহল বদলে গিয়েছে। তার নানা প্রকল্পে পাহাড়-টিলায়, বনে-বাদাড়ে এখন খুশির রং। সেই আনন্দেই গান বেঁধেছি।”

[  ভোলবদল, দল ছেড়ে তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামলেন তিন বিজেপি প্রার্থী ]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.